সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক আম্পায়ার কোয়ের্টজেনের মৃত্যু

আইসিসি এলিট প্যানেলের সাবেক আম্পায়ার রুডি কোয়ের্টজেনের বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 August 2022, 01:14 PM
Updated : 9 August 2022, 01:14 PM

সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান আম্পায়ার রুডি কোয়ের্টজেন আর নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, কেপ টাউন থেকে ডেসপাচে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কোয়ের্টজেনের গাড়ি। ইস্টার্ন কেপের শহর ডেসপাচে পরিবার নিয়ে থাকতেন আইসিসি এলিট প্যানেলের সাবেক এই আম্পায়ার।

কোয়ের্টজেনের ছেলে রুডি কোয়ের্টজেন জুনিয়র দক্ষিণ আফ্রিকার আলগোয়া এফএম নিউজকে বলেন, গলফ খেলতে বন্ধুদের সঙ্গে কেপ টাউনে গিয়েছিলেন তার বাবা।

“কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে একটি গলফ টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। সোমবার তাদের ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মনে হয় আরও এক রাউন্ড গলফ খেলতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।”

২০১০ সালে আম্পায়ারিং থেকে অবসরে যাওয়ার আগে কোয়ের্টজেন ৩৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেন। ওই সময়ে যা ছিল রেকর্ড। পরে পাকিস্তানের আলিম দার ভেঙে দেন রেকর্ডটি।

সেই আলিম দার তুলে ধরলেন, আম্পায়ার ও সহকর্মী হিসেবে কেমন ছিলেন কোয়ের্টজেন।

‘কোয়ের্টজেনের এভাবে চলে যাওয়া তার পরিবার, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। অনেক ম্যাচে তার সঙ্গে আমি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি শুধু একজন দুর্দান্ত আম্পায়ারই ছিলেন না, একজন অসাধারণ সহকর্মীও ছিলেন। মাঠে সব সময় খুব সহযোগিতা করতেন। এমনকি মাঠের বাইরেও পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকতেন।"

টেস্ট ইতিহাসে অন্তত একশ ম্যাচে আম্পায়ারিং করা তিন আম্পায়ারের একজন কোয়ের্টজেন। অন্য দুজন আলিম দার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টিভ বাকনার।

আম্পায়ার হিসেবে কোয়ের্টজেনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে, ভারত দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। তখনকার পোর্ট এলিজাবেথে দ্বিতীয় ওয়ানডে ছিল তার প্রথম ম্যাচ। পরে বিশ্বের সেরা আম্পায়ারদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি।

১৯৯৯ সালে সিঙ্গাপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের কোকা-কোলা কাপের ফাইনালে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব আসে তার কাছে। সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসিত হন তিনি।

পরবর্তীতে আলোচিত-সমালোচিত এক ঘটনায় মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখেছিলেন কোয়ের্টজেন।

২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে বারবাডোজে তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আলোকস্বল্পতা নিয়মের ভুল করে প্রায় অন্ধকারে খেলা চালানো হয়েছিল। বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কারণে ম্যাচ অফিসিয়ালরা সমালোচিত হয়েছিলেন এবং আইসিসি শাস্তিও দিয়েছিল। ওই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছিল কোয়ের্টজেনকে।

মাঠে আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় ধীরে ধীরে আঙুল তুলতেন বলে কোয়ের্টজেনের ডাক নাম হয়ে গিয়েছিল ‘স্লো ডেথ।’ অবসরের পর একটি বই লেখেন তিনি। নাম দেন, ‘স্লো ডেথ: মেমোরিস অব আ ক্রিকেট আম্পায়ার।’ ওই বইয়ে ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালসহ বিভিন্ন ম্যাচে যে সব ভুল করেছিলেন, তা তুলে ধরেন তিনি।

সবশেষ কোয়ের্টজেনকে মাঠে দেখা গিয়েছিল ২০১১ সালের আইপিএলে। বেঙ্গালুরুতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জর্স বেঙ্গালোর ও চেন্নাই সুপার কিংস ম্যাচটিই আম্পায়ার হিসেবে তার শেষ ম্যাচ হয়ে আছে।

যুব বয়সে কোয়ের্টজেন কিম্বার্লিতে শীর্ষ বিভাগের ক্লাব ক্রিকেট খেলেছিলেন। মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন তিনি। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে ২০১০ সালে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, পেশাদার আম্পায়ার হওয়ার আগে পোর্ট এলিজাবেথে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে রেলওয়েতে কাজ করতেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক