১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

১৪ বলে ফিফটি, ৩৫ বলে সেঞ্চুরি, সোহানের রেকর্ডময় ইনিংস

১০ ছক্কার বিধ্বংসী ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম ফিফটি ও দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন হাবিবুর রহমান সোহান।

১৪ বলে ফিফটি, ৩৫ বলে সেঞ্চুরি, সোহানের রেকর্ডময় ইনিংস
হাবিবুর রহমান সোহানকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন জিসান আলম। ছবি: এসিসি।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Nov 2025, 10:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:07 PM

৫ ওভার শেষে এক ওপেনারের রান ৩, আরেকজনের ৮৮! এতেই বোঝা যাচ্ছে, কতটা বিধ্বংসী ছিলেন হাবিবুর রহমান সোহান। এক পর্যায়ে তার সামনে হাতছানি ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডেরও। সেটি শেষ পর্যন্ত পারেননি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম ফিফটি ও দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি ঠিকই।

এশিয়া ক্রিকেট কাউন্সিল রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে সোহানের বিস্ফোরক ইনিংসে হংকংকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে আসর শুরু করল বাংলাদেশ ‘এ।’

কাতারের দোহায় শনিবার হংকংয়ের ১৬৭ রান স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। হংকংয়ের দুর্বল বোলিং গুঁড়িয়ে ম্যাচ শেষ করে দেয় তারা কেবল ১১ ওভারেই।

১৪ বলে ফিফটি করে রেকর্ড গড়ার পর হাবিবুর ৩৫ বলে শতরান ছুঁয়েছেন গড়ে ফেলেন আরেকটি রেকর্ড। ৮ চার ও ১০ ছক্কায় ৩৫ বলে ঠিক ১০০ রানেই অপরাজিত থাকেন তিনি।

আসরের উদ্বোধনী দিনে শুক্রবার ওমানের বিপক্ষে ৩২ বলে শতরান করে ভারতের বৈভাব সুরিয়াভানশি। পরদিন তাকে মনে করালেন সোহান।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে লিস্ট 'এ' ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, দুটিতেই দ্রুততম শতরানের কীর্তি এখন সোহানের। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরিটি ৪৯ বলে।  

সোহান তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর আকবর আলি ম্যাচ শেষ করেন টানা পাঁচটি ছক্কায়। বাংলাদেশ অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ১৩ বলে ৪১ রান করে।

এসিসি ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ নাম পরিবর্তন করে এবার থেকে হয়ে গেছে রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্ট।

দোহার ওয়েস্ট এন্ড পার্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা হংকং প্রথম ওভারে হারায় উইকেট। অভিজ্ঞ জিশান আলিকে বিদায় করেন রিপন মন্ডল। 

খুব ভালো করতে পারেননি আনশি রাথ ও নিজাকাত খানও। তিনে নেমে দলকে টেনে নেন বাবর হায়াত। ৪৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। 

১০ ওভারে হংকংয়ের রান ছিল ৬৫। ইনিংস গতিময় হয় মূলত ইয়াসিম মুর্তাজার ব্যাটে। তিন ছক্কায় ২২ বলে ৪০ রান করেন হংকং অধিনায়ক।

আবু হায়দারের করা শেষ ওভারে চারটি ছক্কায় রান আসে ২৬। এর মধ্যে তিনটি ছক্কা মারেন কিঞ্চিত শাহ একাই। 

শেষ তিন ওভারে হংকং তোলে ৩৮ রান।

হংকং যেখানে শেষ করে, সেখান থেকেই শুরু করে বাংলাদেশ। রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই আতিক ইকবালকে তিনটি ছক্কায় উড়িয়ে দেন সোহান। পরের  ওভারে তার ব্যাট থেকে আসে টানা তিনটি চার একটি ছক্কা। পরের ওভারে মুর্তাজার টানা তিন বলে ছক্কা-চার-ছক্কায় তৃতীয় ওভারেই ফিফটি করে ফেলেন তিনি ১৪ বলে। 

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ১৬ বলে ফিফটির আগের রেকর্ড করেছিলেন শুভাগত হোম।

সেখানেই না সোহানের ব্যাট কচুকাটা করতে থাকে হংকংয়ের বোলারদের। চার-ছক্কার জোয়ার বইতে থাকে।

৫ ওভার শেষে সোহানের রান ছিল ২৪ বলে ৮৮। অবিশ্বাস্যভাবে, তখনও পর্যন্ত দৌড়ে কোনো রানই নেননি তিনি! সব রানই ছিল বাউন্ডারি থেকে, ১০ ছক্কা ও ৭ চার।

পরের দুই বলে ছক্কা মারতে পারলে দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিতে পারতেন সোহান। তবে সেটি হয়নি।

তখনও পর্যন্ত জিসান আলম ছিলেন স্রেফ দর্শক। তিনি নিজেও যথেষ্ট আগ্রাসী ব্যাটসম্যান। কিন্তু ৫ ওভার শেষে তার রান ছিল ৬ বলে কেবল ৩।

ষষ্ঠ ওভারে তিনটি চারে নিজেকে অস্তিত্ব জানান দেন জিসান। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ তোলে ১০৭ রান।

পরের ওভারে আরেকটি চার মেরে জিসান আউট হয়ে যান সীমানায় ধরা পড়ে (১৪ বলে ২০)।  তিনে নামা জাওয়াদ আবরার (২) টেকেননি বেশিক্ষণ। সোহান ও আকবর শেষ করেন কাজ।

টি-টোয়েন্টিতে আগে এক দফায় ৯৪ রান করে আউট হয়েছিলেন সোহান। এবার শতরানের কাছে গিয় সতর্কতার পথ বেছে নেন তিনি। ২৪ বলে ৮৮ থেকে পরের ১২ রান করতে তিনি বল খেলেন ১১টি। রেকর্ড হয়ে যায় তাতেও। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আগের দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল পারভেজ হোসেন ইমনের (৪২ বলে)।

ওই ওভারের পরের পাঁচ বলে ছক্কায় দাপটে খেলা শেষ করে দেন আকবার।

পরের ম্যাচে সোমবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান 'এ।' গ্রুপের অন্য দল শ্রীলঙ্কা 'এ'।

এই টুর্নামেন্টে আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর 'এ' দল অংশ নিচ্ছে, সহযোগী দেশগুলোর খেলছে জাতীয় দলই। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

হংকং: ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (জিশান ৭, আনশি ১৬, বাবর ৬৩, নিজাকাত ৮, মুর্তাজা ৪০, আইজাজ ৩, শিব ১২, কিঞ্চিত ২০, নাসরুল্লা ০*; রিপন ৪-০-২৪-২, আবু হায়দার ৪-০-৪৫-০, সাকলাইন ৪-০-৩২-১, মেহরব ৪-০-৩১-২, রকিবুল ৪-০-৩৫-০)।

বাংলাদেশ ‘এ’: ১১ ওভারে ১৭১/২ (সোহান ১০০*, জিসান ২০, জাওয়াদ ২, আকবর ৪১*; আতিক ২-০-৩৬-১, নাসরুল্লা ১-০-১৯-০, মুর্তাজা ১-০-১৭-০, এহসান ৩-০-৩৩-১, আইজাজ ৩-০-৩১-১, কিঞ্চিত ১-০-৩১-১)।

ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: হাবিবুর রহমান সোহান।