১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইমরান খানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন সাবেক অধিনায়করা, পাকিস্তান সরকারকে চিঠি

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের যথাযথ চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে ছয় মাসের ব্যবধানে এটি তাদের দ্বিতীয় চিঠি।

ইমরান খানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন সাবেক অধিনায়করা, পাকিস্তান সরকারকে চিঠি
ইমরান খান। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 10:23 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

কারাবন্দি পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সরকারকে আবারও চিঠি লিখেছেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে তাদের দ্বিতীয় চিঠি এটি।

ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারসহ মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে পুনরায় আবেদন জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও ভারতের সাবেক কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের উদ্যোগে এই চিঠিতে অ্যালান বোর্ডার, ইয়ান চ্যাপেল, মাইক গ্যাটিং, আর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, অ্যালেস্টার কুক, ক্লাইভ লয়েড, মাইকেল আথারটন, নাসের হুসেইন, মাইক ব্রিয়ারলিসহ আরও অনেকে স্বাক্ষর করেছেন।

এই সপ্তাহে ইমরানের সংক্ষিপ্ত ডাক্তারি পরীক্ষা হওয়ার পর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ওই চিঠি লিখেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।

১৪ জন সাবেক অধিনায়কের গত ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো চিঠির ধারাবাহিকতায় এবারের চিঠিটি লেখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠিটি পাঠানো হয়। ওই আদেশে ইমরানকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে তার নিজের চিকিৎসক ও বোন ডা. উজমা খানসহ একটি মেডিকেল বোর্ডের তাকে পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগও পুনর্বহাল করার কথা বলা হয়।

কিন্তু হাসপাতালে ইমরানের অবস্থান মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এরপরই তাকে আবার আদিয়ালা জেলে ফেরত পাঠানো হয়, যেখানে গত তিন বছর ধরে বন্দী আছেন তিনি।

সাবেক অধিনায়কদের চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট অনুরোধ করা হয়েছে: আদালত নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে যেন তাদের স্বাধীন মূল্যায়ন সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়; সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগ যেন পুনর্বহাল করা হয় এবং মূল্যায়নে সুপারিশকৃত যেকোনো চিকিৎসা যেন অবিলম্বে প্রদান করা হয়।

আদালতের নির্দেশিত বোর্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্র নিযুক্ত একটি মেডিকেল টিম ইমরানকে পরীক্ষা করে তাকে ‘মেডিক্যালি ফিট’ ঘোষণা করে এবং সেই বোর্ড তাদের কাজ শেষ করার আগেই তাকে আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমরানের পরিবার ও আইনি দলের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ আদালতের আদেশের পরিপন্থী।

গ্রেগ চ্যাপেল বলেন, “আমরা পাকিস্তানের কাছে অস্বাভাবিক কিছু চাইছি না, শুধু চাইছি আদালতের একটি আদেশ, যা বেশিরভাগ দেশই স্বাভাবিক ধরে নেয়, তা যেন কার্যকর করা হয়।”

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা নিজেদেরকে ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা সম্পর্কে সাবেক সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে চান না।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।

২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন ইমরান এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।

পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত। ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সাবেক অধিনায়করা:

মাইকেল আথারটন, অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল, অ্যালান বোর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যালেস্টার কুক, মাইক গ্যাটিং, সুনিল গাভাস্কার, লি জার্মন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কাপিল দেব, আর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, দিলিপ ভেঙ্গসারকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট।