০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

নতুন বলের ঝলকের পর বিবর্ণ বাংলাদেশ, জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজের দিন

তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করলেও আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরি দিনটা নিজেদের করে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 05:36 PM

Updated : 05 Nov 2026, 05:36 PM

ম্যাচ শুরুর আধ ঘণ্টা পর হয়তো প্রমাদ গুনছিলেন রস্টন চেইস। টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে কী ভুলই হলো! মেঘলা আকাশের নিচে নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের ছোবলে টপ অর্ডার এলোমেলো হয়ে গেল দ্রুতই। কিন্তু সময় যত গড়াল, সূর্যের আলোর চেয়েও বেশি তেজ ছড়াল যেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং। বিকেলে আলোকস্বল্পতায় যখন শেষ হলো দিনের খেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়কের মুখের আঁধার দূর হয়ে খেলে গেল হাসির ঝিলিক।

প্রভাতের সূর্য যে সবসময় গোটা দিনের পূর্বাভাস ঠিকঠাক দেয় না, প্রমাণ হলো আরেকবার। সিলেট টেস্টে দুর্দান্ত শুরুর পরও ক্রমে ধার হারাল বাংলাদেশের বোলিং। আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে বিপর্যয় সামলে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দিনে ৭১ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৩৫।

অথচ সকালে ৩ উইকেট হারিয়েছিল তারা কেবল ২৭ রানেই। কিন্তু ওই প্রথম ঘণ্টার পর বাকি দিনটি শুধুই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেখানে জাঙ্গু যেমন ছিলেন বড় নিয়ামক, তেমনি অভিষেকে ফিফটি করে পার্শ্বনায়ক কেভিন উইকহ্যাম।

এই উইকহ্যামের খেলারই কথা ছিল না। কিন্তু জ্বরে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন আগের টেস্টে পারফর্ম করা জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চান্দারপল। টেস্ট ক্যাপ পেলেন উইকহ্যাম, একাদশে ফিরে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ইনিংস ওপেন করলেন জশুয়া দা সিলভা।

সেই দা সিলভা যখন আউট হলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ততক্ষণে কাঁপছে। ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে টস হেরে আগে বোলিং পাওয়াকে আশীর্বাদই মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য।

একাদশে ফেরা তাসকিন সাতসকালেই উপড়ে দিলেন ব্র্যান্ডন কিংয়ের মিডল ও লেগ স্টাম্প। হাসান মাহমুদের বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হলেন কাভেম হজ। সাদমান ইসলামের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়া দা সিলভাকেও দ্রুত থামালেন তাসকিন। দুই পেসারের প্রথম স্পেলেই টালমাটাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কিন্তু রোদের ছোঁয়া পাওয়ার পর ক্রমে সহজ হয়ে এলো উইকেট। দুই পেসার ক্রমে ধার হারালেন। স্পিনাররা এসেও রাখতে পারলেন না তেমন কোনো প্রভাব। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামরা আঁটসাঁট বোলিং করলেন বটে। তবে উইকেট শিকারের সম্ভাবনা কিংবা ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের ভোগানো, পারলেন না কোনোটিই। তিন স্পিনারের চেয়ে তিন পেসারের বোলিং আক্রমণই বেশি উপযুক্ত হতো কি না, দিনজুড়েই প্রশ্নটি উঠতে থাকল।

জাঙ্গু শুরু থেকেই ছিলেন বেশ ইতিবাচক। ফুল লেংথ বল পেলেই দারুণ কিছু ড্রাইভ খেলেছেন তিনি, শর্ট বল আর স্পিনের জবাবও দিয়েছেন দারুণ। অভিষেকে মোটেও নার্ভাস মনে হয়নি উইকহ্যামকে, বরং তার ব্যাটে ছিল নির্ভরতার ছাপ।

চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়েন দুজন। দারুণ কৌশলে এই জুটি ভাঙতে পারে বাংলাদেশ। শর্ট লেগে ফিল্ডার রেখে শর্ট বলে উইকহ্যামকে কিছুটা নাড়িয়ে দিয়েছিলেন হাসান। পরে ওয়াইড অব দা স্টাম্প থেকে করা কোনাকুনি ডেলিভারিতে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করে উড়িয়ে দেন বেলস। উইকহ্যামের ইনিংস থামে ৬১ রানে।

তবে ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। আরেকটি ভালো জুটি গড়ে তোলেন জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রেভস। ১৪৯ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন জাঙ্গু। সপ্তম টেস্টে তার দ্বিতীয় শতরান এটি।

দিন শেষে তিনি অপরাজিত ১১ চার ও ২ ছক্কায় ১১১ রানে। ৩৫ রানে অপরাজিত গ্রেভস। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি রান ৭৭।

সকালে প্রথম স্পেলটির পর তাসকিন দিনজুড়েই ছিলেন একদম নির্বিষ। ভালোমন্দের মিশেল ছিল হাসানের বোলিংয়ে। তিন স্পিনারের বোলিং ছিল একদমই ধারহীন। সাম্প্রতিক বিবর্ণ রূপের পরও আরেকটি সুযোগ পাওয়া তাইজুল ফর্মে ফেরার আভাস রাখতে পারেননি। অবশ্য প্রথম দিনের উইকেটে স্পিনারদের জন্য তেমন কিছু ছিলও না। লড়াইয়ে ফিরতে দ্বিতীয় দিনে দারুণ কিছুই করতে হবে বাংলাদেশকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৩৫/৪ (কিং ৯, দা সিলভা ১২, হজ ১, উইকহ‍্যাম ৬১, জাঙ্গু ১১১*, গ্রেভস ৩৫*; তাসকিন ১৪-০-৬১-২, হাসান ১৪-১-৫৮-২, মিরাজ ১৮-২-৪২-০, তাইজুল ১৬-১-৪৫-০, নাঈম ৮-১-২৭-০)