২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

‘সব দুয়ো তোমার জন্য’, কামিন্সকে বলেছিলেন ব্রড

বেয়ারস্টোর আউটের ঘটনায় অধিনায়ক কামিন্স ও অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভূমিকায় বিস্মিত ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড।  

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jul 2023, 12:36 PM

Updated : 04 Jul 2023, 02:34 PM

খেলা চলার সময়ই প্যাট কামিন্স, ডেভিড ওয়ার্নার, মার্নাস লাবুশেনদের সঙ্গে বারবার কথা বলতে দেখা গিয়েছিল স্টুয়ার্ট ব্রডকে। সেসব যে স্রেফ শুভেচ্ছা বিনিময় বা সদালাপ নয়, তা অনুমান করে নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ডেইলি মেইল-এ লেখা কলামে ব্রড কিছুটা খোলাসাও করলেন সেসব। জনি বেয়ারস্টোর আউটের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভূমিকায় বিস্মিত ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ এই পেসার। কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তিনি অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক কামিন্সকে। 

লর্ডস টেস্টের শেষ দিনে বেয়ারস্টোর আলোচিত ওই আউটের পর ব্যাটিংয়ে নামেন ব্রড। অধিনায়ক বেন স্টোকসের সঙ্গে শতরানের জুটিও গড়েন তিনি। জুটির সময়টায় অনেকবারই অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে ব্রডের কথোপকথনের দৃশ্য ফুটে উঠেছে টিভি পর্দায়। 

বেয়ারস্টো আউট হওয়ার পর থেকে বাকি সময়জুড়ে লর্ডসের দর্শকেরা টানা ‘দুয়ো’ দিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ানদের। আর ব্রড মাঠে থেকেই কথা শুনিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ানদের। ২০১৮ সালের আলোচিত সেই বল টেম্পারিং বিতর্কের পর থেকে সংস্কৃতি বদলানোর যে ধারা অস্ট্রেলিয়ানদের ছিল, সেটি টেনে এনেও খোঁচা দিতে ছাড়েনি ব্রড।

“অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত (বেয়ারস্টোকে আউটের আবেদন) আমাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। বিশেষ করে এসব কথা শোনার পর যে, ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘটনার পর থেকে তারা বদলে গেছে এবং নতুন উত্তরাধিকার গড়ার চেষ্টা করছে। প্যাটকে (কামিন্স) আমি বারবার বলে গেছি, ‘এই সব দুয়ো তোমার জন্য, তোমাদের সিদ্ধান্তের জন্য।” 

“ওই সময়টায় বেন স্টোকসের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনও ছিল আমার, সেটা যেভাবে বা যে পথেই হোক না কেন। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত আমি প্রতিপক্ষের কোনো একজনের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়ানোর চেষ্টা করি, তবে এবার গোটা দলের বিপক্ষে লড়াই করেছি।” 

যার থ্রো থেকে আউট হন বেয়ারস্টো, সেই অস্ট্রেলিয়ান কিপার অ্যালেক্স কেয়ারিকেও কথা শুনিয়েছেন বলে দাবি ব্রডের। 

“অ্যালেক্স কেয়ারিকে বলেছি, ‘এই ঘটনার জন্যই লোকে তোমাকে মনে রাখবে এবং কী এক লজ্জা এটি! হয়তো একটু হাস্যকরও মনে হতে পারে, তবে প্রতিবারই লাইন ছাড়ানোর সময় আমি চিৎকার করেছি। আধ ঘন্টার মতো সময় অস্ট্রেলিয়ানদের এভাবে বিরক্ত করেছি।” 

কেয়ারির থ্রো থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বেয়ারস্টো আউট হলেও অধিনায়ক চাইলে আবেদন প্রত্যাহার করে নিতে পারতেন। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কেউ তেমন কিছু বলেননি দেখেও তাদের দিকে আঙুল তুলেছেন ব্রড। 

“আমাকে যেটা অবাক করেছে এবং লাঞ্চ বিরতিতে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে অস্ট্রেলিয়ানদের এটা বলেছিও… হ্যাঁ, খেলার আবেগ আমি বুঝি যে, বোলার ও উইকেটকিপার মনে করেছে সেটি ‘আউট’, কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র ক্রিকেটারদের একজনও এই আউট নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।” 

“বিশেষ করে, গত কয়েক বছরে তাদের দল সংস্কৃতি বদলসহ যে অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তাদের একজনও বলেনি, ‘একটু থামো সবাই, এই আউট নিয়ে আমি ঠিক নিশ্চিত নই।’ তাদের কোনো একজনও বলেনি, ‘সে (বেয়ারস্টো) তো বাড়তি কোনো সুবিধা নিতে চাইছে না, রান নেওয়ার চেষ্টা করছে না। ওভারও শেষ। এটা আউট হয়ে গেছে, তবে আমরা আবেদন প্রত্যাহার করে নেই।’ একজনও এরকম কিছু বলেনি।” 

ব্রডের ধারণা, এসব কথার লড়াই ও ম্যাচের উত্তেজনার রেশ শেষ হলে, সময় গড়ানোর সঙ্গে কামিন্স উপলব্ধি করতে পারবেন যে, তাদের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। 

“দিনশেষে, প্যাট কামিন্স সত্যিই দারুণ এক ছেলে এবং যখন আবেগের জোয়ার কমে যাবে, আমি অবাক হব, তখন যদি সে স্থির হয়ে বসে না ভাবে যে, ‘এটা আমার ভুল হয়ে গেছে’… যদিও ওই সময় মূল ভাবনা ছিল টেস্ট ম্যাচটি জেতা।” 

লর্ডস টেস্টের শেষ দিনে প্রথম সেশনে ওই আউট হন বেয়ারস্টো। ক্যামেরন গ্রিনের শর্ট ডেলিভারিটি মাথা নিচু করে ছেড়ে তিনি। অস্ট্রেলিয়ান কিপার কেয়ারি বল গ্লাভসে নিয়ে আস্তে করে ছুড়ে দেন স্টাম্পের দিকে। বেয়ারস্টো ততক্ষণে ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে গেছেন। বল ছোবল দেয় স্টাম্পে। অস্ট্রেলিয়ানরা আবেদন করেন। হতভম্ব হয়ে পড়েন বেয়ারস্টো। তৃতীয় আম্পায়ার রিপ্লে দেখে ঘোষণা করেন, ‘আউট।’ 

নিয়ম অনুযায়ী, বল ডেড হয়নি এবং সেটি আউটও। এখানে আপত্তি নেই কারও। তবে ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকস প্রশ্ন তোলেন ক্রিকেটীয় চেতনা ভঙ্গের ব্যাপারটি নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ও অধিনায়ক বেন স্টোকস অবশ্য বলেছেন, চেতনা ভঙ্গের কোনো ব্যাপারই ঘটেনি। এসব নিয়েই চলছে বিতর্ক।