১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিগ ব্যাশের আকর্ষণীয় চুক্তি উপেক্ষা করে দেশকেই বেছে নিলেন স্যান্টনার

বিগ ব্যাশে নাম লেখালে নিউ জিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে যেতে হতো, শেষ পর্যন্ত দেশের খেলাকেই প্রাধান্য দিলেন নিউ জিল্যান্ডের সাদা বলের দলের অধিনায়ক।

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 01:14 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

বিগ ব্যাশ আর অন্যান্য লিগে খেলতে নিউ জিল্যান্ডের একের পর এক ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে বেছে নিচ্ছেন ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তি। অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি থেকে একই হাতছানি ছিল মিচেল স্যান্টনারের সামনেও। প্রস্তাবটি এতটাই ভালো ছিল যে, গুরুত্ব দিয়েই ভাবতে বাধ্য হয়েছেন এই অলরাউন্ডার। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরিয়ে দিয়েছে প্রস্তাব। নিউ জিল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক মনোযোগ দিতে চান দেশের খেলাতেই।

বিগ ব্যাশ এমন সময়ে আয়োজিত হয়, নিউ জিল্যান্ডেও তখন ক্রিকেট মৌসুম। বিগ ব্যাশে নাম লেখালে তাই জাতীয় দলের অনেক ম্যাচই খেলা হয়ে ওঠে না। 

নিউ জিল্যান্ডের টিম সাইফার্ট, অ্যাডাম মিল্ন, লকি ফার্গুসন, ফিন অ্যালেনের মতো সীমিত ওভারের দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তিই বেছে নিয়েছেন। অবসর নেওয়ার আগে কেন উইলিয়ামসনও ছিলেন এই চুক্তিতে। সেখানে সবশেষ সংযোজন আগ্রাসী ব্যাটসম্যান মার্ক চ্যাপম্যান। 

নিউ জিল্যান্ডে ক্রিকেটে আর্থিক প্রাপ্তি খুব বেশি নয় বলে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এভাবেই ঝুঁকছেন অনেক তারকা। বিশ্বজুড়েই নিজ দেশের কেন্দ্রীয় চুক্তি বাদ দিয়ে বা দ্রুত অবসর নিয়ে তারকাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ঝুঁকে পড়া এখন নিয়মিতই দেখা যায়। 

স্যান্টনার সেখানে ব্যতিক্রমী নজিরই গড়লেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডকে বললেন, দেশের খেলাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতে চান। এমনকি টেস্ট দলে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও তিনি লড়াই চালিয়ে যতে যান। 

“মিথ্যা বলব না, প্রস্তাবটি ভালো ছিল। তারা জানত যে, চুক্তির শর্ত এবং সামনে যা কিছু আসবে, সবকিছু ভাবনায় রেখেও তাদের কথা বিবেচনা করতে হলে প্রস্তাবটি আকর্ষণীয়ই হতে হবে।

আমিও বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিলাম। কিন্তু আমাদের সামনে যা কিছু আছে, সেদিকে তাকালে দেখা যায়, টেস্টে আমি প্রতিটি ম্যাচ না খেললেও আমার মনে হয়, দলে আমার একটি ভূমিকা থাকবে।”

সাদা বলের দলের অধিনায়কত্বের ব্যাপারটিও ভাবনায় ছিল স্যান্টনারের। বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তিতে থেকেও হয়তো নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে পারতেন তিনি। তবে সেটিকে তার যথাযথ মনে হয়নি। 

“অধিনায়কত্ব ছাড়তে চাই না আমি। আমার জন্য তাই সিদ্ধান্তটি নেওয়া ছিল সহজ। 

অবশ্য এমন আলোচনাও হয়েছিল যে, একটা পথ বের করা যেত। কিন্তু আমার মনে হয়, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থেকে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাটা এই পর্যায়ে ঠিক হতো কি না, নিশ্চিত নই। আগামী বছর (ওয়ানডে) বিশ্বকাপ আছে। পরের বছর নিউ জিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমি এসবের এর অংশ হতে চাই। তখনও যদি দলের নেতৃত্ব দিতে পারি, তাহলে দারুণ হবে।”

তবে তার সতীর্থ যারা ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তি বেছে নিয়েছেন, তাদের বাস্তবতাও তিনি অনুধান করেন এবং তাদের প্রতি সম্মানও রাখছেন। 

“অন্যরা ক্যাজুয়াল চুক্তি নিলে তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। চারপাশে থাকা অন্যান্য সুযোগগুলোর জন্য আমরা অর্থের জোগান দিতে পারব না।

ক্যাজুয়াল চুক্তি করেও যদি ক্রিকেটারদের ধরে রাখা যায়, তাহলে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই সঠিক উপায়। আমরা এটাই চাই।”