Published : 11 Sep 2026, 03:47 PM
আটটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেও ফিফটি নেই। ব্যাটিং গড় ১৪.৩৫। সর্বোচ্চ ইনিংস ৩২ রানের। তার পরও রকি ফ্লিন্টফের ওপর আস্থা হারায়নি ল্যাঙ্কাশায়ার। বিখ্যাত বাবার সন্তান তিনি, এজন্য অবশ্যই নয়। বরং তার প্রতিভার ওপর ভরসা রেখেছিল দল। অবশেষে হাসল তার ব্যাট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ফিফটিতে খানিকটা হলেও তিনি জিইয়ে রাখলেন দলের জয়ের আশা।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে বৃহস্পতিবার গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন রকি। প্রবল চাপের মধ্যে সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৬৬ বলের ইনিংসে ৯ চার ও ১টি ছক্কা মারেন ১৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
২৪৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে নেমে বিপর্যয়ে পড়া ল্যাঙ্কাশায়ার কিছুটা সামলে নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করে ৬ উইকেটে ১২০ রানে।
রকির প্রতিভা নিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটে আলোড়ন চলছে গত বছর দুয়েক ধরেই। ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের হয়ে প্রথম শতরান করেন তিনি ১৬ বছর বয়সেই। এর কদিন পর ডাক পান ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। ১৬ বছর বয়সেই প্রথম পেশাদার চুক্তিতে সই করেন ল্যাঙ্কাশায়ারে।
১৬ বছর বয়সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যুব টেস্টে শতরান করে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। ওই বয়সেই অভিষেক হয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরেও জায়গা পেয়ে যান ১৬ বছর বয়সেই, যেখানে কোচ ছিলেন তার বাবা অ্যান্ড্রু।
ওই সফরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ব্রিজবেনে ৯ নম্বরে নেমে ৯ চার ও ৬ ছক্কায় ১০৮ রানের ইনিংসও উপহার দেন।
গত বছর দা হান্ড্রেডে দল পেয়ে যান তিনি। যদিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি বাবার কোচিংয়ের দল নর্দান সুপারচার্জার্সের হয়ে।
ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে তার ভালোভাবে ছাপ রাখার শুরু এই মৌসুম থেকেই। গত মাসে ওয়ানডে কাপে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলার পরের ম্যাচেই ৬৫ বলে সেঞ্চুরি করেন সমারসেটের বিপক্ষে। পেশাদার ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতে ৭৬ বলে ১২৩ রানের ইনিংস খেলেন ৭ ছক্কায়।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যদিও প্রতিভার সেই ঝলক দেখাতে পারছিলেন না। ওয়ানডে কাপ শেষে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি ম্যাচ খেলে পাঁচ ইনিংস মিলিয়ে রান করেন ৬৪। তবু তাকে সুযোগ দিয়ে যায় দল। গ্লস্টারের বিপক্ষে এই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে আউট হন ৯ রানে। অবশেষে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন।
পাঁচ নম্বরে যখন তিনি ক্রিজে যান, তখন ২৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে দল। পরে রান হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৫৭। রকির ইনিংসের সৌজন্যে তবু আশা নিয়ে দিন শেষ করে ল্যাঙ্কাশায়ার।
রকির দুই বছরের বড় ভাই কোরি ফ্লিন্টফও ক্রিকেটার। বাবার মতো তিনি পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তবে বাবা ও ছোট ভাইয়ের মতো ল্যাঙ্কাশায়ারে নয়, তিনি খেলছেন কেন্টে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে চারটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। আপাতত খেলছেন কেন্টের দ্বিতীয় একাদশে।