১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ‘শঙ্কা এখনো কাটছে না’: দেবপ্রিয়

“অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন উনি করে দেখাবেন, আমরা তার অপেক্ষায় আছি,” বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Dec 2025, 07:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:17 PM

দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনে আয়োজনে সক্ষমতা নিয়ে ‘শঙ্কা প্রকাশ করেছেন’ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেছেন, “অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারও নির্বাচন চায়। নির্বাচনের পক্ষের শক্তি অনেক। কিন্তু সুষ্ঠু একটি নির্বাচন করার জন্য সক্ষমতার ব্যাপারে যে শঙ্কা, সেই শঙ্কা কিন্তু দূরীভূত হচ্ছে না।

‘‘সরকারকে, নির্বাচন কমিশনকে এই শঙ্কা দূর করে মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি ভালো নির্বাচন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠান করতে হবে। নির্বাচন হবে সেটা সকলে ক্রমান্বয়ে মেনে নিচ্ছে। কিন্তু ভালো নির্বাচন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে, সে শঙ্কা তো এখনো কাটছে না।”

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’ এর প্রাক-নির্বাচনি উদ্যোগ ‘আঞ্চলিক পরামর্শ সভা’ শেষে সাংবাদিকদের সামনে একথা বলেন তিনি।

‘নাগরিক প্ল্যাটফর্মের’ আহ্বায়ক দেবপ্রিয় বলেন, “অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন উনি করে দেখাবেন, আমরা তার অপেক্ষায় আছি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা করে একইরকম অভিন্ন সুর খুঁজে পাচ্ছি। সকলেই সুশাসনের জন্য জবাবদিহিতার জন্য, আইনের শাসনের জন্য, নিরাপত্তার জন্য, অধিকারের জন্য, ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সাধারণভাবে সবাই সামনে নিয়ে আসছেন। সকলেরই প্রত্যাশা, একটি দক্ষ প্রশাসন, একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, একটি নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ইত্যাদির বিষয়ে সাধারণ ধারণা সকলের মধ্যে আছে।

“এ বিষয়গুলো রাজনীতিবিদরা তাদের নির্বাচনি ইশতেহারের ভেতরে কীভাবে স্থান করে দেবেন এটি জানার অপেক্ষায় আছে। তার চেয়ে বড় প্রত্যাশা যেটা, যে প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার দেবেন, যে প্রতিশ্রুতিগুলো রাজনীতিবিদরা দেবেন, সেগুলো যে তারা বাস্তবায়ন করবেন, সেটাকে কীভাবে কার্যকর করা যায়…এইটা।”

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে কমিটি গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয়।

তিনি বলেন, “যেমন প্রস্তাব উঠছে যে- উনারা মাসিকভাবে একটা জবাবদিহি গণশুনানির আয়োজন করবেন তাদের এলাকাতে। এ বিষয়টি যেমন সকলে বড়ভাবে বলছেন। উনাদের আয়ব্যয়ের হিসাবগুলোকে আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে কীভাবে সামনে আনা যায়; শুধু উনারা না, উনাদের পরিবার আত্মীয়-স্বজনদের সহায় সম্পত্তির বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার বিষয় উঠেছে।

“কথা প্রসঙ্গে উঠেছে, এরকম ঘোষণা বিগত সরকারও দিয়েছিল, বর্তমান সরকারও দিয়েছিল। তারা তাদের মন্ত্রী পরিষদের বা সরকার প্রধানের সম্পত্তির হিসেব দেবেন। সেটার ক্ষেত্রে মানুষের অনেক বড় হতাশা রয়েছে যে আগের মতই এবারের সরকার সেটা পূরণ করল না। এটার ফলে আগামী সরকারকেও না করার ক্ষেত্রে উৎসাহ দিয়ে গেল কিনা, এটা অনেকে আশঙ্কা করছেন।”

তিনি বলেন, “আজকে যেটা বড় আলোচনার জায়গা ছিল সেটা হল এত সংস্কারের আলোচনা করলাম বাংলাদেশে, গত দেড় বছর যাবত কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ব্যাপারে নির্বাচনকে সামনে রেখে সেরকম কোনো বড় আলোচনা হল না। রাজনৈতিক দলের, রাজনীতিবিদদের তার দলের গণতন্ত্রায়ন ও দুনীতিমুক্ত থাকা, সঠিক মনোনয়ন দেওয়া, তাদের জবাবদিহি করার দাবিটা খুব বড়ভাবে চট্টগ্রামে আজকে এসেছে।

“আরেকটা দাবি বড়ভাবে এসেছে, সেটা হল সবকিছুর জন্য সরকারের মুখাপেক্ষীূ হয়ে থাকলে হবে না। রাজনীতিবিদদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে হবে না। নাগরিকদের বলিষ্ঠ ভূমিকায়, সাহসী ভুমিকায় যেতে হবে। জবাবদিহিতার চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতে নিহিত। এবং সে নাগরিকরা যেনো ভীত না হয়, নাগরিকরা যেনো সংঘবদ্ধ থাকে। নাগরিকরা ধারাবাহিকভাবে এ সমস্ত প্রতিশ্রুতিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে যেনো সোচ্চার হয়।‘‘

আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় চট্টগ্রামের শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, নারী অধিকারকর্মীসহ শ্রেণী মানুষ অংশ নেন।