২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শরিফুল ২ কোটি ৩০ লাখ, তাসকিন ২ কোটি ১০ লাখ, তানজিদ ২ কোটি

ডি থ্রি ট্রফির নিলামে সবচেয়ে সবচেয়ে ‘দামি’ ক্রিকেটার শরিফুল ইসলাম, কাড়াকাড়ি তাসকিন আহমেদ ও তানজিদ হাসানকে নিয়েও।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 01:49 PM

Updated : 26 Oct 2026, 01:49 PM

নিলাম তখন সবে শুরু হতে চলেছে। নিলামের মূল কক্ষ থেকে বেরিয়ে সংবাদকর্মীদের কক্ষে এসে তামিম ইকবাল বললেন, “আমি আজকে পুরোপুরি দর্শক।” দর্শকের মতোই সেখানে বসে ক্রিকেটারদের মূল্য আর দলগুলির কৌশল নিয়ে নানারকম মুখোরোচক আলোচনায় মেতে উঠলেন তিনি। তার জন্যও বড় বিস্ময় এলো বেশ কজন ক্রিকেটারের দাম।

দাম মানে এখানে টাকার অঙ্ক নয়। ডি থ্রি ট্রফির নিলাম হচ্ছে ব্যতিক্রমী ও ভিন্ন আঙ্গিকে। ক্রিকেটারদের মূল্য এখানে ‘অকশন পয়েন্ট।’ বড় তারকাদের বেশ কজনকে পেছনে ফেলে নিলামের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার শরিফুল ইসলাম। ‘এ’ ক্যাটেগরিতে থাকাএই বাঁহাতি পেসার ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে খেলবেন সিটিজেনস ব্যাংকে।

শরিফুলের আগে সবচেয়ে বেশি কাড়াকাড়ি ছিল আরেক পেসার তাসকিন আহমেদকে নিয়ে। ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে অভিজ্ঞ পেসারকে নিয়েছে ওয়ালটন।

ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্টে দল পেয়েছেন তানজিদ হাসান। তিন সংস্করণেই বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ওপেনারকে ২ কোটি পয়েন্টে নিয়েছে ফরচুন গ্রুপ।

তিন সংস্করণ মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন চমক এই ডি থ্রি ট্রফি। ছয় দলের আসরে নিলাম থেকে তিন সংস্করণ মিলিয়েই ২২ জনের স্কোয়াড বাছাই করতে হবে দলগুলিকে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের সবশেষ ঘোষিত আর্থিক কাঠামে অনুযায়ীই ‘ডি থ্রি’ ট্রফিতে ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা। প্রথম শ্রেণির ম্যাচের ফি দেড় লাখ টাকা, একদিনের ম্যাচে ১ লাখ ও টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার। ম্যাচ ফি সবারই সমান। তবে টুর্নামেন্টকে আকর্ষণীয় করতে ও ক্রিকেটারদের প্রকৃত মূল্যমান ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ ধরনের এই নিলামের আয়োজন করেছে বিসিবি।

ঢাকার একটি হোটেলে সোমবার সকাল থেকে নিলাম পরিচালনা করছেন ভারতের প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার, সঞ্চালক ও কুইজ মাস্টার চারু শার্মা। ছয়টি দলের আইকন ক্রিকেটার চূড়ান্ত হয়েছে আগেই। নিলামে নাম আছে ২৭৫ ক্রিকেটারের। সেখান থেকে দল পাবেন ১৩২ ক্রিকেটার।

ক্যাটেগরি অনুযায়ী ক্রিকেটারদের ভাগ করা হয়েছে, প্রতিটি ক্যাটেগরিতে আছে নির্দিষ্ট ভিত্তি পয়েন্ট। সেই পয়েন্টের ওপরই চলছে নিলাম। ‘এ’ ক্যাটেগরির ভিত্তি পয়েন্ট ৪০ লাখ, ‘বি’ ক্যাটেগরিতে ৩০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটেগরিতে ২০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটেগরিতে ১০ লাখ ও ‘ই’ ক্যাটেগরিতে ৫ লাখ পয়েন্ট।

প্রতিটি দল খরচ করতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ কোটি পয়েন্ট।

নিলামে প্রথম নাম ওঠে শেখ মেহেদি হাসানের। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন সংস্করণেই বেশ কার্যকর এই অলরাউন্ডারকে দেড় কোটিং পয়েন্টে দলে নেয় ব্লু স্টার।

নিলামে শুরুর দিকে বেশ আগ্রাসী ছিল ফরচুন গ্রুপ। সৌম্য সরারকে ৭৫ লাখ পয়েন্টে নেওয়ার পর ১ কোটি ৫৫ লাখ পয়েন্টে তারা নেয় বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে, ২ কোটি পয়েন্টে তানজিদকে।

বেশ কাড়াকাড়ি ছিল সাইফ হাসান ও হাসান মাহমুদকে নিয়েও। ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্টে সাইফকে দলে নেয় সেভেন রিংস, একই দামে হাসানকে নেয় ব্লু স্টার।

১ কোটি ৮০ লাখ পয়েন্টে জাকের আলিকে নেয় সিটিজেনস ব্যাংক, বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস দেড় কোটি পয়েন্টে খেলবেন ওয়ালটনে। দেড় কোটি পয়েন্টেই সেভেন রিংস পয়েন্ট নিয়েছে পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদকে।

‘বি’ ক্যাটেগরি থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ছিলেন সাব্বির রহমান। ১ কোটি ২ লাখ পয়েন্টে তাকে নিয়েছে ফরচুন গ্রুপ।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দেশের বড় তারকাদের একজন মুস্তাফিজুর রহমানকে ৭০ লাখ পয়েন্টে নিয়েছে সেভেন রিংস। তার পয়েন্ট এত কম হওয়ার কারণ পরিষ্কার হলো নিলাম চলার সময়ই। বিসিবি সভাপতি তামিম জানালেন, প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলবেন এই বাঁহাতি পেসার। তাকে দলে নিয়েছেন মেলবোর্ন রেনেগেডস। ডি থ্রি ট্রফির টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তাই খেলতে পারবেন না তিনি। তাকে পাওয়া যাবে শুধু ওয়ানডে আসরে।

বিগ ব্যাশে বাংলাদেশের আরেক প্রতিনিধি রিশাদ হোসেনকেও পাওয়া যাবে না ডি থ্রি ট্রফির টি-টোয়েন্টি আসরে। তাকে ৬০ লাখ পয়েন্টে নিয়েছে ফরচুন গ্রুপ।

চোটের কারণে বাইরে থাকা পেসার নাহিদ রানাকে ৭৫ লাখ পয়েন্টে নিয়েছে ব্লু স্টার। ৮০ লাখ পয়েন্টে তাইজুল ইসলামকে পেয়েছে সেভেন রিংস।

ডি থ্রি ট্রফিতে চমক ছিল নিলামের আগেও। দেশের ক্রিকেটের প্রথম ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট হয়েছে এই টুর্নামেন্টের জন্যই। গত মাসে এই ড্রাফট থেকে প্রধান কোচ, সহকারী কোচ, ট্রেনার, ফিজিও বেছে নিয়েছে দলগুলি।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি আসর দিয়ে শুরু হবে ডি থ্রি ট্রফি। এই আসরের উদ্বোধনী ও ফাইনালসহ বেশির ভাগ ম্যাচ হবে বরিশালে, মিরপুরে হবে সাতটি ম্যাচ। চার দিনের ম্যাচের আসরটি হবে জানুয়ারিতে, ৫০ ওভারের ক্রিকেটের আসর আগামী মে মাসে।

তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ম্যাচ হবে ৪২টি। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ১৯টি, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ১৬টি ও চার দিনের ম্যাচের আসরে হবে সাতটি ম্যাচ।