Published : 18 Oct 2022, 05:42 PM
১১ ওভারে রান ১ উইকেটে ৯২। এখান থেকে দুইশর কাছাকাছি যাওয়া খুব সম্ভব। তবে শ্রীলঙ্কা কোনোমতে ছাড়াতে পারল দেড়শ। পরে অবশ্য সেই রানই প্রতিপক্ষের জন্য পাহাড়সম করে তুলল তাদের বোলাররা। বড় জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল লঙ্কানরা।
ভিক্টোরিয়ার জিলংয়ে মঙ্গলবার ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয় ৭৯ রানে।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে করে ১৫২ রান। শেষ ৯ ওভারে ৬০ রান তুলতে তারা হারায় ৭ উইকেট!
ইনিংসের শুরু থেকে শেষের আগের বল পর্যন্ত খেলে ৬০ বলে ৭৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন পাথুম নিসানকা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ২১ বলে ৩৩, কুসল মেন্ডিস ১৩ বলে করেন ১৮ রান। আর কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
কার্তিক মিয়াপ্পানের হ্যাটট্রিকে বোলিংয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও আমিরাতের ব্যাটিং স্রেফ মুখ থুবড়ে পড়ে। ৭ উইকেটে ৪২ রানের বিপর্যয় থেকে অষ্টাদশ ওভারে তারা অল আউট হয় ৭৩ রানে।
শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ৪ ওভারে একটি মেডেন দিয়ে স্রেফ ৮ রানে নেন ৩ উইকেট। ১৫ রানে ৩ উইকেট দুশমন্থ চামিরার। শ্রীলঙ্কার জন্য কিছুটা দুর্ভাবনার বিষয়, কোটার শেষ ওভারে পাঁচ বল করার পর অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই পেসার।
নামিবিয়ার বিপক্ষে হারে আসর শুরুর পর শ্রীলঙ্কার প্রথম জয় এটি। টানা দুই হারে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের দুয়ারে চলে গেল আমিরাত।
শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে নামে টস হেরে। নিসানকা ও মেন্ডিসের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ৪ ওভারে তারা তুলে ফেলে ৩৭ রান। এরপরই মেন্ডিস বিদায় নেন ক্যাচ দিয়ে।
পাওয়ার প্লেতে তাদের রান ছিল ১ উইকেটে ৫২।
দলকে এগিয়ে নেন এরপর নিসানকা ও ধনঞ্জয়া। ৫০ রানের জুটি ভাঙে ধনঞ্জয়ার রান আউটে। ৩ চার ও এক ছক্কায় গড়া তার ৩৩ রানের ইনিংস।
জমে যাওয়া জুটি ভাঙার পর শ্রীলঙ্কার রানে গতিও কমে যায়। পঞ্চদশ ওভারে হ্যাটট্রিকের আনন্দে মাতেন মিয়াপ্পান। ২২ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার ওভারের শেষ তিন বলে ফিরিয়ে দেন ভানুকা রাজাপাকসা, চারিথ আসালাঙ্কা ও দাসুন শানাকাকে।
এবারের আসরে প্রথম ও সব আসর মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পঞ্চম হ্যাটট্রিক এটি। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমিরাতের প্রথম।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝেই এক প্রান্তে দলকে টানেন নিসানকা। ৪৫ বলে তিনি করেন ফিফটি। শেষ ওভারে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ৬ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ৭৪ রানের ইনিংস।
রান তাড়ায় প্রথম ২ ওভারে আমিরাত বিনা উইকেটে তোলে ১৪ রান। এরপর থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় তারা।
ইনিংসের তৃতীয় ও নিজের প্রথম ওভারে চামিরা জোড়া শিকার ধরেন মুহাম্মদ ওয়াসিম ও আরিয়ান লাকরাকে বোল্ড করে। পরের ওভারে তিনি ফিরিয়ে দেন সিপি রিজওয়ানকে।
তখন চামিরার বোলিং ফিগার ২-০-৪-৩!
এরপর চলতেই থাকে আমিরাতের উইকেট পতনের সেই ধারা। প্রতিরোধ গড়তে পারেননি তেমন কেউ। আয়ান খানের ২১ বলে ১৯ ও জুনাইদ সিদ্দিকের ১৬ বলে ১৮ রানের সৌজন্যে ৭৩ পর্যন্ত যেতে পারে তারা।
হাসারাঙ্গা টানা দুই ওভারে দুটি উইকেট নেওয়ার পর কোটার শেষ বলে নেন তৃতীয়টি।
এই রাউন্ড থেকে পরের রাউন্ডে যেতে নেট রানরেট হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। এই জয় শ্রীলঙ্কার জন্য তাই বড় স্বস্তির।
দিনের প্রথম ম্যাচে নামিবিয়াকে হারানো নেদারল্যান্ডস ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে। ২ পয়েন্ট করে নিয়ে নামিবিয়া দুইয়ে, শ্রীলঙ্কা তিনে আছে।
আগামী বৃহস্পতিবার শেষ রাউন্ডে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলবে শ্রীলঙ্কা, আর নামিবিয়া মুখোমুখি হবে আমিরাতের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৫২/৮ (নিসানকা ৭৪, মেন্ডিস ১৮, ধনঞ্জয়া ৩৩, রাজাপাকসা ৫, আসালাঙ্কা ০, শানাকা ০, হাসারাঙ্গা ২, করুনারত্নে ৮, মাদুশান ১*, চামিরা ১*; জুনাইদ ৪-০-৩৬-০, কাশিফ ১-০-১৪-০, জহুর ৪-০-২৬-২, আয়ান ৩-০-১৬-১, আরিয়ান ৩-০-২৪-১, মিয়াপ্পান ৪-০-১৯-৩, হামিদ ১-০-১৩-০)
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১৭.১ ওভারে ৭৩ (ওয়াসিম ২, চিরাগ ১৪, আরিয়ান ১, রিজওয়ান ১, ভ্রিতিয়া ৯, হামিদ ২, আয়ান ১৯, কাশিফ ০, মিয়াপ্পান ৪, জুনাইদ ১৮, জহুর ১*; মাদুশান ৩-০-১৪-১, থিকশানা ৩.১-০-১৫-২, চামিরা ৩.৫-০-১৫-৩, করুনারত্নে ২-০-১৪-০, হাসারাঙ্গা ৪-১-৮-৩, শানাকা ১.১-৯-৭-১)
ফল: শ্রীলঙ্কা ৭৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: পাথুম নিসানকা