ব্রুকসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে সাকিবদের বিদায়

প্রথম কোয়ালিফায়ারের পর দ্বিতীয়টিতেও হেরে গেলে গায়ানা, ব্যাটে-বলে অনুজ্জ্বল সাকিব।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Sept 2022, 04:25 AM
Updated : 29 Sept 2022, 04:25 AM

দলের পঞ্চাশ ছুঁতে লেগে গেল প্রায় ৮ ওভার। এরপর রানের গতিতে জোয়ার, ১৫ ওভার শেষে রান ১২৩। কিন্তু বাকি সময়ে যা হলো, সেটিকে টর্নেডো বা হারিকেন কিংবা সুনামি বললেও যেন কম বলা হয়। শেষ ৫ ওভারে রান উঠল ১০৩! সাকিব আল হাসানের এক ওভার থেকে এলো ২১। শামার ব্রুকসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি জ্যামাইকাকে পৌঁছে দিল শিরোপার লড়াইয়ে।

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সাকিবদের গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৩৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখল জ্যামাইকা তালাওয়াহস।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে শুরু হওয়া ম্যাচটি দলের মতো ভালো কাটেনি সাকিবের নিজেরও। বল হাতে ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য বাংলাদেশ অধিনায়ক, ব্যাটিংয়ে আউট হন ৬ বলে ৫ রান করে।

গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে জ্যামাইকা ২০ ওভারে তোলে ২২৬ রান। সিপিএলের এবারের আসরে যা দলীয় সর্বোচ্চ।

তিনে নেমে ৭ চার ও ৮ ছক্কায় ব্রুকস করেন ৫২ বলে অপরাজিত ১০৯। ৩৪ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর তার সেঞ্চুরি করতে লাগে আর স্রেফ ১৪ বল!

টি-টোয়েন্টিতে আগের ৫২ ম্যাচে তার ফিফটি ছিল স্রেফ দুটি, সর্বোচ্চ ছিল মাত্র ৫৩!

সাকিব ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারটি করে রান দেন ৬, পঞ্চদশ ওভারে দেন মাত্র ৩ রান। কিন্তু শেষ ওভারে হজম করেন তিন ছক্কা।

গায়ানা রান তাড়ায় যেতে পারে ১৮৯ পর্যন্ত। তবে সত্যিকার অর্থে জয়ের মতো চ্যালেঞ্জ তারা জানাতে পারেনি খুব একটা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা জ্যামাইকা প্রথম ওভারে হারায় কেনার লুইসকে, তৃতীয় ওভারে ব্র্যান্ডন কিংকে। তিনে নামা ব্রুকস বেঁচে যান ৫ রানে, উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

সেই ব্রুকস আস্তে আস্তে ভোগাতে থাকেন গায়ানাকে। তৃতীয় উইকেটে রভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে জুটি হয় ৩৭ বলে ৫৫ রানের। পাওয়েল বিদায় নেন ২৩ বলে ৩৭ রান করে।

নবম ওভার শেষেও ব্রুকসের রান ছিল ২০ বলে ২৩। পরে রানের গতি বাড়িয়ে ফিফটি করেন তিনি ৩৪ বলে। সিপিএলে তার আগের ফিফটি ছিল সেই ২০১৯ সালে।

পাঁচে নেমে রেমন রিফার ২২ রান করতে খেলে ফেলেন ২২ বল। তবে তার বিদায়ের পর সব পুষিয়ে দেন ব্রুকস ও ইমাদ ওয়াসিম। ব্যাটিং তাণ্ডবে স্রেফ ৩০ বলে ১০৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন। ম্যাচের ভাগ্যও গড়ে দেয় ওই জুটিই।

ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই ছক্কা মারেন ইমাদ। ওই ওভারেই ব্রুকস জীবন পান আরেকবার। ৫৩ রানে তার ক্যাচ নিতে গিয়ে ছক্কা বানিয়ে দেন কিমো পল।

১৬তম ওভারে আসে ১৬ রান। ১৭তম ওভারে সাকিবকে তিন ছক্কা মারেন ব্রুকস, ওভার থেকে আসে ২১ রান। ১৮তম ওভারে ১৭, ১৯তম ওভারে ২৩ আর শেষ ওভারে রান ওঠে ২৬।

৯২ রানে শেষ ওভার শুরু করে ব্রুকস টানা দুটি বাউন্ডারিতে স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। পরের বলে মারেন ছক্কা।

ইমাদ অপরাজিত থাকেন ১৫ বলে ৪১ রান করে।

গায়ানা রান তাড়ায় ওপেনার পল স্টার্লিংকে হারায় শুরুতেই। গুরবাজ ও শেই হোপের ঝড়ে তবু ৫ ওভারে ৫০ করে ফেলে দল। কিন্তু উইকেটও পড়তে থাকে নিয়মিত। ১৩ বলে ৩১ করে বিদায় নেন হোপ, ১৬ বলে ২২ গুরবাজ।

সাকিব চারে নেমে পাঁচটি সিঙ্গেল নেওয়ার পর আউট হন অস্ট্রেলিয়ান অফ স্পিনার ক্রিস গ্রিনের বলে। আর্ম বল স্লগ করতে গিয়ে তিনি টেনে আনেন স্টাম্পে।

৭৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে গায়ানার আশাও অনেকটা শেষ হয়ে যায়। পাঁচে নেমে কিমো পল ৩৭ বলে ৫৬ করেন। তবে জয় সরতে থাকে দূরে। শেষ দিকে গুডাকেশ মোটির ১৩ বলে ২১ ও ওডিন স্মিথের ১৪ বলে ২৪ রানের ইনিংসে ব্যবধান কমে কিছুটা।

শুক্রবার একই মাঠে বারবাডোজ রয়্যালসের সঙ্গে ফাইনালে খেলবে জ্যামাইকা। সাকিব ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন নিউ জিল্যান্ডে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক