১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অপারেটরের ভুলে বেঁচে যান কেয়ারি, দায় স্বীকার স্নিকো কোম্পানির

সিরিজ জুড়ে প্রযুক্তির মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ ডেভিড সেকার।

অপারেটরের ভুলে বেঁচে যান কেয়ারি, দায় স্বীকার স্নিকো কোম্পানির
অপারেটরের ভুলে বল ব্যাটে যাওয়ার অনেক আগেই স্পাইক ধরা পড়ে

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Dec 2025, 07:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:20 PM

চলমান অ্যাশেজ সিরিজে আবারও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে। স্নিকোমিটারে স্পাইক ধরা পড়ার পরও অ্যালেক্স কেয়ারির আউট হওয়া থেকে বেঁচে যাওয়ার পেছনে অপারেটরের ভুল ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছে স্নিকোর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। 

অ্যাডিলেইড টেস্টের প্রথম দিন বুধবার অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ৬৩তম ওভারের ঘটনা এটি। পেসার জশ টংয়ের অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কেয়ারি। তার ব্যাট ঘেঁষে বল জমা হয় কিপার জেমি স্মিথের গ্লাভসে। বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিপারসহ ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররা তাৎক্ষণিকভাবে কট বিহাইন্ডের আবেদন করেন। মাঠের আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। 

রিপ্লেতে স্নিকোমিটার প্রযুক্তিতে স্পষ্ট স্পাইক ধরা পড়ে, তবে সেটা বল কেয়ারির ব্যাটে পৌঁছানোর বেশ আগে। টিভি আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানি বলেন, তার বিশ্বাস ব্যাট ও বলের মাঝে ফাঁক আছে। মাঠের আম্পায়ার রাজাকে তার মূল সিদ্ধান্তে অটল থাকার পরামর্শ দেন তিনি। 

তখন ৭২ রানে ব্যাট করছিলেন কেয়ারি। পরে তিনি করেন সেঞ্চুরি। ১৪৩ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলা এই কিপার-ব্যাটসম্যান দিনের শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বল ব্যাটে লেগেছিল বলে মনে হয়েছিল তার। 

“আমার মনে হয়েছিল, বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো ধরনের শব্দ হয়েছিল। রিপ্লেতে ঘটনা কিছুটা মজার লাগছিল তাই না, শব্দটি তাড়াতাড়ি আসছিল? যদি আমাকে আউট দেওয়া হতো, আমার মনে হয় আমি রিভিউ নিতাম, হয়তো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নয়। বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি শব্দ হয়েছিল, হ্যাঁ।”

“স্পষ্টতই স্নিকোতে মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি, ক্রিকেটে কখনও কখনও এমন হয়। কখনও কখনও ভাগ্য কিছুটা সহায় হয়।”

বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিভিউতে ব্যবহৃত শব্দ স্ট্রাইক প্রান্তের পরিবর্তে বোলারের প্রান্তের স্টাম্প মাইক থেকে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে টিভি আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানিকে দেখানো ছবি ও শব্দ তরঙ্গের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় টেস্টে ব্যবহৃত প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিবিজি স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ওয়ারেন ব্রেনান দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘দা এজ’কে বলেন, অপারেটরের ভুলের কারণেই হয়েছে এমনটা।

“যেহেতু অ্যালেক্স কেয়ারি স্বীকার করেছেন যে, বল ব্যাটে লেগেছিল, তাই এর থেকে একমাত্র সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে, ওই সময়ে স্নিকো অপারেটর অডিও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ভুল স্টাম্প মাইক বেছে নিয়েছিলেন। এর আলোকে, বিবিজি স্পোর্টস ভুলের জন্য পুরো দায় নিচ্ছে।”

এবারের অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে জেমি স্মিথের বিতর্কিত আউটের পরও স্নিকোর ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল প্রবল। সিরিজ জুড়ে প্রযুক্তির মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ ডেভিড সেকার। ইংল্যান্ড ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রোর কাছে অভিযোগ করার কথা বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।

“আমার মনে হয় না, আমরা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু করেছি, তবে আজকের পর হয়তো, (এমন ঘটনা) একটু বেশিই হয়ে গেছে। পুরো সিরিজেই এটি (প্রযুক্তি) নিয়ে উদ্বেগ আছে। দিনের খেলা শেষে আমাদের এই বিষয়ে কথা বলা উচিত নয়, যা হচ্ছে এর চেয়ে ভালো হওয়া উচিত।”