প্লে-অফের জন্য বড় তারকা আনায় বিশ্বাসী নয় চিটাগং
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে থাকা বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপরই আস্থা রাখছেন চিটাগং কিংসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন।
ফরচুন বরিশালে জিমি নিশাম, খুলনা টাইগার্সে জেসন হোল্ডার ও শিমরন হেটমায়ার, রংপুর রাইডার্সে আন্দ্রে রাসেল, জেমস ভিন্স ও টিম ডেভিড। বিপিএলের প্লে-অফে তিন দল নিজেদের বহরে যুক্ত করেছে নতুন ক্রিকেটার। কিন্তু সেই স্রোতে শামিল নয় চিটাগং কিংস। দলটির অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন বললেন, হুট করে বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নন তারা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার শুরু হয়ে গেছে বিপিএলের প্লে-অফ পর্বের খেলা। এ দিন সকালে ঢাকায় পৌঁছে দুপুরেই রংপুর ও খুলনার হয়ে খেলতে নেমে গেছেন রাসেল, ডেভিড, হোল্ডার, হেটমায়াররা। আইএলটি-টোয়েন্টির ব্যস্ততা শেষ করে ফেরা কাইল মেয়ার্স সন্ধ্যায় খেলেছেন বরিশালের হয়ে।
প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চিটাগংকে হারিয়ে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করার পর বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন নিউ জিল্যান্ডের পেস অলরাউন্ডার নিশাম। গত আসরে রংপুরের হয়ে খেলেছিলেন তিনি।
প্লে-অফের আগে বিদেশি ক্রিকেটার এনে দলের শক্তি বাড়ানোর আলোচনায় শুরু থেকেই একদম নীরব চিটাগং। নতুন করে কোনো ক্রিকেটারকে আনার পরিকল্পনাও নেই তাদের।
বরিশালের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার প্রথম সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে চিটাগং। পরে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিঠুন বলেন, শুরু থেকেই দলের সঙ্গে থাকা বিদেশি ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখছেন তারা।
“এখন পর্যন্ত এমন (বিদেশি ক্রিকেটার আনার) পরিকল্পনা নেই। আমরা আসলে এটায় বিশ্বাসীও না। শুধু বড় নাম হলেই হয় না। আমাদের যে বিদেশি ক্রিকেটাররা আছে, তারা পুরো টুর্নামেন্টটা খেলছে। এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। আমরা এটা বিশ্বাস করি না যে বড় নাম আনলেই ওরা ডেলিভার করে দেবে। নাও তো করতে পারে।”
মিঠুনের কথার সত্যতা মিলেছে এলিমিনেটর ম্যাচে। সকালে ঢাকায় পৌঁছে কোনো বিশ্রাম ছাড়াই দুপুরে খেলতে নেমে যাওয়া রাসেল, ভিন্স ও ডেভিড খুলনার বিপক্ষে ব্যাট হাতে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। তিন জনের সম্মিলিত সংগ্রহ স্রেফ ১২ রান। খুলনার হয়ে খেলা হোল্ডার একমাত্র ওভারে খরচ করেন ১৬ রান।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে একই অভিজ্ঞতা হয় চিটাগংয়ের। ম্যাচের দিন সকালে ঢাকায় এসে দুপুরে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারেননি উসমান খান, হায়দার আলিরা। সব কিছু মিলিয়ে মিঠুনের কাছে এটি আদর্শ কিছু নয়।
“(তাড়াহুড়ো করে এসে খেলতে নেমে যাওয়া) ক্রিকেটীয় দিক থেকে আদর্শ নয়। রংপুরের ক্রিকেটাররা আজকে সকালে পৌঁছেছে। দীর্ঘ ভ্রমণ করে জেট ল্যাগের ব্যাপার থাকে। প্রথম ম্যাচে আমাদেরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার সকালে এসে পৌঁছেছিল।”
“সেদিন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, মাঠে তারা শতভাগ দিতে পারছে না। তারাও পরে এটি বলেছে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি কখনও মনে করি না এটি আদর্শ কিছু। যত বড় ক্রিকেটারই হোক, আনার পর পরিপূর্ণ বিশ্রাম দিয়ে যদি খেলানো যায়, সেটা আদর্শ।”
দলের সঙ্গে থাকা বিদেশিদের ওপর আস্থা রাখা দলটির আরেকটি দুর্ভাবনার কারণ একাদশে কোনো অলরাউন্ডারের জায়গা দিতে না পারা। যে কারণে বেশিরভাগ ম্যাচেই ছয় ব্যাটসম্যানের সঙ্গে পাঁচ বোলার নিয়ে খেলতে হয়েছে তাদের।
বরিশালের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ৫ উইকেট পড়ার পর উন্মুক্ত হয়ে গেছে চিটাগংয়ের লেজের ব্যাটিং। সাত নম্বরে খেলেছেন পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। তার পরে ছিলেন শরিফুল ইসলাম, আলিস আল ইসলাম, আরাফাত সানি ও বিনুরা ফার্নান্দো।
তিনটি ম্যাচে রাহাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে অলরাউন্ডার অভার পূরণের চেষ্টা করেছে চিটাগং। কিন্তু তিনি ভালো কিছু করতে পারেননি। তাই বাড়তি ব্যাটসম্যানের কথা আর চিন্তাই করতে চান না দলের অধিনায়ক।
“পুরো টুর্নামেন্ট আমরা এভাবেই (ছয় ব্যাটসম্যান) খেলছি। আমাদের বিকল্প নেই। এখন নয়, প্রথম ম্যাচ থেকেই এটা (ব্যাটসম্যানের অভাব) মনে হয়েছে। তবে এটা আমরা মনে করতে চাই না। যেহেতু পুরো টুর্নামেন্ট এভাবেই খেলেছি, ভালো করেছি, এখন আর তাই এসব ভাবতে চাই না। ওপরে যে ছয় ব্যাটসম্যান আছি, তারাই দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
বরিশালের কাছে হারলেও শেষ হয়ে যায়নি চিটাগংয়ের আশা। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বুধবার খুলনার মুখোমুখি হবে তারা।
