Published : 17 Aug 2026, 05:00 PM
সরকারি লোগো, পুলিশ সুপার, ওসির স্বাক্ষর, কিউআর কোড—সবই আছে; পরে ভিসার জন্য জমা দিয়ে দেখা গেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদটি নকল।
এরপর পুলিশের দ্বারস্থ হলে ধরা হয় এ চক্রের চার সদস্যকে, যারা টাকার বিনিময়ে এ ধরনের জাল সনদ তৈরি করে দেন।
রোববার গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরী ও বাঁশখালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে নকল সনদ তৈরি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—আশরাফ আলী খান (৩৬), নিশান (৩৬), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৮) ও আব্দুর রহমান (৪৬)।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ চক্রটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে চুক্তি করে। পরে তারা নকল কিউআর কোড, ওয়েবসাইট তৈরি করে জাল সনদ দিয়ে থাকে।
“সম্প্রতি বাঁশখালী উপজেলার এক ব্যক্তি এ প্রতারণার শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।”
পুলিশ কর্মকর্তা রাসেল বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের সই জালিয়াতি, ভুয়া কিউআর কোড ব্যবহার করে সনদ প্রদানের বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর’। এ চক্রের সাথে আরও কয়েক জন যুক্ত থাকতে পারে। তাদের সোমবার আদালতে পাঠানো হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।
বিদেশ গমনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদের জন্য যে কেউ সহজেই নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই, তারা সাত দিনের মধ্যেই সনদটি সংগ্রহ করতে পারেন পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে।
পুলিশ বলছে, বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা এক ব্যক্তি তার ভাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ভিসার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তিনি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন না করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় এ চক্রটির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন।
চুক্তি মোতাবেক টাকা দেওয়ার পর চক্রের সদস্যদের দেওয়া সনদ ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ট্র্যাভেল অ্যাজেন্সিতে জমা দেয়ার পর বুঝতে পারেন, সনদটি নকল। বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগের পর বাঁশখালী থানায় মামলা করেন।