১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের ইতিহাস তরুণরা ভুলতে বসেছে’

মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী ১৯৩০ সালে ব্রিটিশদের কবল থেকে চার দিন মুক্ত রেখেছিলেন চট্টগ্রামকে; ইতিহাসের সেই ঘটনা ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Apr 2026, 06:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:26 PM

‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের’ ৯৬তম বার্ষিকীতে তরুণ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানানোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে নগরীর এক অনুষ্ঠানে।

শনিবার দিবস উপলক্ষে সেই অনুষ্ঠানের কথামালা পর্বে সঙ্গীতজ্ঞ ও শিক্ষক শীলা মোমেন বলেন, “অতীতের ভুল থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। আর অতীতের গৌরব আর সাফল্য থেকে মানুষ গৌরবান্বিত বোধ করে মনে আত্মবিশ্বাস অর্জন করে।

“এগুলো যদি শিশুদের ছোটবেলা থেকে শেখানো না হয়, তাহলে এ জাতি কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেনা।”

কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার বলেন, “তরুণ প্রজন্ম যুব বিদ্রোহের ইতিহাস ভুলতে বসেছে, এই দোষ আমাদের। আমরা আমাদের ইতিহাসটা তাদের জানাতে পারেনি। পুঁজিবাদের পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ভুলতে বসেছি।

“আমরা যদি প্রকৃত ইতিহাসের দিকে যেতে না পারি আমরাই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনব।”

দোর্দণ্ডপ্রতাপের ব্রিটিশ শাসনের বিশাল ভারতবর্ষে চট্টগ্রামকে চার দিন স্বাধীন করে রেখেছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে অকুতোভয় বিপ্লবী দল। বিপ্লবের সেই দিনটি ছিল ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল।

সেদিন মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে একদল যুবক পুলিশ ও পাহাড়তলী অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগার দখল করেন। বিপ্লবীরা টেলিফোন ভবনের টেলিফোন বোর্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ করে পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেন। ধূম ও লাঙ্গলবন্দ রেলস্টেশনের নিকটবর্তী রেললাইনের ‘ফিসপ্লেট’ তুলে ফেলেন ও টেলিগ্রাফের তার কেটে দেন।

বিদ্রোহের আগে ব্রিটিশ সরকারের নিষ্ঠুর অত্যাচার হতে দেশকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিপ্লবীরা ইশতেহার বিলি করেন। অভ্যুত্থান শেষে বিপ্লবীরা দামপাড়া পুলিশ অস্ত্রাগার মাঠে সমবেত হয়ে অস্থায়ী সরকার ঘোষণা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনকে ‘গার্ড অব অনার’ দেন। এ অভ্যুত্থানই ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’ হিসেবে পরিচিত।

সেই বিদ্রোহের ৯৬তম বার্ষিকীতে শনিবার বন্দর নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজন করা হয় কথা-কবিতা-নৃত্য আর গানের অনুষ্ঠান। ‘রাস্তা জুড়ে রোদ হোক’ শিরোনামে ‘বোধন আবৃত্তি পরিষদ’ এই আয়োজন করে।

সংগীত ভবনের শিল্পীদের দলীয় পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় উৎসব।

কথামালা পর্বে সাহিত্যিক অভীক ওসমান বলেন, “স্বদেশী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের সকল আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে, নাহলে দেশের উত্থান ও গৌরবের অর্জন টিকে থাকবে না।”

এ পর্বে আলোচনায় অংশ নেন ‘বোধন আবৃত্তি পরিষদের’ সহ-সভাপতি অধ্যাপক সুবর্ণা চৌধুরী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল সোহেলও।

কথামালা শেষে দলীয় সংগীতে অংশ নেন সুরপঞ্চম ও ধ্রুপদ। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যেশ্বর, নৃত্য নিকেতন, নৃত্যভূমি। ব্রতচারী নৃত্য পরিবেশন করে ফুলকী।

একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মিশফাক রাসেল, সেলিম রেজা সাগর, রুনা চৌধুরী, পার্থ প্রতীম মহাজন, রূপশ্রী, স্নিগ্ধ, জসীম উদ্দীন।

বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে বোধন আবৃত্তি পরিষদের বড়দের ও ছোটদের বিভাগ। উপস্থাপনায় ছিলেন গৌতম চৌধুরী, পলি ঘোষ, পূর্ণা দাশ, হাসিবুল ইসলাম শাকিল, ঋত্বিকা নন্দী।