বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ পাকিস্তানের জন্য ‘যে কোনো ম্যাচের মতোই গুরুত্বপূর্ণ’
দুই দলই ছিটকে গেছে টুর্নামেন্ট থেকে, লড়াইটি এখন স্রেফ নিয়ম রক্ষার খাতিরে, তবু এই ম্যাচকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন পাকিস্তানের কোচ আকিব জাভেদ।
সংবাদ সম্মেলনের তখন ২৬ মিনিট পেরিয়ে গেছে প্রায়। এত দীর্ঘ সময় ধরে শুধু ভারতের বিপক্ষে পরাজয়, পাকিস্তানের ছিটকে পড়া, দল নির্বাচনের নানা সমস্যা, আগের ম্যাচগুলির পারফরম্যান্স এসব নিয়েই প্রশ্ন হচ্ছিল। অবশেষে পরদিনের ম্যাচটি নিয়ে প্রথম প্রশ্ন করলেন বাংলাদেশের একজন সংবাদকর্মী। আকিব জাভেদ বললেন, “থ্যাংক গড… আপনিই একজন, যে সামনে তাকাচ্ছেন…!” এটুকু বলেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন পাকিস্তানের কোচ।
নিউ জিল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পরই পাকিস্তানের সমালোচনার মৃদু হাওয়া বইছিল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ছিটকে পড়ার পর তা রূপ নিয়েছে ঘুর্ণিঝড়ে। সাবেক ক্রিকেটার, বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় চলছে পাকিস্তানের বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে।
দেশজুড়ে ক্রিকেট অনুসারী থেকে শুরু করে সবার হতাশাও প্রবল। ২৯ বছর পর আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে পাকিস্তান। নিজেদের আঙিনায় সেই উৎসবে নিজেরাই দর্শক হয়ে গেছে এক সপ্তাহ হওয়ার আগেই।
বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে আকিব জাভেদকে। পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক তিনি, এই টুর্নামেন্ট পর্যন্ত দলের অন্তর্বতীকালীন প্রধান কোচও। বলাবলি হচ্ছি, ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির পর পাকিস্তান ক্রিকেটে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি আকিব। দলের এমন ব্যর্থতার পর তাই তাকে তুলাধুনা করা হচ্ছে।
রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন একের পর এক প্রশ্নের তোপ ছুটে গেল আকিবের দিকে। সাবেক এই পেসার সময় নিয়ে লম্বা উত্তর দিচ্ছিলেন প্রতিটি প্রশ্নের।
অবশেষে একটা পর্যায়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন হলো। আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ম্যাচ দুই দলের জন্যই। তবে পাকিস্তান কোচের কাছে এই ম্যাচও দারুণ অর্থবহ।
“ক্রিকেটে আমরা বাইরের লোকেরা শুধু নির্দিষ্ট ম্যাচগুলো দেখি। একজন ক্রিকেটারের কথা বললে, তার এখানে (মনের ভেতর) কী হচ্ছে, ওখানে (মাথায়) কী চলছে… প্রতিটি ম্যাচই প্রচুর চাপ বয়ে আনে। ব্যাট করতে নামার সময় সহজ বলে কিছু নেই। সবসময় শূন্য থেকে শুরু করতে হয়।”
“দেখুন, এটা বিশ্বকাপ নয়, এটা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এখানে প্রাক-বাছাই বলে কিছু নেই, শীর্ষ আটটি দল এখানে খেলছে। কালকের ম্যাচও যে কোনো ম্যাচের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাজে অবস্থায় থাকলে সেখান থেকে ছাপ রাখার দাড়না থাকে ও জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ থাকে। কালকের দিনটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এভাবেই আমরা কঠোর পরিশ্রম করব, কালকের ম্যাচে তাকাব এবং সামনে এগিয়ে এগিয়ে যাব।”
রাওয়ালপিন্ডিতে বৃহস্পতিবার ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটায়।
