Published : 02 Mar 2026, 09:04 PM
‘এই ছেলে তো চেইস মাস্টার’, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং দেখে ভাবছিলেন বাসিত আলি। পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটসম্যানের মনের পর্দায় ভেসে উঠছিল ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেট ভিরাট কোহলির ছবি। স্যামসনের ব্যাটিংয়ের ধরন মন জয় করে নিয়েছে আরেক পাকিস্তানি মোহাম্মাদ হাফিজেরও।
কলকাতায় রোববার ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে রান তাড়ায় ইনিংস শুরু করতে নেমে দলের জয় সঙ্গে নিতে ফেরেন স্যামসন। মাথা উঁচু করে যখন মাঠ ছাড়ছেন তিনি, তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ৯৭ রান। ৫০ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি চারটি ছক্কা ও ১২টি চারে।
সুপার এইটের ম্যাচ হলেও এটি ছিল কার্যত কোয়ার্টার-ফাইনাল। সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিতে এই লড়াইয়ে জয়ের বিকল্প ছিল না ভারতের। স্যামসনের স্মরণীয় ইনিংসের সৌজন্যে সেই চ্যালেঞ্জ উৎরে যায় স্বাগতিকরা; ১৯৫ রান চার বল বাকি থাকতে পাঁচ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে যায় তারা।
লক্ষ্য তাড়ায় আগ্রাসী শুরুই করেছিলেন স্যামসন। ২৬ বলেই পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। সেখান থেকে আরও বিধ্বংসী না হয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন স্যামসন। নতুন করে গার্ড নেন, একটু সময় নিয়ে যেন শুরু করেন নতুন করে।
উইকেট আগলে রাখা, রান বাড়ানো, চাপ সরানো, সবকিছুই দারুণভাবে করেন স্যামসন। তার অসাধারণ ব্যাটিং দেখে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া কোহলির কথা মনে পড়ে বাসিতের। পরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সেটি বলেন তিনি।
“তার ব্যাটিংয়ে ভিরাট কোহলির কিছুটা প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন-বোলার ভেদে কীভাবে রান করতে হয়, আর তার পেশিশক্তিও আছে।”
“সাঞ্জুকে একটা পরিষ্কার পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল, এদিন সে পাওয়ার প্লেতেও সবচেয়ে বেশি রান করেছে। সাঞ্জু যেভাবে ব্যাটিং করছিল, আমি ভাবছিলাম, ‘এই ছেলেটা তো দাবার মাস্টার।’ আমরা সাধারণত ভিরাট কোহলির ক্ষেত্রেই এই কথা বলি। কিন্তু আজকে তো কোহলি ছিলই না।”
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক হাফিজ ট্যাপম্যাডে বলেন, স্যামসনের কাছে এদিন সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল দল। তাই ব্যক্তিগত অর্জনের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে স্রেফ দলকে জেতানোয় মনোযোগী ছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
“ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য সাঞ্জু কখনোই চেষ্টা করেনি। ‘আমার জন্য শতক করাই সব কিছু’ সে এমন কিছু ভাবছিল না। তার কাছে ম্যাচ জেতাটা ছিল সবকিছুর ঊর্ধ্বে।”
“প্রথমে সে আক্রমণাত্মক ছিল। এরপর সম্ভবত কোনো বার্তা পায়, কিংবা নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় হাল ধরার। এরপর সে তার ধরনই বদলে ফেলে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের খেলাকে মানিয়ে নেয়। সে যেভাবে খেলেছে, কখনোই তার মধ্যে রান করার কিংবা ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়ার লোভ দেখা যায়নি। কারণ একজন খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেশের জন্য ম্যাচ জেতা।”
মুম্বাইয়ে আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শিরোপাধারী ভারত।