‘ডি থ্রি’ ট্রফির নিলাম: টাকা নয়, ক্রিকেটারদের মূল্য যেখানে লাখ লাখ পয়েন্ট
বিসিবির নতুন টুর্নামেন্টের নিলাম হবে অভিনব প্রক্রিয়ায়, নিলাম পরিচালনাকারী আনা হতে পারে দেশের বাইরে থেকে।
নিলাম হবে, তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়বে। তবে টাকার ছড়াছড়ি থাকবে না, বরং থাকবে পয়েন্টের ওড়াউড়ি। দল সাজানোর ক্ষেত্রে যথারীতি কৌশলী হতে হবে। তবে সেটা টাকা খরচের ক্ষেত্রে নয়, বরং লাখ লাখ, কোটি কোটি পয়েন্টের হিসাব ও সমীকরণ মেলাতে! এমন অভিনব প্রক্রিয়াই দেখা যাবে ‘ডি থ্রি’ ট্রফির ক্রিকেটারদের নিলামে।
তিন সংস্করণ মিলিয়ে বিসিবির নতুন ঘোষিত এই টুর্নামেন্টে নানারকম চমক দেখা যাচ্ছে। দেশের প্রথম ‘টিম ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট’ হয়ে গেল মঙ্গলবার। ক্রিকেটারদের নিলাম হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। সেই নিলামকে আকর্ষণীয় করতে এখন চলছে নানা পরিকল্পনা।
বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ঘরোয়া ক্রিকেটের সবশেষ ঘোষিত আর্থিক কাঠামে অনুযায়ীই ‘ডি থ্রি’ ট্রফিতে ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা। প্রথম শ্রেণির ম্যাচের ফি দেড় লাখ টাকা, একদিনের ম্যাচে ১ লাখ ও টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার। ম্যাচ ফি সবারই সমান। ‘ডি থ্রি’ ট্রফির জন্য ক্রিকেটারদের নিলামের ঘোষণা দেওয়ার পর তাই প্রশ্ন ও কৌতূহল জাগছিল, পারিশ্রমিক যেহেতু পূর্ব নির্ধারিত, সেক্ষেত্রে নিলামের প্রয়োজনীয়তা কি? নিলামে হবে কোন প্রক্রিয়ায়!
নিলাম আয়োজনের পেছনের ভাবনা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
“নিলাম মানেই একটা বাড়তি আকর্ষণ ও টান টান উত্তেজনা থাকে। সেই রোমাঞ্চ ক্রিকেটারদের ও সমর্থকদের উপহার দিতে চাই আমরা। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। নিলামে টাকা না থাকলেও টাকার অঙ্ক অনুযায়ীই পয়েন্ট থাকবে ক্রিকেটারদের জন্য। প্রতিটি ক্রিকেটার তাই নিজের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারবে।
কাউকে নিয়ে হয়তো কাড়াকাড়ি পড়বে। কারও চাহিদা কম থাকবে। কারও প্রতি আবার নজরই পড়বে না কোনো দলের। ক্রিকেটাররা তাই নিজের অবস্থান জানতে পারবে। ড্রাফট পদ্ধতিও রাখা যেত। তবে ড্রাফটে তো একজন ক্রিকেটারকে কেউ ডেকে ফেললে অন্যদের আর সুযোগ নেই। নিলামেই বোঝা যায়, কোন ক্রিকেটারের চাহিদা কেমন।”
নিলামে প্রতি দলের জন্য সর্বোচ্চ পয়েন্ট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সংখ্যাটি হতে পারে ১০ কোটি পয়েন্ট বা এর আশেপাশে।
এই পয়েন্ট পদ্ধতি কীভাবে কাজ করবে, সেটির প্রাথমিক ধারণাও দিয়ে রাখলেন বিসিবি সভাপতি।
“ব্যাপারটি সিম্পল। এমনিতে নিলামে টাকা খরচ করা হয়, এবার খরচ করা হবে পয়েন্ট। গ্রেড বা ক্যাটেগরি অনুযায়ী ক্রিকেটারদের জন্য পয়েন্ট বরাদ্দ করা হবে আগে থেকেই। ধরুন, ‘এ’ গ্রেডের জন্য থাকতে পারে ৫০ লাখ বা ৬০ লাখ কিংবা ৮০ লাখ পয়েন্ট। এভাবেই গ্রেড অনুযায়ী পয়েন্ট থাকবে।
পয়েন্টের একটি সর্বোচ্চ সীমা থাকবে। ধরুন, ১০ কোটি পয়েন্টের বেশি খরচ করতে পারবে না কোনো দল। প্রতিটি দলকে তাই অনেক চিন্তাভাবনা করে দল গড়তে হবে। যেহেতু তিন ফরম্যাটের জন্যই দল গড়তে হবে, সব ধরনের ক্রিকেটার রাখতে হবে স্কোয়াডে। অনেক হোমওয়ার্ক করে এবং বিভিন্ন অপশন ভাবনায় রেখে নিলামে আসতে হবে দলগুলিকে।”
নির্দিষ্ট পয়েন্টের মধ্যে তিন সংস্করণের জন্য দল গড়ার কাজটি কঠিন বলেই প্রতিটি দলের সঙ্গে একজন করে নির্বাচককে যুক্ত করা হয়েছে। নিলাম শেষে তাদের দায়িত্বও শেষ।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ঘোষণার অনুষ্ঠানের মতো নিলামও যথেষ্ট জমকালো করার পরিকল্পনা আছে বোর্ডের। দেশের বাইরে থেকে ‘অকশনিয়ার’ বা নিলাম পরিচালনাকারী আনার ভাবনাও আছে।
ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর বড় পরিবর্তন এনে গত রোববার এই ‘ডি থ্রি’ ট্রফির ঘোষণা দেয় বিসিবি। ছয়টি দল নিয়ে হবে এই টুর্নামেন্ট। একই দল অংশ নেবে চার দিনের ম্যাচ, ৫০ ওভারের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। আগের ঘরোয়া কাঠামোয় থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ও জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি এখন বাতিল হয়ে যাবে। তবে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের মূল আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগ এবং একদিনের ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আগের মতোই থাকবে আলাদা।
ছয় দলের জন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত হয়ে গেছে। প্রতি দলের স্কোয়াডে থাকবে ২৩ ক্রিকেটার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দিয়ে টুর্নামেন্টটি শুরু আগামী ১৫ ডিসেম্বর। আসর শুরু হবে বরিশালে। চার দিনের ম্যাচের আসরটি হবে জানুয়ারি, ৫০ ওভারের ক্রিকেটের আসর আগামী মে মাসে।
