১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

১২ ছক্কায় ৪৩ বলে ১২১, বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে শানাকার রেকর্ড

দশম ওভারে ক্রিজে গিয়ে বিধ্বংসী ব্য্যাটিংয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার।

১২ ছক্কায় ৪৩ বলে ১২১, বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে শানাকার রেকর্ড
দাসুন শানাকার শতরানের উচ্ছ্বাস। ছবি: সিপিএল।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 12:21 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

শেষ ওভার শুরুর সময় দাসুন শানাকার রান ৯৩। সেঞ্চুরি কি হবে? ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে কৌতূহল, মাঠের সবাই উৎসুক। শানাকা অবশ্য সেই উত্তেজনা একদমই জিইয়ে রাখলেন না। ওভারের প্রথম দুই বলেই ছক্কায় পৌঁছে গেলেন শতরানে। তার নাম লেখা হয়ে গেল রেকর্ড বইয়ে।

শেষ নয় সেখানেই। পরের বলটিও উড়িয়ে দিলেন তিনি ছক্কায়। চতুর্থ বলে মারলেন চার। পরের বলে সিঙ্গলের সুযোগ থাকলেও নিলেন না। পরে ইনিংস শেষ করলেন শেষ বলটিও ছক্কায় উড়িয়ে! ৮ চার ও ১২ ছক্কায় ৪৩ বলে অপরাজিত ১২১!

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) সেন্ট কিটস অ্যান্ট নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে বৃহস্পতিবার সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে বিধ্বংসী এই ব্যাটিং প্রদর্শনী মেলে ধরেন শানাকা। সেঞ্চুরি করেন তিনি ৩৯ বলে, সিপিএলে যা দ্রুততম। 

৪০ বলে সেঞ্চুরির আগের রেকর্ড ছিল যৌথভাবে আন্দ্রে রাসেল, টিম সাইফার্ট ও শিমরন হেটমায়ারের। 

শানাকার ইনিংসটি আরও স্পেশাল আরেকটি কারণে। চার নম্বরে যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি, ইনিংসের দশম ওভার চলছে তখন। তার জন্য খেলা তখন তাই টি-টেন। সেই ১০ ওভারে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে খেললেন তিনি বড় ইনিংস।

৩৪ বছর বয়সী লঙ্কান ক্রিকেটারের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরান এটি। তবে এই সেঞ্চুরিটি এলো ৮ বছর পর।

ঘরের মাঠ ওয়ার্নার পার্কে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সেন্ট কিটস দ্বিতীয় ওভারে হারায় কাইল মেয়ার্সকে। আরেক ওপেনার জনসন চার্লস ২৬ রান করতে বল খেলেন ২৩টি। তার পরও দল শক্ত ভিত পায় আন্দ্রে ফ্লেচারের ব্যাটে। তিনে নেমে ৩৮ বলে ৬৪ রান করেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

দশম ওভারে ক্রিজে গিয়েও ১২১ রানের ইনিংস খেললেন শানাকা। ছবি: সিপিএল।

দশম ওভারে ক্রিজে গিয়েও ১২১ রানের ইনিংস খেললেন শানাকা

চার্লস আউট হওয়ার পর ক্রিজে যান শানাকা। একাদশ ওভারে জশুয়া বিশপকে দুটি চার মেরে শুরু করেন, পরের ওভারে দুটি ছক্কা মারেন রস্টন চেইসকে। সেই যে ছুটতে শুরু করলেন, আর থামাথামি নেই। 

কেওন গ্যাস্টনকে ছক্কা মেরে ফিফটি করেন ২৪ বলে। এরপর তার ব্যাট উত্তাল হয়ে ওঠে আরও। পরের ফিফটি করেন স্রেফ ১৫ বলেই।

স্বদেশি স্পিনার মাহিশ থিকসানাকে দুই ছক্কা ও একটি চার মারেন টানা তিন বলে। টানা দুটি ছক্কা মারেন ম্যাথু ফোর্ডকে। শেষ ওভারে তরুণ পেসার গ্যাস্টনকে গুঁড়িয়ে রান নেন ২৮।

স্বদেশি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে রান তোলেন ৩১ বলে ৯৩। সেখানে হাসারাঙ্গার অবদান স্রেফ ৬ বলে ৯ রান!

২০ ওভারে সেন্ট কিটস তোলে ২৩৮ রান। শেষ ৮ ওভারেই আসে ১০৮ রান, সেখানে শানাকা একাই করেন ৯০!

ব্যাটসম্যানদের রানের জোয়ারের পর সেন্ট কিটসের বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে ভেসে যায় সেন্ট লুইস। ওপেনিংয়ে সাইফার্ট ৩৬ বলে ৫০ করলেও আর কোনো ব্যাটসম্যান ১৫ রানও করতে পারেননি। ১৩.৫ ওভারেই গুটিয়ে যায় তারা ৯৮ রানে। সেন্ট কিটস ম্যাচ জিতে নেয় ১৩৭ রানে, সিপিএলে যা সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড।

২.৫ ওভার বোলিং করেই ১০ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন জেরেমিয়াহ লুইস। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এর আগে ৯টি ম্যাচ খেলে তার উইকেট ছিল মোটে ৩টি।

বিশাল এই জয়ে রান রেটও বাড়িয়ে নিয়েছে সেন্ট কিটস, প্লে অফে ওঠার লড়াইয়ে যা হতে পারে মহামূল্য।