Published : 17 Feb 2026, 10:31 AM
“ইজ ইট আ বার্ড? ইজ ইট আ প্লেন? নো, ইট’স জন্টি…”, ১৯৯২ বিশ্বকাপের এক ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে উড়ে গিয়ে ইনজামাম-উল-হাককে রান আউট করার পর জন্টি রোডসকে নিয়ে এই কথাটি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল। সেই একই লাইন ব্যবহার করা যায় এবার পাথুম নিসাঙ্কার ক্ষেত্রেও। রান আউট নয়, তবে অসাধারণ একটি ক্যাচ তিনি নিয়েছেন সুপারহিরোর মতো করে। এবারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সেরা ক্যাচ সম্ভবত সেটিই।
শেষ নয় সেখানেই। পরে নিজের মূল কাজেও তিনি সফল। দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে জিতিয়েছেন দলকে। ম্যাচ-সেরা হওয়ার পর শ্রীলঙ্কান ওপেনার বললেন, এবারের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার লক্ষ্য ছিল তার।
পাল্লেকেলেতে সোমবার ১৮২ রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই কুসাল পেরেরাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়েন নিসাঙ্কা ও কুসাল মেন্ডিস। ৩৮ বলে ৫১ রান করে মেন্ডিস আউট হওয়ার পর পাভান রাত্নায়েকের (১৫ বলে ২৮*) সঙ্গে মিলে কাজ শেষ করেন নিসাঙ্কা। ১০ চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৫২ বলে ১০০ রান করে।
শ্রীলঙ্কা যে লক্ষ্যটাকে ১৮২ রানে রাখতে পেরেছিল সেখানে বড় ভূমিকা আছে নিসাঙ্কার ওই দুর্দান্ত ক্যাচের। একটি ছক্কা ও চার মেরে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কেবল হুমকি হয়ে উঠছিলেন। তিনি টিকে থাকলে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন, গোটা ক্রিকেট বিশ্বের জানা। ১৫তম ওভারে একটি সুযোগ তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু লং অনে ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি নিসাঙ্কা। বল যদিও বেশ উঁচুতে উঠেছিল, তবু এই পর্যায়ের ক্রিকেটে এটি সহজ ক্যাচই।
পরের ওভারে সেটি অভাবনীয়ভাবে পুষিয়ে দেন তিনিই। দুশান হেমান্থার বলে রিভার্স সুইপ খেলেন ম্যাক্সওয়েল। পয়েন্টে থাকা নিসাঙ্কা বাঁ দিকে অনেকটা লাফিয়ে শরীরের পেছন থেকে দু হাতে বল মুঠোবন্দি করে ফেলেন। ম্যাক্সওয়েল নিজে যেমন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, তেমনি মাঠের দর্শকেরা বা টিভি পর্দায় দেখা সবার জন্যও সেটি ছিল চোখধাঁধানো।
ম্যাচের পর নিসাঙ্কা বললেন, ক্যাচ ছাড়ার পরই পুষিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি মনে মনে।
“প্রথম ক্যাচটি ছেড়ে দেওয়ার পর হতাশ ছিলাম, কারণ জানতাম যে তার উইকেট আমাদের জন্য জরুরি। তখনই মনে মনে ঠিক করেছিলাম, দলের জন্য স্পেশাল কিছু করতে হবে। ওই সময়টায় আমার মনে হচ্ছিল, সে রিভার্স সুইপ খেলতে পারে, এজন্য সেভাবেই চোখ রেখেছিলাম তার দিকে। সৌভাগ্যবশত ক্যাচটি নিতে পেরেছি।”
পরে রান তাড়ায় শুরুতে উইকেট হারানোর পর নিসাঙ্কার পরিকল্পনা ছিল জুটি গড়া ও শিশির পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। কৃতিত্ব দিলেন তিনি জুটির সঙ্গী মেন্ডিসকেও।
“প্রথম উইকেট হারানোর পর কুসাল ও আমার পরিকল্পনা ছিল পাওয়ার প্লে ভালোভাবে কাজে লাগানো। সে শুরুটা ভালো করায় আমার কাজ সহজ হয়ে যায়। আমাদের ভাবনায় ছিল, শিশির পড়বে এক পর্যায়ে। এজন্য পরিকল্পনা করেছিলাম, শিশির পড়া পর্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাটিং করে যাব এবং ১২ ওভারের পর পরিস্থিতি বুঝে আমাদের একজন চালিয়ে খেলব।”
শিশির অবশ্য খুব বেশি পড়েনি এ দিন। তবে নিসাঙ্কা ঠিকই জ্বলে উঠেছেন পড়ে। ৩২ বলে ফিফটি করা ব্যাটসম্যান পরের পঞ্চাশ করতে বল খেলেন স্রেফ ২০টি। এই সময়ে চার মারেন ৫টি, ছক্কা ৩টি।
ম্যাচ-সেরা হয়ে নিসাঙ্কা বললেন, এবারের আসরে এমন কিছুই তিনি করতে চাইছিলেন।
“এই বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার বড় একটি লক্ষ্য আমার ছিল। আমি খুশি যে সেটা করতে পেরেছি। এই উইকেটে আগেই একটি ম্যাচ আমরা খেলেছি। কাজেই জানতাম উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। আমি ও কুসাল ভালো ব্যাট করেছি বলে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং খুব একটা কাজে লাগেনি এখানে।”