‘ক্যাচ ছাড়ার খেসারত একদিন দিতে হতোই’

জিম্বাবুয়ের কাছে হারার পর ফিল্ডিংকে মূল দায় দিলেন অধিনায়ক তামিম।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 August 2022, 06:03 AM
Updated : 6 August 2022, 06:03 AM

সিকান্দার রাজা আউট হতে পারতেন ৪৩ রানে। ইনোসেন্ট কাইয়া বিদায় নেওয়ার কথা ৭৫ হওয়ার আগেই। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। এই দুজনই সেঞ্চুরি করে জিতিয়েছেন জিম্বাবুয়েকে। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল মনে করিয়ে দিয়েছেন, ফিল্ডিংয়ের এই দুর্বলতার কথা তিনি বলে আসছেন অনেক দিন ধরেই।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার ৩০৩ রানের পুঁজি নিয়ে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারে দুই উইকেট হারানোর পরও কাইয়ার ১১০ ও রাজার ১০৯ বলে ১৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৫ উইকেট জিতে যায় জিম্বাবুয়ে।

এই রাজা ৪৩ রানে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন তাসকিনের বলে। কিন্তু শর্ট কাভারে তা নিতে পারেননি বদলি ফিল্ডার তাইজুল ইসলাম।

এই তাসকিন পরে কাইয়ার ক্যাচ নিতে পারেননি, সে সময় তার রান ৬৮। কাইয়া পরে ৭৪ রানে জীবন পান শরিফুল ইসলামকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে।

এমনকি সেঞ্চুরির পরও এক দফায় ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান কাইয়া। পরে কাইয়ার আউটের পর ক্যামিও ইনিংস খেলা লুক জঙ্গুয়েও পান জীবন।

এই ম্যাচে শুধু নয়, বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিংয়ের চিত্র করুণ। ক্যাচ মিস হয়নি, এমন ম্যাচ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ফিল্ডিং কোচ বদলেও উন্নতি খুব একটা হয়নি।

ক্যাচ ছেড়েও অনেক সময় ম্যাচ জিতে গেছে বাংলাদেশ। তবে এবার চরম মূল্য দিতে হলো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯ বছর পর ১৯ ম্যাচ পর ওয়ানডে হেরে।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তামিম সেই অতীতকে স্মরণ করেই বললেন, এই বাস্তবতা একদিন হাজির হতোই।

“প্রতিদিনই একটা বলি যে, ফিল্ডিংয়ে ভুল হচ্ছে, আমরা ক্যাচ হাতছাড়া করছি। কোনো না কোনো দিন এর মূল্য দিতে হতোই। আজকেই ছিল সম্ভবত সেই দিন। অনেক বেশি সময় ধরে আমরা ক্যাচ ছেড়ে আসছি, বিশেষ করে ওয়ানডেতে। ক্যাচ ছেড়েও আমরা নানাভাবে পার পেয়ে গেছি। দু-তিনটি ক্যাচ ছেড়েও ম্যাচ জিতে গেছি। কিন্তু এই ধরনের উইকেটে চারটি ক্যাচ ছাড়লে জেতা যায় না।”

“আমি কিন্তু যখন জিতেছি, তখনও বলে আসছি যে ভুলে গেলে চলবে না, আমরা কত ভুল করেছি। আজকের খেলাটাই দারুণ উদাহরণ, এতদিন ক্যাচ ছেড়ে বা ফিল্ডিং ভালো না করেও যেকোনো ভাবে জিতে গিয়েছি, একদিন না একদিন এটার মূল্য দিতে হতোই। আজকে ছিল সেই দিন।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক