Published : 01 Aug 2026, 09:45 PM
গ্রাহক পর্যায়ে পানির দাম বাড়াতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা।
শনিবার চট্টগ্রাম নগরীতে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সভায় সংস্থার বাণিজ্যিক বিভাগ একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে।
সভায় গ্রাহক পর্যায়ে (বাণিজ্যিক ও আবাসিক) পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
তবে ওয়াসার নবনিযুক্ত ব্যবস্থা পরিচালক (এমডি) সেলিম মো. জানে আলম বলছেন, ওয়াসার বিধি মোতাবেক এই প্রস্তাব করা হলেও তিনি সভায় এ বিষয়ে সম্মতি দেননি। প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।
ওই কমিটি ওয়াসার সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে তাদের সুপারিশ জানাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াসার এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চার বছর পানির দাম বাড়ানো হয়নি এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ায় এই খাতে মাসিক ব্যয় দুই কোটি টাকা বেড়েছে। এ দুটো বিষয় উল্লেখ করে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় সভায়।”
সবশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পানির দাম বাড়িয়েছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা।
বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকরা প্রতি এক হাজার লিটার ১৮ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকরা ৩৭ টাকা হারে দাম পরিশোধ করেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওয়াসার বিধি অনুসারে বছরে ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়ানো যায়। ২০২২ সালের পর আর পানির দাম বাড়ানো হয়নি।
“ফাইন্যান্স বিভাগ বিষয়টি উল্লেখ করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। কিন্তু আমি তাতে সম্মত হইনি। একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেবে। তারপর কমিটি যে প্রস্তাব দেবে সেটা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।”
চাহিদা পূরণে তিন শোধনাগার
ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণে পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে আরো তিনটি পানি শোধনাগার চালু করতে চান বলে তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি সেলিম।
তিনি বলেন, “কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে ১০ কোটি লিটার বাড়ানো, মোহরাতে কর্ণফুলী নদীতে পানি সংগ্রহের কাঠামো প্রকল্পে ৩০ কোটি লিটার এবং ভাণ্ডালজুড়িতে আরো ১০ কোটি লিটার পানি শোধন করব।
“২০৩০-৩২ সালের মধ্যে এই নতুন তিনটি প্রকল্প চালু হলে চট্টগ্রামে আর গভীর নলকূপ লাগবে না। তখন নগরীতে কোন পানি সংকট থাকবে না এবং তাতে ২০৪৫-৫০ সাল পর্যন্ত সময়ের পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।”
ওয়াসার এমডি বলেন, “এসব প্রকল্প নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। আশা করি অক্টোবর নাগাদ অগ্রগতি জানাতে পারব।”
শহরের পাশাপাশি পাশের দুই-একটি উপজেলাতেও পানি সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ওয়াসা, বলেন তিনি।
বর্তমানে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
২০২২ সালের পর কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও পানির দাম আর বাড়ানো হয়নি।