২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

১৪ উইকেটের দিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে ইংল্যান্ডের লিড

সিরিজের মাঝপথে স্কোয়াড ও কোচিং স্টাফে ব্যাপক পরিবর্তন এনেও আরেকবার হতশ্রী ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ১৩৩ রানে গুটিয়ে গেল পাকিস্তান।

১৪ উইকেটের দিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে ইংল্যান্ডের লিড
পাকিস্তানের ওপেনার সাইম আইয়ুবের উইকেট নেওয়ার পর অলি রবিনসনের উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 01:38 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

সিরিজের মাঝপথে স্কোয়াডে একগাদা পরিবর্তন, কোচিং স্টাফে রদবদল, কিন্তু মাঠে সেই পুরনো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি। আরও একবার মুখ থুবড়ে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটিং। ম্যাচের প্রথম দিনেই লিড পেয়ে গেল ইংল্যান্ড। 

এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন ১৩৩ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। এই সিরিজে টানা পঞ্চমবার দুইশর নিচে অলআউট সফরকারীরা।

প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হারের পর সাত জন খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সরিয়ে দেওয়া হয় প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকে। কিন্তু দলের দুঃসময় অব্যাহতই রইল।

অধিনায়ক বাবর আজমসহ পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। সব মিলিয়ে দুই অঙ্কে যেতে পারেন কেবল তিন জন। সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন সাউদ শাকিল।

ইংল্যান্ডের তিন পেসার মিলে ভাগ করে নেন ১০ উইকেট। ৪ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার জশ টাং। অলি রবিনসন ও জফ্রা আর্চারের প্রাপ্তি তিনটি করে উইকেট।

জবাবে নড়বড়ে শুরুর পর ইংল্যান্ড দিন শেষ করে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান তুলে। ২৩ রানে এগিয়ে আছে তারা। 

ফিফটি করে আউট হয়েছেন এমিলিও গে। পঞ্চাশ ছুঁয়ে অপরাজিত আছেন হ্যারি ব্রুক।

উইকেটে পেসারদের জন্য সহায়তা থাকলেও, ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন নয়। সকালের মেঘলা আকাশের নিচে টস জিতে বোলিং নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট।

লর্ডস টেস্ট থেকে একাদশে চারটি পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। অভিষেক হয় তিন জনের।

পাকিস্তানের শুরুটাই হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ২০ মাস পর টেস্ট ও ১১ মাস পর প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নেমে ১০ বলে শূন্য রানে আউট হন সাইম আইয়ুব। প্রথম ওভারে রবিনসনের বলে আম্পায়ার তাকে এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে বাঁচেন তিনি। রবিনসনের পরের ওভারে বিদায় নেন এলবিডব্লিউ হয়েই।

সাইমকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে উইকেট নেওয়ার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রবিনসন।

আর্চারকে নিয়ন্ত্রণহীন এক শট খেলে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন আজান আওয়াইস। প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় পাকিস্তান।

আবদুল্লাহ শাফিককে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান রবিনসন। গালিতে চমৎকার ক্যাচ নেন ড্যান লরেন্স।

পরের ওভারে আর্চারের শর্ট ডেলিভারিতে আউট হয়ে যান শান মাসুদ। লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি, ব্যাটের কানায় ক্যাচ চলে যায় মিডউইকেটের দিকে।

প্রথম ঘন্টার মধ্যেই নেই ৪ উইকেট। ধারাভাষ্যে নাসের হুসেইন বললেন, “ফ্ল্যাট পিচে পাকিস্তানের ধস!”

সেই ধসে বাধ দিতে পারেননি বাবরও। টাংয়ের বলের লেংথ বুঝতে না পেরে বোল্ড হন তিনি। সিরিজে নিজের তিন ইনিংসে একবারও দুই অঙ্কে যেতে পারলেন না এই তারকা।

অভিষিক্ত কিপার-ব্যাটসম্যান গাজি ঘরি ফেরেন ৪ রানে। অভিষিক্ত অন্য দুজন- অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ ইমরান ও পেসার রাজাউল্লাহও তেমন কিছু করতে পারেননি। 

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে দলের রান একশ পার করেন শাকিল। তাকে বোল্ড করেন টাং। দুই পেসার মোহাম্মাদ আব্বাস ও মোহাম্মাদ আলির নৈপুণ্যে ১৩৩ পর্যন্ত যেতে পারে পাকিস্তান। দশম উইকেটে এই দুজনের ২৬ রান ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি!

প্রতিপক্ষকে অল্পে গুটিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ভালো ছিল না। চতুর্থ ওভারে আলির বলে স্লিপে বাবরের হাতে ধরা পড়েন বেন ডাকেট। সপ্তম ওভারে জর্ডান কক্স এলবিডব্লিউ হন আব্বাসের বলে। 

স্টিভ ওয়াহ ও রিকি পন্টিংকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ডের তালিকায় এককভাবে তিন নম্বরে (১৬৯) ওঠার দিনে রুট ফেরেন ৮ রানে। চা-বিরতির পর নিজের প্রথম ওভারেই তাকে এলবিডব্লিউ করেন রাজাউল্লাহ। গুড লেংথ থেকে স্কিড করে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে গতিতে পরাস্ত হন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

টেস্টে সবশেষ ৯ ইনিংসের আটটিতেই এলবিডব্লিউ হলেন রুট।

৩৯ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন গে ও ব্রুক। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজন যোগ করেন ১০৪ রান।

৯৫ বলে ফিফটি করা গেকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন রাজাউল্লাহ। ৯ চারে ১১৪ বলে ৬০ রান করেন এই ওপেনার। 

লরেন্সকে নিয়ে দিনের বাকিটা কাটিয়ে দেন ব্রুক। চারটি চারে ৭৬ বলে ৫২ রানে অপরাজিত আছেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৩.৫ ওভারে ১৩৩ (সাইম ০, আওয়াইস ৯, শাফিক ৩, মাসুদ ৫, বাবর ৭, শাকিল ৪৩, ঘোরি ৪, ইমরান ৫, রাজাউল্লাহ ১১, আব্বাস ২১, আলি ৫*; রবিনসন ১১-৫-১৫-৩, আর্চার ৭.৫-২-২৫-৩, অ‍্যাটকিনসন ৫-১-৩১-০, টাং ১০-১-৪২-৪)

ইংল‍্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৯ ওভারে ১৫৬/৪ (ডাকেট ১১, গে ৬০, কক্স ৪, রুট ৮, ব্রুক ৫২*, লরেন্স ৫*; আব্বাস ১৪-১-৩৭-২, আলি ১০-১-৪৯-১, রাজাউল্লাহ ৯-০-৪২-২, ইমরান ৬-১-১৮-০)