হেইজেলউড-কামিন্সের দিনে নিজেকে চেনালেন শামার জোসেফ
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং তোপে দুইশর আগেই শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস, তবে ব্যাট-বলে উজ্জ্বল ছিলেন অভিষিক্ত ক্যারিবিয়ান শামার জোসেফ।
দিনটি অস্ট্রেলিয়ার। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে জশ হেইজেলউড ও প্যাট কামিন্সের। দুজনেই চারটি করে উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং। তবে শামার জোসেফের নাম আলাদা করে না বললে অপূর্ণ থেকে যাবে দিনের গল্প। সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম দিনটিই রাঙিয়ছেন অভিষিক্ত এই ক্যারিবিয়ান।
এমনিতে এই সিরিজে লড়াই কতটা জমবে, এই সংশয় ছিলই। অ্যাডিলেইডে এই প্রথম টেস্টেই যেমন, অস্ট্রেলিয়ার একাদশের টেস্ট সংখ্যা যেখানে ৭০০, ওয়েস্ট ইন্ডিজের তা ২৪৬। এর মধ্যে কিমার রোচ ও ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট মিলেই খেলেছেন ১৬৮ টেস্ট! প্রথম দিনেই নমুন কিছুটা দেখা গেল। তবু লড়াই যেটুকু হলো, সেটি মূলত সেই শামার জোসেফের সৌজন্যেই।
অ্যাডিলেইডে বুধবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ ১৮৮ রানেই। এক পর্যায়ে তাদের রান ছিল ৯ উইকেট ১৩৩। সেখান থেকে শেষ জুটিতে ৫৫ রান যোগ করেন কিমার রোচ ও জোসেফ।
৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪১বলে ৩৬ রান করে জুটিতে অগ্রণী ছিলেন জোসেফই।
সেই তিনি পরে বল হাতে উইকেটে দেখা পান টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই। ওপেনার হিসেবে স্টিভেন স্মিথের প্রথম ইনিংস থামে ১২ রান।
দিনের শেষ ভাগে জোসেফ বিদায় করেন দেন মার্নাস লাবুশেনকেও। অস্ট্রেলিয়া দিন শেষ করে ২ উইকেটে ৫৯ রান নিয়ে।
অ্যাডিলেইড ওভালের সবুজাভ উইকেটে টস জিতে বোলিং নেন প্যাট কামিন্স। ১৯৯২ সালের পর এই মাঠে টস জিতে ব্যাটিং না করা মাত্র দ্বিতীয় অধিনায়ক তিনি। সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতেও খুব একটা সময় নেননি তিনি।
মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউডের আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রথম ৯ ওভারে মাত্র ১৪ রান তুলতে পারেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ও তেজনারাইন চন্দরপল। পরে বোলিংয়ে এসে দুই ওপেনারকেই ফেরান কামিন্স। নিজের প্রথম ওভারেই তার শিকার চন্দরপল, তৃতীয় ওভারে ব্র্যাথওয়েট।
লাঞ্চের একটু আগে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে উইকেটের দেখা পান হেইজেলউড। বাঁহাতি আলিক আথানেজ বোল্ড হন বল ছেড়ে দিয়ে। হেইজেলউড পূর্ণ করেন ২৫০ টেস্ট উইকেট।
লাঞ্চের পর হেইজেলউড-কামিন্সের জোড়া আক্রমণে একের পর এক উইকেট হারায় ক্যারিবিয়ানরা। দুই অভিষিক্ত কাভেম হজ (১২) ও জাস্টিন গ্রিভসকে (৫) টিকতে দেননি হেইজেলউড।
একপ্রান্তে লড়াই করছিলেন তিনে নামা কার্ক ম্যাকেঞ্জি। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা এই বাঁহাতিকেও ৫০ রানে থামান হেইজেলউড।
সঙ্গে কামিন্স ও স্টার্কের আক্রমণে দেড়শর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার মুখে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকেই রোচ ও জোসেফের লড়াই। মাত্র ৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেই অভিষিক্ত পেসার জোসেফ ঝলক দেখান ব্যাটিংয়ে। তিনটি চারের পাশাপাশি ছক্কা মারেন হেইজেলউডকে। আরেকপাশে রোচ উইকেট আগলে রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের প্রথম অর্ধশত রানের জুটি আসে শেষ উইকেটে।
জোসেফকে ফিরিয়েই ৫৫ রানের জুটি থামান ন্যাথান লায়ন। রোচ অপরাজিত থাকেন ১৭ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে সবার দৃষ্টি ছিল মূলত স্মিথের দিকে। ১০৬তম টেস্টে প্রথমবার ওপেন করতে নামেন তিনি। ওপেনার হিসেবে প্রথম রানের দেখা পান তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে। আলজারি জোসেফকে পুল করে মারেন দুটি বাউন্ডারি। কিন্তু শামার জোসেফ আক্রমণে আসতেই শেষ তার পথচলা।
অফ স্টাম্পের একটু বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে স্মিথ ১২ রানে ধরা পড়েন স্লিপে। বাঁধনহারা দৌড়ে প্রথম বলেই উইকেট শিকার উদযাপন করেন জোসেফ।
টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই উইকেটের স্বাদ পাওয়া ২৩তম বোলার জোসেফ। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে তার আগে পেরেছিলেন কেবল একজনই। ১৯৩৯ সালে যা করেছিলেন বাঁহাতি ফাস্ট বোলার টাইরেল জনসন।
জোসেফ থামেননি সেখানেই। মার্নাস লাবুশেনের জন্য শর্ট বলের ফাঁদ পাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জোসেফের বলেই সেই ফাঁদে পা দিয়ে হুক করে সীমানায় ধরা পড়েন লাবুশেন।
আলজারি জোসেফের বলে ৩ রানে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে রক্ষা পাওয়া উসমান খাওয়াজা দিন শেষ করেন ৩০ রানে অপরাজিত থেকে। চার নম্বরে নতুন অধ্যায় শুরু করা ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ৬ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৬২.১ ওভারে ১৮৮ (ব্র্যাথওয়েট ১৩, তেজনারাইন ৬, ম্যাকেঞ্জি ৫৫, আথানেজ ১২, হজ ১২, গ্রিভস ৫, জসুয়া ৬, আলজারি ১৪, মোটি ১, রোচ ১৭*, শামার ৩৬; স্টার্ক ১২-৫-৩৭-১, হেইজেলউড ১৫-৬-৪৪-৪, কামিন্স ১৭-৫-৪১-৪, লায়ন ১২.১-২-৩৬-১, মার্শ ২-১-৫-০, গ্রিন ৪-১-১২-০)।
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২১ ওভারে ৫৯/২ (স্মিথ ১২, খাওয়াজা ৩০*, লাবুশেন ১০, গ্রিন ৬*; রোচ ৭-১-২১-০, আলজারি ৭-০-১৯-০, শামার ৬-১-১৮-২, মোটি ১-০-১-০)।
