১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ ও ছিনতাই: দুই বছর পর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার ১

গ্রেপ্তার সাজু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 08:11 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

চট্টগ্রাম নগরী থেকে দুই বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

ঢাকার গোলাপবাগ এলাকা থেকে রোববার রাতে সাজু মিয়া নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে সাজুকে হাজির করা হলে তিনি ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে তথ্য পিবিআই-এর।  

গ্রেপ্তার সাজু মিয়ার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর এসআই আবদুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পুলক দাশকে ডিবি পরিচয়ে হাতকড়া পড়িয়ে গাড়িতে তুলে নেয় একদল লোক। 

“পরে তারা পুলকের কাছে থাকা প্রায় ৭৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে সীতাকুণ্ড বড় দারোগারহাট এলাকায় গাড়ি থেকে ফেল দেয়। এ ঘটনায় পুলক দাশ কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছিলেন। পরে তিনি আদালতে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের আবেদন করেন। এরপর আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। 

“ঘটনার সিসি টিভি ভিডিও সংগ্রহ করে আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে টানা অভিযান চালানো হয়। এক পর্যায়ে রোববার রাতে ঢাকার গোলাপবাগ এলাকা থেকে সাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম আনা হয়। সোমবার সাজু মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে থাকা আরও তিন থেকে চার জনের নাম জানিয়েছেন।”

তদন্তের বর্ণনা দিয়ে এসআই রশিদ বলেন, “অপহরণকারীরা ব্যবসায়ী পুলক দাশের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছিল। আমরা তদন্ত করার সময় সেটি মিরসরাই উপজেলার এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করি। পরে জানতে পারি, ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি মহাসড়কে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন।” 

পুরো ঘটনা ‘ক্লুলেস’ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সিসিটিভি ভিডিওতে ঘটনার দিন নিউ মার্কেট এলাকায় অপহৃত পুলক দাশকে অনুসরণকারী সন্দেহভাজন একজনকে দেখা যায়। সেটি ধরে বিভিন্ন থানায় এ ধরনের মামলার খোঁজ নিতে গিয়ে আমরা জানতে পারি, এ ঘটনার কিছুদিন পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একই কায়দায় র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সে মামলায় সাজু গ্রেপ্তার হয়েছিল এবং পরে জামিনে ছাড়া পায়। সেটার সূত্র ধরে এগিয়ে মূলত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”