২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘কেউ ৩০০ করলেই তো জিতবে বাংলাদেশ’  

ভারতীয় স্পিনার কুলদিপ যাদব হাসতে হাসতে বললেন, কোনো ব্যাটসম্যান ট্রিপল সেঞ্চুরি করলে ম্যাচ জিতে যেতে পারে বাংলাদেশ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Dec 2022, 08:17 PM

Updated : 16 Dec 2022, 08:17 PM

‘আপনার কি মনে হয়, এই ম্যাচ বাংলাদেশ জিততে পারবে?’ হাসতে হাসতে কুলদিপ যাদব বললেন, ‘আমি তো তা চাই না…!’ তবে ক্রিকেটীয় ভব্যতা থেকে হোক বা ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তা ভেবে, ভারতীয় স্পিনার পরমুহূর্তেই বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাব্য একটি পথও দেখালেন। কোনো এক ব্যাটসম্যানকে করতে হবে ট্রিপল সেঞ্চুরি! সেই কথা বলার সময়ও অবশ্য তার মুখে খেলে গেল হাসি।

চট্টগ্রাম টেস্ট  জয়ের জন্য বাংলাদেশের যে সমীকরণ, তা আপাতত তাদের নাগালের বাইরে বলেই মনে হয়। বাংলাদেশকে ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে ভারত। শেষ ইনিংসে লক্ষ্য ৫১৩ রানে। তৃতীয় দিনে ৪২ রান এসেছে। শেষ দুই দিন ১০ উইকেট নিয়ে ৪৭১ রান করতে হবে বাংলাদেশের।

ক্রিকেট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে এত রান করে জেতার রেকর্ড নেই একটিও। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের বিপক্ষে এই রেকর্ড ইংল্যান্ডের। গত জুলাইয়ে বার্মিংহাম টেস্টে ৩৭৮ করে জেতে ইংলিশরা।

সংখ্যার কথা বললে তবু কাগজে-কলমে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বাস্তবে রান তাড়ায় বাংলাদেশের পরিসংখ্যান করুণ। এখন পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে বাংলাদেশ জিতেছে স্রেফ ৪টি। ২০০৯ সালে ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ২১৭ তাড়া করে জেতাই বাংলাদেশের রেকর্ড। 

তাই ৫১৩ রান তাড়া করে জিতবে বাংলাদেশ, তা হয়তো সবচেয়ে আশাবাদী মানুষের পক্ষেও আশা করা কঠিন। তবে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে পারলে জয় অসম্ভবও নয় বলে মনে করেন কুলদিপ।

“আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি (বাংলাদেশের জয়) চাই না (হাসি)। তবে এটিই ক্রিকেট। খেলার ধরন এমনই। (বাংলাদেশের) কেউ যদি ৩০০ করে ফেলে, তাহলে অবশ্যই হয়তো... তবে আমরা চেষ্টা করব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের অলআউট করা যায়। আগামীকাল এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের ৩০০ রান করা তো বহুদূরে, কাছাকাছি যাওয়ারও নজির নেই। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি আছেন স্রেফ রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবালের। দুজনের কেউই নেই এই ম্যাচে। 

স্বাভাবিকভাবেই তাই ম্যাচে এখন পরিষ্কার ফেবারিট ভারত। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তারা আরও আগে ব্যাটিং ছেড়ে দিতে পারত কি না, সে প্রশ্নও উঠছে। দিনের শেষ দিকে ১২ ওভার বাকি থাকতে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। নির্বিঘ্নে সে ধাপটা পার করে দেন স্বাগতিক দলের দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও জাকির হাসান। 

বাংলাদেশকে স্রেফ ১৫০-এ গুটিয়ে দিয়ে ২৫৪ রানের লিড পেলেও ফলো অন করায়নি ভারত। দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬১.৪ ওভারে ২৫৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। শুবমান গিল সেঞ্চুরি করে আউট হওয়ার পর ভারতের অপেক্ষা ছিল চেতেশ্বর পুজারার তিন অঙ্ক ছোঁয়ার।

প্রায় ৪ বছর পর পুজারা সেঞ্চুরি পূরণ করতেই ব্যাটিং ছাড়ে তারা। ইনিংস ঘোষণা করতে একটু বেশিই সময় নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে কুলদিপ বলেন, তাদের ইনিংস এগিয়েছে পরিকল্পনা অনুসরণ করেই।

“আমাদের হাতে আরও দুই দিন আছে। এখনও ১৮০ ওভার বাকি। এই ধরনের ক্রিকেটে অনেক সময়। তাদেরকে ব্যাটিংয়ে নামানোর কোনো তাড়া ছিল না আমাদের। এর চেয়ে কিছু রান করে তাদের দেওয়ার কথা ভেবেছি। এটি রান ডিফেন্ড করার সময় আমাদের বোলারদেরও কিছুটা সুযোগ দেয়।”

“বোলিং বা ব্যাটিংয়ের সময় কোনো দলকে কখনও অনুমান করা যায় না। মাঝেমধ্যে ৪০০ রানও সহজ মনে হয়। যদি কেউ উইকেটে সেট হয়ে যায়, লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এমন নয় যে আমরা ভয় পেয়েছি। আমরা শেষ সেশনের পানি বিরতি পর্যন্ত ব্যাট করে তাদের ১৫-২০ ওভার দিতে চেয়েছি।”