Published : 03 Aug 2026, 10:46 AM
ম্যাচ শুরুর আগেই এক দফা আলোচনার ঝড়। আগের ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে যিনি ছিলেন পাকিস্তানের সেরা বোলার, সেই মোহাম্মাদ আব্বাস একাদশেই নেই! ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনারদের ভালো শুরুর পর সেই আলোচনার তীব্রতা বেড়ে গেল আরও। পরে অবশ্য পাকিস্তানি বোলাররা ভালোভাবেই লড়াইয়ে ফিরল। তবে আবার তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ালেন জাস্টিন গ্রেভস। আগের ম্যাচে বল হাতে টানা পাঁচটি উইকেট মেডেন নেওয়া অলরাউন্ডার এবার ব্যাট হাতে ভোগালেন পাকিস্তানকে।
ত্রিনিদাদ টেস্টে ব্যাট-বলের তুমুল লড়াইয়ের প্রথম দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৫ উইকেটে ২৩৯। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতা মিলিয়ে খেলা হয়েছে এ দিন ৭৪ ওভার।
৬৪ রানে অপরাজিত আছেন গ্রেভস। দিন শেষ করেন তিনি অধিনায়ক রস্টন চেইসকে নিয়ে ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে।
ম্যাচের শুরুর ভাগে ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম, সব জায়গায় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আব্বাসকে একাদশে না রাখা। শুধু আগের ম্যাচে দারুণ বোলিংয়ের জন্যই নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজে তার সামগ্রিক রেকর্ডও দারুণ (৬ টেস্টে ২৯ উইকেট)। তবে টসের সময় অধিনায়ক বাবর আজম জানান, উইকেটের অবস্থা বুঝে বাড়তি স্পিনার খেলাতেই আব্বাসকে রাখা হয়নি।
তবে অফ স্পিনার সাজিদ খানকে একাদশে ফেরানোর পরও পেসার খেলেছেন দুজন। এদের মধ্যে একজনের অভিষেকও হয়েছে। নাসিম শাহর ছোট ভাই উবেইদ শাহ পেয়েছেন টেস্ট ক্যাপ। অভিষেকের দিনটিতে ব্যাটসম্যানের ভুলে একটি উইকেট উপহার পেলেও ২০ বছর বয়সী এই পেসার ছিলেন বেশ এলোমেলো। ৯ ওভারে রান দিয়েছেন ৫৬।
দুই পেসারের মধ্যে কেন আব্বাসের জায়গা হলো না, প্রশ্নটি তাই থাকছেই।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবিয়ানদের গতিময় শুরুতে আব্বাসকে নিয়ে প্রশ্ন আরও উচ্চকিত হয়। ব্র্যান্ডন কিং একের পর এক বাউন্ডারি আদায় করেন। ৯ ওভারেই রান উঠে যায় ৪৯।
এরপর মোহাম্মাদ আলির শর্ট বল সীমানার ফিল্ডারের হাতে তুলে দেন তেজনারাইন চান্দারপল (১৫)।
উইকেটে টার্ন ও গ্রিপ মিলতে থাকে বেশ দ্রুতই। দুই স্পিনার আলি উসমান ও সাজিদ খানও আক্রমণে আসেন বল বেশ নতুন থাকতেই। সাফল্যও পান দুজন।
দারুণ খেলতে থাকা কিং ৯ চারে ৪৬ রান করে ফেরেন উসমানের বলে। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা স্পিনিং অলরাউন্ডার পান প্রথম উইকেটের স্বাদ। সাজিদকে প্যাডল সুইপ খেলার চেষ্টায় উইকেট হারান কাভেম হজ (১০)।
শেই হোপ ও আমির জাঙ্গুর জুটি জমে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু ২৬ রান করে জাঙ্গু আউট হন উবেইদের লেগ স্টাম্পের ডেলিভারিতে আলগা শটে।
ইনিংসের প্রথম অর্ধশত জুটি গড়েন হোপ ও গ্রেভস। দুজনই বেশ সাবলিল ব্যাট করছিলেন। কিন্তু হোপের (২৯) বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। আলির বলের শরীর থেকে দূরে ডিফেন্স করার চেষ্টায় ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল ছোবল দেয় স্টাম্পে।
ম্যাচে তখন পাকিস্তানেরই দাপট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৫ উইকেটে ১৭৩। সেখান থেকেই গ্রেভস ও চেইসের প্রতিরোধ।
জুটি ভাঙতে পেস ও স্পিন ঘুরিয়েফিরিয়ে ব্যবহার করেছেন অধিনায়ক বাবর। কিন্তু গ্রেভস ও চেইস দারুণ আস্থায় ব্যাট করে পার করে দিয়েছেন দিন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৭৪ ওভারে ২৩৯/৫ (চান্দারপল ১৫, কিং ৪৬, হজ ১০, জাঙ্গু ২৬, হোপ ২৯, গ্রেভস ৬৪*, চেইস ৩৬*; আলি ১৭-৫-৪৯-২, উবেইদ ৯-০-৫৬-১, উসমান ২৫-৫-৬৪-১, সাজিদ ২২-২-৫৫-১, সালমান ১-০-৪-০)।