Published : 23 Feb 2026, 02:35 PM
টি-টোয়েন্টিতে বাবর আজমের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, ট্রল, বিতর্ক সবকিছুই চলমান অনেক দিন ধরেই। সেই প্রসঙ্গে এবার শোনা গেল ফাফ দু প্লেসির অভিমত। তার মতে, স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অনেকটা এগিয়ে গেলেও পেছনে পড়ে রয়েছেন বাবর। তার সঙ্গে পাকিস্তানের কোচের সৎ আলোচনা জরুরি বলেও মনে করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিন ইনিংস খেলে বাবরের রান ৬৬। স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৫.৭৮। তার এমন পারফরম্যান্স উসকে দিয়ে পুরোনো আলোচনা, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বারবার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও রানের তালিকায় সবার ওপরে বাবর। এই সংস্করণের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি অনেক দিন। তবে গত কয়েক বছরে টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং যেভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, তার ব্যাটিং সেখানে হেঁটেছে উল্টো পথে।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইম আউট’ অনুষ্ঠানে ফাফ দু প্লেসিও সেটিই তুলে ধরলেন। তার মতে, কিছু উইকেটে বাবরের ব্যাটিং এখনও কার্যকর হলেও বেশির ভাগ উইকেটেই তা অকার্যকর।
“ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়েই গ্রেট ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার নানাভাবে বিবর্তিত হয়। আমরা জানি, বাবর অনেক বছর ধরেই বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের একজন। তবে তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অনেক দ্রুত এগিয়ে গেছে স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে এবং স্ট্রাইক রেটের ক্ষেত্রে সে কিছুটা পেছনে পড়ে রয়েছে।”
“আপনি যদি মাইক হেসন হয়ে থাকেন, আপনি চেষ্টা করছেন তাকে (বাবর) খেলাটায় কাজে লাগানোর সেরা পথ খুঁজতে। উইকেট যদি ‘ট্রিকি’ হয়, সেখানে কেউ ১২০-১৩০ স্ট্রাইক রেটে খেলতে পারে। হেসন হয়তো ভাবছেন, “বাবরের সেরাটা কীভাবে বের করে আনতে পারি!’ ১২০-১৩০ স্ট্রাইক রেট থেকে অনেকটা এগিয়ে গেছে খেলাটি। প্রথম ৬ ওভারে তো ১৬০-১৯০ বা ২০০ এর বেশি স্ট্রাইক রেট লাগে।”
এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান যে ভেন্যুগুলোতে খেলছে, বিশেষ করে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেট বাবরের ব্যাটিং অনেক সময় কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন দু প্লেসি।
“এই ভেন্যুগুলিতে ও সুনির্দিষ্ট কন্ডিশনে, যেখানে অনেক স্পিন ধরে, সেখানে মিডল অর্ডারে তার মতো একজন ব্যাটার অনেক কিছু যোগ করতে পারে দলে এবং ইনিংসের হাল ধরতে পারে।”
দু প্লেসির মতে, সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে পাকিস্তানের কাচ মাইক হেসনকে। কোচ যদি বাবরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন, তাহলে বাবরও উপলব্ধি করতে পারবেন বলে ধারণা তার।
“সব আলোচনার শুরুটা হয় সততা দিয়ে। যে কোনো আলোচনার মূল ভিত্তি সেটিই। যখন আলোচনায় সৎ থাকা যায় (কোচ হিসেবে), এরপর সবকিছুই মসৃণভাবে এগিয়ে যায়। কিন্তু যদি কেউ আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে এবং কোচ বা অধিনায়ক হিসেবে সত্যিটা না বলে, তাহলে একটি গর্ত খোঁড়া হয়ে যায়, যেখানে সেই ক্রিকেটার পতিত হয়। কাজেই আলোচনার ধরন সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।”
“কোচকে বলতে হবে, ‘শোনো, এই হলো পরিসংখ্যান। তোমার সংখ্যাগুলি এরকমই বলছে। খেলাটি এখন এই জায়গায় আছে। এই বিশ্বকাপে বা টুর্নামেন্টে সফল হতে হলে এই জায়গাগুলিতে আমরা সেরা হতে চাই। কিংবা এই জায়গাগুলোয় আমরা দুর্বল, যেটা আমাদের ঠিকঠাক করতে হবে।’ একজন ক্রিকেটারের সামনে যখন সেই আলোচনা শুরু হয়, তখন তার পক্ষে বলা কঠিন যে, ‘আপনার সঙ্গে একমত নই।’ এরপর ওই ক্রিকেটারের সামনে দুটি পথই খোলা থাকে, হয় বড় আকারের গন্ডগোল পাকানো, অথবা বাস্তবতা মেনে নিয়ে নিজের উন্নতি করা।”