লাবুশেন-স্মিথের ডাবল সেঞ্চুরির পর চন্দরপলের দৃঢ়তা
প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার রান পাহাড়ের জবাবে শুরুটা ভালো হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
পার্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের দাপট চলল দ্বিতীয় দিনেও। প্রথম দিনের দেড়শকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করলেন মার্নাস লাবুশেন। তার সঙ্গে দুইশ ছাড়ানো জুটির পর দ্বিশতকের স্বাদ পেলেন স্টিভেন স্মিথও। জবাবে ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত আঙিনায় পথচলার শুরুতে সামর্থ্যের ঝলক দেখালেন তেজনারাইন চন্দরপল। কামিন্স-হেইজেলউডদের শর্ট বলের চ্যালেঞ্জ সামলে খেললেন দারুণ কিছু শট। অস্ট্রেলিয়ার রান পাহাড়ের চ্যালেঞ্জে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হলো ভালো।
লাবুশেন-স্মিথের প্রাপ্তির দিনে আক্ষেপ সঙ্গী হয়েছে অবশ্য ট্রাভিস হেডের। স্রেফ ১ রানের জন্য যে সেঞ্চুরি পাননি তিনি।
অপ্টাস স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৪ উইকেটে ৫৯৮ রান তুলে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর এটি। ১৯৬৯ সালে সিডনিতে ৬১৯ রান সর্বোচ্চ।
৩৫০ বলে ২০ চার ও এক ছক্কায় ২০৪ রানের ইনিংস খেলেন লাবুশেন। স্মিথ অপরাজিত থাকেন ৩১১ বলে ১৭ চারে ঠিক ২০০ রানে। হেডের ৯৫ বলে ৯৯ রানের ইনিংস গড়া ১১টি চারে।
দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৭৪ রান। এখনও তারা পিছিয়ে ৫২৪ রানে।
ক্যারিবিয়ান গ্রেট শিবনারাইন চন্দরপলের ছেলে তেজনারাইন চন্দরপল অভিষেকে ফিফটি থেকে ৩ রান দূরে আছেন। ৭৩ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৪৭ রানে অপরাজিত আছেন ২৬ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
দ্বিতীয় দিনেও উইকেটে ঘাস আছে যথেষ্ট। অস্ট্রেলিয়া বৃহস্পতিবার ব্যাটিং শুরু করে ২ উইকেটে ২৯৩ রান নিয়ে। লাবুশেন ও স্মিথ কাটিয়ে দেন প্রায় প্রথম সেশন।
আগের দিন ১৫৪ রানে অপরাজিত লাবুশেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবলে পা রাখেন লাঞ্চ বিরতির একটু আগে, জেডেন সিলসকে চার মেরে। বিরতির আগে শেষ ওভারে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের অফ স্পিনে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়ে থামেন তিনি।
এই মাঠে সবশেষ টেস্টে তিন বছর আগে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে লাবুশেন করেছিলেন ১৪৩।
তার বিদায়ের আগেই টানা দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়ে যান ৫৯ রানে দিন শুরু করা স্মিথ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির তালিকায় তিনি পাশে বসলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের। দুজনেরই ২৯টি করে। সামনে আছেন কেবল ম্যাথু হেইডেন (৩০), স্টিভ ওয়াহ (৩২) ও রিকি পন্টিং (৪১)।
স্মিথের ২৯ সেঞ্চুরি হয়ে গেল ১৫৫ ইনিংসে। তার চেয়ে কম ইনিংসে ২৯ সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন কেবল ব্র্যাডম্যান (৭৯) ও শচিন টেন্ডুলকার (১৪৮)।
লাবুশেন ও স্মিথের জুটিতে আসে ২৫১ রান। এরপর হেডের সঙ্গে ১৯৬ রানের আরেকটি বড় জুটি উপহার দেন স্মিথ। দ্বিতীয় সেশনে এই দুজন রান তোলেন ওভারপ্রতি ৫.৫৬ করে।
সিঙ্গেল নিয়ে ৩১১ বলে চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন স্মিথ। এই তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার ওপরে আছেন পন্টিং (৬) ও ব্র্যাডম্যান (১২)।
এই নিয়ে পঞ্চমবার টেস্টের একই ইনিংসে দুজন ডাবল সেঞ্চুরিয়ান পেল অস্ট্রেলিয়া। সবশেষ ২০১২ সালে অ্যাডিলেইডে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে দ্বিশতক করেছিলেন পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্ক।
স্মিথ মাইলফলকে পৌঁছার পরের বলেই ব্র্যাথওয়েটকে কাট করার চেষ্টায় ৯৯ রানে বোল্ড হন হেড। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ইনিংস ঘোষণা করে দেন সেখানেই।
শেষ সেশনে চন্দরপলকে নিয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন ব্র্যাথওয়েট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সে টেস্ট ক্যাপ পাওয়া চন্দরপল যাত্রা শুরু করেন মুখোমুখি প্রথম বলে চার মেরে।
এরপর অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের শর্ট বলের সামনে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখা যায় তাকে। কিছু বল লাগে গায়ে। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি খেলেন দারুণ কয়েকটি শট। কামিন্সকে একটি ছক্কা মারেন পুল করে।
বাবার মতো তারও ব্যাটিংয়ের ধরন ও ঘরানা প্রায় একই। দ্বিতীয় দিনে তার সামনে এখন প্রথম ফিফটির হাতছানি। অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট অপরাজিত আছেন ৭৯ বলে ১৮ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৫২.৪ ওভারে ৫৯৮/৪ ডিক্লে (আগের দিন ২৯৩/২) (লাবুশেন ২০৪, স্মিথ ২০০* হেড ৯৯; রোচ ২৬-৩-৯১-০, সিলস ২১-৩-৯৫-১, জোসেফ ২৪-৪-৮৩-০, মেয়ার্স ১৫-২-৩৯-১, হোল্ডার ২৩-৬-৭০-০, চেইস ৩১-২-১৪০-০, ব্র্যাথওয়েট ১২.৪-০-৬৫-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৫ ওভারে ৭৪/০ (ব্র্যাথওয়েট ১৮, চন্দরপল ৪৭*; স্টার্ক ৭-২-১৫-০, হেইজেলউড ৮-১-৩১-০, কামিন্স ৬-১-১৫-০, লায়ন ৪-১-৬-০)
