Published : 01 Sep 2026, 08:36 PM
আগের বৈঠকের রেশ শেষ হয়ে যায়নি। এর মধ্যেই বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনায় বসল ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার এই বৈঠক শেষে সাইফ হাসান জানালেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বললেন, বিপিএল না হওয়ার আর্থিক ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবু বোর্ডের কাছ থেকে ভালো কিছুর আশ্বাস পেয়েছেন তারা, যেটিতে উপকার হবে ১৫০-২০০ ক্রিকেটারের।
বিপিএল যে এবার হচ্ছে না, সেই বাস্তবতা এখন মেনেই নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। বোর্ডের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনায় মূলক সম্ভাব্য বিকল্প খোঁজা হচ্ছে, যেটির মূল উদ্দেশ্য আর্থিক নিশ্চয়তা।
সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাইফ জানালেন তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু।
“বোর্ডের সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে আমাদের কতটা উপকার হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিপিএল যেহেতু হচ্ছে না, অবশ্যই আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। তবে বিসিবি আমাদের জন্য খুব ভালো একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রেখেছে, যেখানে শুধু বিপিএলের খেলোয়াড় নয়, বরং আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের যত খেলোয়াড় আছেন, সবার জন্যই তা উপকারী হবে। বোর্ড বিস্তারিত পরে জানাবে।”
আরও বিস্তারিত জানা গেল মিঠুনের কাছ থেকে। বিপিএলের বদলে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট হচ্ছে না বলেও নিশ্চিত করলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য আসরে পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে বলে আভাস মিলল তার কথায়।
“বিপিএল যে হচ্ছে না, এর বিকল্প কিছু করে ক্রিকেটারদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা এখন নেই এবং সেটি হবেও না। প্রশ্ন হলো, বিপিএলের পরিবর্তে কোনো কিছু হচ্ছে কি না। না, বিপিএলের পরিবর্তে কিছু হচ্ছে না। আমাদের যে খেলাগুলো, রুটিন অনুযায়ী হওয়ার কথা যেমন এনসিএল, বিসিএল এবং অন্যান্যগুলো, সেগুলোর মাধ্যমেই ক্রিকেটার আর্থিকভাবে কতটুকু উপকৃত হতে পারে, সেই দিকটি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।
কোয়াব সভাপতি জানালেন, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সবাই একমত হয়েই তার বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন।
“শুধু কোয়াব নয়, আমরা জাতীয় দলের অধিনায়কদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। যারা এখন দেশে নেই, তাদের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ হচ্ছে। কোনটি হলে ভালো হবে, সেসব বিস্তারিত আলোচনা করেই আমরা বোর্ডে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বোর্ড থেকে আমরা যে সাড়া পেয়েছি, তাতে আমাদের কাছে দুটি বিকল্প ছিল। একটি হলো, বিপিএলের পরিবর্তে সাময়িকভাবে আর্থিক সহায়তা নেওয়া, অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করা, যেটির মাধ্যমে ১৫০-২০০ ক্রিকেটার উপকৃত হবে।
আমাদের সাদা বল ও লাল বলের অধিনায়ক এবং সব সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি আমরা। শুধু ৫০-৭০ জন ক্রিকেটারের কথা চিন্তা না করে কীভাবে ১৫০-২০০ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে উপকৃত হতে পারে এবং বিষয়টি যেন টেকসই হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই বছরের সাময়িক সুবিধার কথা চিন্তা না করে আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবেছি, যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আরও বেশি উপকৃত হতে পারে।”
বিপিএলের আর্থিক ক্ষতি যে তাতে পুষিয়ে যাবে না, অকপটেই স্বীকার করলেন মিঠুন।
“(বিপিএল না হলে) ক্রিকেটারদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, এটি সবাই স্বীকার করবে। তবে ভবিষ্যতে আমরা কীভাবে ১৫০-২০০ ক্রিকেটারকে উপকৃত করতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। যেমন টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ ফি বাড়িয়ে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়া, যেন একজন ক্রিকেটার সারা বছর স্বচ্ছলভাবে চলতে পারে।
বোর্ড আমাদের সব বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। খুব শিগগিরই বোর্ড মিটিংয়ে এটি অনুমোদন হবে এবং বোর্ড আপনাদের জানিয়ে দেবে যে, ক্রিকেটাদের জন্য তারা কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে আমি আগেই বলেছি যে বিপিএলের ক্ষতি এই মুহূর্তে পূরণ করা সম্ভব নয়।”
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার পর ছোট পরিসরে আয়োজিত লিগে প্রত্যাশিত পারিশ্রমিক পাননি ক্রিকেটাররা। নতুন মৌসুমে থাকছে না বিপিএলও। ভবিষ্যতে তাকিয়ে ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা চান কোয়াব প্রধান।
“গত ৫ বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল খুব অনিয়মিত হয়ে গেছে। কোভিডের পর থেকে এই খেলাগুলো নিয়ে এবং পারিশ্রমিক নিয়ে আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। আমাদের দাবি ছিল যেন আমাদের জীবিকা শুধু বিপিএল বা প্রিমিয়ার লিগের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। ক্রিকেট বোর্ড এমন কিছু আয়োজন করবে, যার মাধ্যমে আমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত হবে। এরপর অবশ্যই আমরা বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগ আগের মতো নিয়মিতভাবে খেলতে চাই যেন খেলোয়াড়রা আরও বেশি লাভবান হতে পারে।”