বিশ্বকাপ-বিতর্ক ও অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘চিন্তা হচ্ছে’ শান্তর
‘অস্বীকার করার এখানে কিছুই নেই, ক্রিকেটার হিসেবে চিন্তা হচ্ছে’, অকপটেই বললেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
‘বিপিএল শেষ হলো, সামনে বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না…’, প্রশ্ন এটুকু হতেই নাজমুল হোসেন শান্ত বললেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না?’ তার কথায় ও মুখভঙ্গিতে পাল্টা প্রশ্ন কিংবা কৌতূহলের চেয়েও বেশি মিশে থাকল আসলে কৌতুকের সুর। তিনি নিজে তো হাসলেনই, হেসে উঠলেন সংবাদকর্মীদের অনেকেই। বাস্তবতা তো সবাই জানেন!
হাসির আবহ ছড়ালেও শান্তর মনে আসলে দুর্ভাবনার ছায়া। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তবে বাস্তবতা বলে, কেবল আনুষ্ঠানিকতাই বাকি। যে কোনো মুহূর্তে হয়তো জানা যাবে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না গেলে আর্থিক ক্ষতির বাইরেও নানা ক্রিকেটীয় প্রতিবন্ধকতার চোখরাঙানি আছে। ক্রিকেটারদের সেসব অনুমান করতে না পারার কারণ নেই। যদিও তাদের মুখ খোলার উপায়ও নই। আচরণবিধির বাঁধনে আটকা তারা।
সেসব বিধিনিষেধের জালের মধ্যেও কিছুটা সাহসী হলেন শান্ত। বিশ্বকাপে না গেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা হয় কি না, এমন প্রশ্নে বিপিএল ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক বললেন, “চিন্তা তো একটু হয়। অবশ্যই চিন্তা হয়। ভবিষ্যতে তো আমরা কেউই জানিনা। চিন্তা একটু হচ্ছে। অস্বীকার করার এখানে কিছুই নেই, ক্রিকেটার হিসেবে চিন্তা হচ্ছে।”
‘কেমন চিন্তা হচ্ছে?’, এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার পর অবশ্য আর গভীরে না গিয়ে হালকা চালে ব্যাপারটি কাটিয়ে যেতে চাইলেন এই কথা বলে যে, “বলতে গেলে অনেক রাত হয়ে যাবে…।”
ক্রিকেটারদের চিন্তা অবশ্য নীতি-নির্ধারকরা খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না। বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার কথা গত ৪ জানুয়ারি আইসিসি জানায় বিসিবি। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা চিঠি পাঠানোর পরের দু্ই সপ্তাহের বেশি সময়ে ক্রিকেটারদের মতামত নেওয়া বা আলোচনা করা হয়নি বিসিবি বা সরকারের পক্ষ থেকে। সিদ্ধান্ত জানানোর ১৮ দিন পর অবশেষে বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তারা। তবে সেখানে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথাই তারা জানিয়ে দেন। ক্রিকেটারদের কথা শোনার আগ্রহ তাদের ছিল না ততটা।
গত বুধবার বিপিএলের ম্যাচ শেষেই সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছিলেন, ক্রিকেটারদের চাওয়া বিশ্বকাপে খেলা।
“ক্রিকেটার হিসেবে আমরা সবসময় চাই ক্রিকেট খেলতে। আর বিশ্বকাপের মতো ইভেন্ট হলে তো অবশ্যই…কেন নয়? কারণ এই ধরনের ইভেন্ট দুই বছর পর পর আসে। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ চার বছর পর পর আসে। আমার মনে হয়, আমাদের জন্য এটা সুযোগ ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলার।”
এখানে অনেক ইস্যু আছে, সেই বিষয়গুলো ব্যক্তিগতভাবে আমি শতভাগ জানি না। আমি বিশ্বাস করি যে, এই বিষয়গুলো সুন্দরভাবে সমাধান করে যদি সুযোগ হয়, বিশ্বকাপে ক্রিকেটাররা যদি যেতে পারে, অবশ্যই ভালো হবে। ভেতরের আসলে কী হচ্ছে না হচ্ছে, এ বিষয় আমি যেহেতু জানি না, মন্তব্য করা কঠিন। ক্রিকেটার হিসেবে তো অবশ্যই আমরা খেলতে চাই।”
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাংলাদেশ ক্রিকেট যে এখন অনিশ্চয়তার মোড়ে আছে, সেটি ফুটে উঠল শান্তর আরেকটি কথায়ও। সংবাদ সম্মেলনে শেষ দিকে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি জানেন পরবর্তী কোন টুর্নামেন্টে খেলবেন বা পরের খেলা কবে, শান্তর ঝটপট উত্তর, ‘না।’
