‘বাংলাদেশের পাওয়ার হিটিং কোচ দরকার’

তবে টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতে হলে নিজস্ব স্কিলও প্রয়োজন বলে মনে করেন শেখ মেহেদি হাসান।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 01:32 PM
Updated : 26 July 2022, 01:32 PM

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিচরণ দেড় দশকের বেশি সময়। তারপরও এই সংস্করণে এখনও ধুঁকছে দলটি। কার্যকর কোনো পথই বের করতে পারেনি তারা। এক জায়গায় থমকে থাকা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পাওয়ার হিটিং কোচ প্রয়োজন বলে মনে করেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান।

তবে পাওয়ার হিটিং কোচ এলেই যে ব‍্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সব সমস‍্যার সমাধান হয়ে যাবে, তা নয়। শেখ মেহেদি মনে করেন, টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতে হলে নিজস্ব স্কিলও প্রয়োজন হবে

জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ‍্যমের মুখোমুখি হয়ে ভালো কিছুর জন্য আরও সময় চাইলেন শেখ মেহেদি।

“হ্যাঁ পাওয়ার হিটিং কোচের দরকার। তবে আপনার যে স্কিল আছে, কোচ হয়ত তা ১০ শতাংশ এগিয়ে দেবেন। কিন্তু ৩০ শতাংশকে ১০০ শতাংশে পৌঁছে দিতে পারবেন না।”

“আমরা জন্মগতভাবেই এরকম। রাতারাতি পরিবর্তন করা মনে হয় না সম্ভব। আমরা প্রায় ১৫ বছরের মত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছি। হলে আরও আগেই হয়ে যেত। যেহেতু হচ্ছে না, আমাদের এটা নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। পাওয়ার হিটিংয়ের কথা সবসময়ই আসে। কিন্তু এটা ঠিক না। আমাদের সামর্থ্যের বাইরে চাইলেও করতে পারবে না।”

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের অসংখ‍্য সমস‍্যার বেশিরভাগই ব‍্যাটিং নিয়ে। নেই কার্যকর উদ্বোধনী জুটি। কাজে লাগানো যায় না পাওয়ার প্লে। শেষে ঝড় তোলার মতো তেমন কোনো ফিনিশারও নেই।

পাওয়ার হিটিংয়ে ঘাটতি পুষিয়ে দিতে বাংলাদেশের চাওয়া স্কিল হিটিং। সেখানেও খুব একটা সফল নয় দল। প্রতি ম‍্যাচেই মাশুল দিতে হয় অসংখ‍্য ডট বল খেলার। শেখ মেহেদি মনে করেন, পাওয়ার হিটিং নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি স্কিল হিটিং নিয়েও কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

“দেখুন, আমরা বাংলাদেশি, আমরা কেউই পাওয়ার হিটার না। আমরা চাইলে আন্দ্রে রাসেল বা কাইরন পোলার্ড হতে পারব না। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে যেটুকু আছে তা দিয়ে যতটা উন্নতি করা যায়।”

“আমি চাইলেই প্রথম বলে ছক্কা মারতে পারব না। একটু ক্যালকুলেটিভ খেলতে হবে। ছক্কা মারতে না পারলে সিঙ্গেল, ডাবল, চার এগুলো দিয়ে পুষিয়ে দিতে হবে। তবে মাঝেমাঝে এমন পরিস্থিতিও থাকে ২ বলে ১০ বা ১২ রান লাগে। তখনকার হিসেব নিকেশ আলাদা। তখন ছক্কার দিকেই যাবেন। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু আছে ততটুকু চেষ্টা করব।”

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে বাংলাদেশের সবটাই হতাশায় মোড়ানো তা নয়। শেখ মেহেদি মনে করেন, বাংলাদেশের বোলিং যথেষ্ট শক্তিশালী।

“(টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করা সম্ভব কি না) অবশ্যই। সম্ভব না কেন? টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাঁচটা ভালো বোলার লাগে। আমাদের দলে বোলার আছে। যে ৭০ শতাংশ সামর্থ্য আছে ব্যাটাররা যদি এটাকে ৯০ শতাংশ করে দিতে পারতো, হয়তো ফলাফল আরও পক্ষে আসতো। গত বিশ্বকাপে বাজে ম্যাচ কম হয়েছে। ক্লোজ ম্যাচ ছিল, ছিটকে গেছি। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক