১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে সাগর দেখাতে নিয়ে গিয়ে ৭ বছরের শিশুকে হত্যা, খালুর মৃত্যুদণ্ড

২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একটি খাল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 07:58 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

এক দশক আগে চট্টগ্রামে সাত বছরের এক শিশুকে হত্যার মামলায় তার খালুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিশাদুজ্জামান এ আদেশ দেন।

দণ্ডিত ৪৪ বছর বয়সি মো. আল আমিনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলির কারপাশা গ্রামে। চট্টগ্রামের হালিশহরের এ ব্লক বাসট্যান্ড এলাকার আজিজ মিয়ার কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতের অতিরিক্ত পিপি এইচ এস আবুল হাসান বলেন, আল আমিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

“সেইসঙ্গে লাশ গুমের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।”

রায় ঘোষণার সময় মো. আল আমিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর হালিশহর থানার পূর্ব সুন্দরীপাড়ার সাত বছরের শিশু মাহফুজ খুন হয়। তার বাবা মাহবুব পেশায় রাজমিস্ত্রি, মা সীমা আক্তার পোশাক কর্মী।

আসামি রিকশাচালক আল আমিন সীমা আক্তারের ছোট বোনের স্বামী।

মামলার নথিতে বলা হয়, আল আমিন মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর করতেন। এ নিয়ে সালিশ করায় মাহবুব ও সীমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন আল আমিন। এছাড়া মাহবুব তার কাছ থেকে ধার নেওয়া সাড়ে ৩ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন আগে আল আমিনের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছিল।

২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে মাহবুব ও সীমা কাজে যান। ছেলে মাহফুজ তখন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়তে যায়। কিন্তু সেদিন বিকালেও মাহফুজ ঘরে না ফেরায় পরিবার ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করেন। পরে লোকজন গিয়ে আল আমিনকে তার হালিশহর এ ব্লক বাস স্ট্যান্ড এলাকার বাসায় পান। তাকে মাহফুজের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। তখন পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

এরপর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, মাদ্রাসা থেকে সাগর দেখাতে নেওয়ার কথা বলে মাহফুজকে নিজের রিকশায় চড়িয়ে নেন আল আমিন। পরে গলাচিপা পাড়ার টোল রোডের পাশে সাগর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মাহফুজকে হত্যার পর তার লাশ পার্শ্ববর্তী খালে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ সেই খাল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় মাহবুব হালিশহর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল আল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য শেষে মঙ্গলবার এই রায় এল।