ব্যাটে-বলে অস্ট্রেলিয়াকে ভুগিয়ে ইয়ানসেনের প্রত্যয়, ‘বারবার ফিরে আসবই’
গেবেখা টেস্টে ব্যাট হাতে ৮৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলরাউন্ডার।
সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাটে-বলে খুব খারাপ করেননি মার্কো ইয়ানসেন। তবে তা যথেষ্ট ছিল না দলকে জেতানোর জন্য বা পার্থক্য গড়ে দেওয়ার জন্য। দ্বিতীয় টেস্টে তিনি দারুণভাবে জ্বলে উঠলেন ব্যাটে-বলে। বৃষ্টিতে প্রায় দুই দিন খেলা না হলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের মতো অবস্থানে নিয়ে আসতে বড় ভূমিকা তারই। গেবেখা টেস্টে দারুণ পারফরম্যান্সের পর এই অলরাউন্ডার বলছেন, এভাবেই বারবার নিজেকে মেলে ধরতে চান তিনি।
ডারবানে প্রথম টেস্টে ২৬ ও ৩৫ রানের দুটি ইনিংস খেলেন ইয়ানসেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে উইকেট নেন চারটি। ম্যাচটিতে ২১৪ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় টেস্টে বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতা মিলিয়ে প্রথম দুই দিনে খেলা হয় মাত্র ৪৩ ওভার। এর মধ্যেই বিপদে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় দিনে টেম্বা বাভুমার সঙ্গে যখন জুটি গড়েন ইয়ানসেন, দল তখন ধুঁকছে ১১১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে।
সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণ করেন ইয়ানসেন। দারুণ জুটি গড়েন বাভুমার সঙ্গে। বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। গড়ে ওঠে ১৩২ রানের জুটি। সেখানে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ইয়ানসেন করেন ৮৫ রান।
সেখানেই তার শেষ নয়। দল বড় স্কোর গড়ার পর বল হাতেও তিনি হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৩৩ রানে শিকার করেন ৫ উইকেট। ৯৯ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। গত ৩৮ বছরে মাত্র তৃতীয়বার ফলো-অনে পড়ে প্রবল প্রতাপশালী দলটি।
ফলো-অনের পর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এখনও পর্যন্ত কোনো উইকেট পাননি ইয়ানসেন। তবে ৯২ রানের যে জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছিল তারা, সেই জুটি ভাঙতে মার্নাস লাবুসেনের ক্যাচটি নেন তিনিই।
সব মিলিয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ইয়ানসেন বললেন, টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন পরীক্ষায় এভাবেই তিনি প্রতিবারই উপস্থাপন করতে চান নিজেকে।
"টেস্ট ক্রিকেট মানেই হলো দৃঢ়তা এবং ধারাবাহিকতার খেলা। খেলা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া খুব সহজ। আমাদের জন্য মূল ব্যাপার হলো যতদিন সম্ভব সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করা। পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলেই যে ঘুরে দাঁড়াতে হবে, এমনটা নয়। ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিকল্পনা মেনে চলাও ঘুরে দাঁড়ানোর একটি উপায় হতে পারে।
“টেস্ট ক্রিকেট সবার প্রতিটি দিক পরীক্ষা করে, তাই এই মনোভাব থাকতে হবে যে, যা-ই ঘটুক না কেন, আমি বারবার ফিরে আসবই।”
টেস্ট ক্যারিয়ারে এখনও শতরানের স্বাদ পাননি ইয়ানসেন। তবে ক্রমেই হয়ে উঠছেন কার্যকর এক অলরাউন্ডার। ২৩ টেস্টে তার ফিফটি এখন ৫টি। এবারের ৮৫ ছাড়াও তার ব্যাট থেকে ৮৪ ও ৯৩ রানের ইনিংসও এসেছে। যদিও এখনও তিনি মূলত বোলিং প্রধান অলরাউন্ডার, তবে ক্রমেই হয়ে উঠছেন পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার।
নিজের ব্যাটিংয়ে তার আস্থাও প্রবল।
“সবকিছুই নির্ভর করে আমার মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। হয়তো আমি টেকনিক্যালি সবচেয়ে দক্ষ নই বা আমার ব্যাটিং দেখতে সুন্দর নয়, কিন্তু আমি জানি আমি আমার হাতের ওপর ভরসা করতে পারি।
“যদি ইতিবাচকভাবে চিন্তা করি, তাহলে যে শটটিই খেলার চেষ্টা করি না কেন, তা কার্যকর করার জন্য নিজেকে সেরা সুযোগটি এমনিতেই দিয়ে দিই। কীভাবে খেলতে চাই, তা নিয়ে অতীতে কিছুটা সংশয় ছিল। তবে সবসময় ইতিবাচক বিকল্পটির দিকেই ঝুঁকে থাকার চেষ্টা করতাম।”
ইয়ানসেনের সঙ্গে ওই জুটির পর সাইমন হার্মারকে নিয়ে আরেকটি বড় জুটি গড়েন বাভুমা। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ার সেরা ১৭৯ রান করে আউট হন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ৯ নম্বরে নেমে হার্মার করেন ৮২ রান। ৯ উইকেটে ৪২৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইয়ানসেন জানালেন, এত বড় স্কোর তাদের ভাবনারও বাইরে ছিল।
“আমরা জানতাম যে আমাদের ভালো ব্যাট করতে হবে এবংসম্মানজনক স্কোর করতে হবে। এক পর্যায়ে আমরা ভেবেছিলাম ২৫০ রানই ভালো স্কোর হবে। সৌভাগ্যবশত, আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছি।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে শেষ করে চতুর্থ দিন। ইনিংস পরাজয় এড়াতেই এখনও ১৭০ রান প্রয়োজন তাদের। ৬ উইকেট নিয়ে শেষ দিন কাটিয়ে দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে।
