Published : 20 Feb 2026, 11:13 AM
রাভিচান্দ্রান অশ্বিন প্রশ্নটা সরাসরিই তুলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কি আসলেই যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় অস্ট্রেলিয়া? অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের অনেকের মনে সেই প্রশ্ন বা সংশয় নেই। তারা নিশ্চিত, টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরকে খুব একটা পাত্তা দেয় না অস্ট্রেলিয়া। এসব নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে ঢের। তবে সেই ধারণা উড়িয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড বললেন, বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে তার দল।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই এবার শেষ হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার সুপার এইটের আশা। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তিদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও রেকর্ডবারের বিজয়ী দলটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চিত্র প্রায় উল্টো। ২০০৯ আসরের পর এবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিচ্ছে তারা প্রথমবার। তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের জন্য তো শিরোপা ছাড়া অন্য যে কোনো ফলই ব্যর্থতা। সেই সাফল্য তারা বিশ ওভারের বিশ্বকাপে পেয়ে স্রেফ একবার। ২০২১ সালে ট্রফি জয়ের পর সেমি-ফাইনালেও আর জায়গা করে নিতে পারেনি তারা।
কোচ ম্যাকডোনাল্ডের ধারণা, টানা ব্যর্থতার কারণেই গুরুত্ব না দেওয়ার গল্পের জন্ম হয়েছে। তবে সেসব তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন।
“অনেকটা সময় ধরেই এই বিশ্বকাপে বুঁদ ছিলাম আমরা। আমাদের অগ্রাধিকারগুলোর একটি ছিল এটি। এই ধরনের আখ্যান আমিও শুনেছি যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে আমরা পাত্তা দেই না। আমার মনে হয়, এই আসরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স থেকেই এসবের জন্ম হয়েছে।”
“২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমরা জিতেছি এবং পরের আসরগুলোয় সফল হতে পারিনি। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে প্রত্যাশা সবসময়ই অনেক উঁচুতে এবং তা সঠিকভাবেই। তবে আমরা অন্য সংস্করণ বা অন্য টুর্নামেন্টগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি, কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে দিচ্ছি না, এসব ধারণা পুরোপুরি মিথ্যে।”
অস্ট্রেলিয়ার দল এবার অবশ্য চোট-জর্জর ছিল। পেস বোলিংয়ের বড় দুই ভরসা প্যাট কামিন্স ও জশ হেইজেলউড আসতে পারেননি চোটের কারণে। অধিনায়ক মিচেল মার্শ খেলতে পারেননি প্রথম দুই ম্যাচে, টিম ডেভিড বাইরে ছিলেন প্রথম ম্যাচে। তবে চোটকে দায় না দিয়ে সমালোচনাগুলোকে মেনে নেওয়াই উচিত বলে মনে করেন কোচ।
“কোন ক্রিকেটারদের আমরা পাইনি, সেটা কখনোই আলোচনায় থাকা উচিত নয়। বরং তাকানো উচিত (এখানে থাকা ক্রিকেটারদের) পারফরম্যান্সের দিকে এবং সেখানে আমরা হতাশ। এটাকে আলিঙ্গন করে নিতে হবে আমাদের এবং সমালোচনাগুলি ন্যায্য ও যৌক্তিক।”
কোচের মতে, একসঙ্গে অনেক ক্রিকেটার ফর্ম হারিয়ে ফেলাই দলের ব্যর্থতার মূল কারণ।
“সত্যি বলতে, মূল ব্যাপার হলো, আমাদের অনেক ক্রিকেটার একসঙ্গে পারফর্ম করতে পারেনি। এই দলের জন্য যা বিরল ব্যাপার। পেছন ফিরে তাকালে দেখতে পাবেন, সবসময়ই অন্তত দুজন দাঁড়িয়ে যেত ব্যাট হাতে, যা আমাদেরকে (ভালো) সংগ্রহ এনে দিত। এবার তা হয়নি।”
“বোলিংয়ের দিক থেকে বললের, যাদেরকে আমরা পাইনি, তাদের দিকে তাকানো খুব সহজ এবং সেটি অবশ্যই কিছুটা হলেও দলকে নড়বড়ে করেছে। তবে এখানে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারাও যথেষ্ট ভালো। এই উপলব্ধি নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিচ্ছি যে, যথেষ্ট ভালো ছিলাম আমরা এবং সুযোগগুলো নিতে না পেরে ও টুর্নামেন্টের পরের ধাপে নিজেদের তুলতে না পেরে আমরা প্রচণ্ড হতাশ।”
নিয়মরক্ষার ম্যাচে শুক্রবার রাতে ওমানের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব।