সাদিকুর ও তাইবুরের সেঞ্চুরি, সুমনের ৬ রানের আক্ষেপ
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও হারালেন ইরফান শুক্কুর, প্রথম ইনিংসে ৭০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে শতরানের কাছাকাছি মাহফিজুল ইসলাম রবিন।
তাইবুর রহমান ও সুমন খান যখন ক্রিজে সঙ্গী হলেন, ঢাকা তখন চরম বিপদে। ৭৪ রানেই নেই দলের ৬ উইকেট। সেখান থেকে অসাধারণ এক জুটিতে দলকে এগিয়ে নিলেন দুজন। অভিজ্ঞ তাইবুর উপহার দিলে লড়িয়ে সেঞ্চুরি। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম শতরানের সুবাস পেয়েও হারিয়ে ফেললেন সুমন। দিনের শেষে অবশ্য দারুণ অবস্থানে তাদের দল।
মিরপুরে তাইবুরের সেঞ্চুরির দিনে চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি করেছেন সাদিকুর রহমান। তবে প্রথম দিনের ভালো শুরু ধরে রাখতে পারেনি তার দল। ময়মনসিংহের মাহফিজুল ইসলাম রবিন প্রথম ইনিংসে ৭০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে পৌঁছে গেছেন সেঞ্চুরির কাছে।
দিনের আরেক ম্যাচে ফয়সালা হয়ে গেছে তৃতীয় দিনেই। বরিশালকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করেছে খুলনা।
ঢাকা-রংপুর
দ্বিতীয় দিন বিকেলেই বিপদের মুখে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন তাইবুর ও সুমন। সেটিই তারা ধরে রাখেন তৃতীয় দিনে। সপ্তম উইকেটে অসাধারণ জুটিতে এগিয়ে নেন দলকে।
৩২ রানে দিন শুরু করা তাইবুর স্বভাবজাত ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে বড় করতে থাকেন ইনিংস। ১৭০ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০৮ ম্যাচে তার অষ্টম শতরান এটি। ৩৫ বছর বয়সী বাঁহাতির ইনিংস থামে ১০৮ রানে।
সুমনও ছিলেন ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। মূলত পেসার হলেও তার ব্যাটের হাত খারাপ নয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আগে ফিফটি ছিল চারটি। এবার ১৩৫ বলে ফিফটি ছুঁয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রথম শতরানের দিকে। তবে লোয়ার অর্ডার অন্যরা সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। অন্য প্রান্তে তখন শেষ ব্যাটসম্যান। সুমন চেষ্টা করেন আবু হাশিমের বাঁহাতি স্পিনে ছক্কায় সেঞ্চুরি ছুঁতে। কিন্তু সেই শট ডেকে আনে তার সমাপ্তি।
রংপুরের চেয়ে ৫৬ রানে পিছিয়ে থেকে প্রথম ইনিংস শেষ করে ঢাকা। তবে শেষ বিকেলে দারুণ বোলিংয়ে দিনটি নিজেদের করে নেয় তারা। শূন্য রানেই রংপুর হারায় তিন উইকেট!
পরে ইকবাল হোসেন ও নাইটওয়াচম্যান আবু হাশিম মিলে শেষ সময়টুকু কাটিয়ে দেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর ১ম ইনিংস: ৩৪০
ঢাকা ১ম ইনিংস: ১১৯.৪ ওভারে ২৮৪ (আগের দিন ১২০/৬) (তাইবুর ১০৮, সুমন ৯৪, রিপন ০, আরিফ ৭, এনামুল ৩*; মেহেদি ১৭-৩-৩০-১, আলাউদ্দিন ১২-৩-৩৯-১, রিজওয়ান ১২-০-৫৪-২, আল মামুন ৯-১-১৯-০, স্বাধীন ২৪-২-৬৫-২, হাশিম ২১.১-৮-২১-২, মাহমুদুল ১১-২-৩৯-০, ইকবল ১৩.৩-৬-২৬-২)।
রংপুর ২য় ইনিংস: ৬.১ ওভারে ৬/৩ (অনিক ০, মোসাদ্দেক ০, ইকবাল ৬*, আল মামুন ০, হাশিম ০*; রিপন ৩.১.-২-১-১, আরিফ ১-১-০-১, এনামুল ২-১-৫-১)।
চট্টগ্রাম-রাজশাহী
চট্টগ্রামের দুই ওপেনার করেছেন সেঞ্চুরি। উদ্বোধনী জুটিতে রান উঠেছে ১৯৭। তার পরও বড় লিড নিতে পারেনি তারা।
১০২ রানে দিন শুরু করা মাহমুদুল হাসান জয় আউট হয়ে যান আর ৩ রান যোগ করেই। ৮৬ রানে শুরু করা সাদিকুর রহমান পেয়ে যান প্রত্যাশিত সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার চতুর্থ শতরান এটি।
বাঁহাতি ওপেনারের ইনিংস শেষ হয় ১১৫ রানে। তাকে ফেরানোর পরের বলে সানজামুল ইসলাম বিদায় করে দেন নতুন ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেনকেও।
তাসামুল হক ও ইরফান শুক্কুর এরপর গড়েন ৭৭ রানের জুটি। ফিফটি ছুঁয়েই আউট হয়ে যান তাসামুল। শামীম হোসেন ভালো কিছুর আভাস দিয়েও থমকে যান ২৬ রানে।
এরপর বলতে গেলে একাই লড়েন ইরফান। চট্টগ্রাম অধিনায়কের দারুণ ইনিংসটি শেষ হয় ১১৯ বলে ৮৬ রানে। তার বিদায়ের পর দলের ইনিংসও ভেঙে পড়ে দ্রুত। এক রানের মধ্যে পতন হয় শেষ চার উইকেটের। লিড মেলে মাত্র ২৯ রানের।
দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিংয়ের শুরুটা অবশ্য ভালো করে চট্টগ্রাম। রাজশাহীর আগ্রাসী দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও সাব্বির হোসেনকে তারা ফিরিয়ে দেয় দ্রুতই। নাঈম আহমেদ ও অধিনায়ক প্রিতম কুমারের জুটিতে দিন শেষ করে রাজশাহী।
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ৩৬৪
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ১১৪.২ ওভারে ৩৯৩ (আগের দিন ১৯০/০) (জয় ১০৫, সাদিকুর ১১৫, তাসামুল ৫০, শাহাদাত ০, ইরফান ৮৬, শামীম ২৬, মুরাদ ৬, আশরাফুল ২, ইফরান ১, আশিক ০, ফাহাদ ০*; শফিকুল ১৪-৩-৫৪-১, ওয়ালিদ ১৬-০-৫৩-১, সানজামুল ২৭-২-৯২-২, সাব্বির হোসেন ৩-০-১৬-০, নিহাদ ২৬.২-২-৮৫-২, মেহেরব ২৮-২-৯৪-৪)।
রাজশাহী ২য় ইনিংস: ১৪ ওভারে ৪৬/২ (সোহান ১, সাব্বির হোসেন ৬, নাঈম ৩০*, প্রিতম ৯*; আশিক ৫-০-১৬-১, আশরাফুল ৬-০-২৬-১, ইফরান ২-০-৩-০, মুরাদ ১-০-১-০)।
খুলনা-বরিশাল
খুলনায় অনুমিতভাবেই ম্যাচ শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনে। বরিশালকে ইনিংস ও ১৩৫ রানে হারিয়েছে খুলনা।
আগের দিনই জয়ের পথ তৈরি করে ফেলেছিল খুলনা। ইনিংস পরাজয় এড়াতে অভাবনীয় কিছু করতে হতো বরিশালকে। এক হাফিজুর রহমান ছাড়া কেউ লড়াই করতেই পারেননি।
আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান রাফসান আল মাহমুদ ও সালমান হোসেন তৃতীয় দিনের শুরুতে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪৩ রান করা রাফসানকে ফিরিয়ে ৬২ রানের জুটি ভাঙেন শেখ পারভেজ জীবন। সালমানকে ২৭ রানে থামান সফর আলি।
এরপর হাফিজুর একপ্রান্তে রান করে গেছেন, আরেক প্রান্তে উইকেট পড়েছে নিয়মিত। তৃতীয় প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নেমে দ্বিতীয় ফিফটি করা হাফিজুর আউট হন ৯১ রান করে।
প্রথম ইনিংসের দুটির সঙ্গে এবার চারটি উইকেট যোগ করে ম্যান অব দা ম্যাচ সফর। দুই ইনিংসেই তিনটি করে উইকেট নেন পারভেজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা ১ম ইনিংস: ৪২৬
বরিশাল ১ম ইনিংস: ৯৪
বরিশাল ২য় ইনিংস (ফলো-অনের পর): ৬৭.১ ওভারে ১৯৭ (রাফসান ৪৩, সালমান ২৭, সিফাত ০, হাফিজুর ৯১, মইন ১০, শহিদুল ৭, রুয়েল ১, তানভির ৮, তৌহিদুল ০*; সফর ১৩.১-৪-৩১-৪, পারভেজ ১৮-২-৬১-৩, মেহেদি রানা ১০-০-২৪-০, সামিউন ১৬-২-৫৫-২, হালিম ৭—১৬-০, আফিফ ৩-১-৬-১)।
সিলেট-ময়মনসিংহ
তোফায়েল আহমেদের লড়াইয়ে ছোট্ট লিড পেয়েছিল সিলেট। কিন্তু মাহমফিজুল ইসলাম রবিনের আরেকটি দারুণ ইনিংসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে এখন ময়মনংসিহ।
৫ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে দিন শুরু করে সিলেট। ৫৫ রানে অপরাজিত থাকা আসাদুল্লাহ আল গালিব থামেন ৬৭ রানে। এরপর নাঈম আহমেদকে নিয়ে আরেকটি লড়িয়ে জুটিতে সিলেটকে লিড এনে দেন তোফায়েল। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, বেশ বড় লিড পাবে তারা। তবে এই জুটি থামার পর ইনিংস গুটিয়ে যায় চোখের পলকে।
৩০ রানে আউট হন নাঈম। বোলিংয়ে তিন উইকেট শিকারি তোফায়েল ব্যাট হাতে করেন ৫৯। তবে দুই রানে পড়ে যায় তাদের শেষ চার উইকেট।
ময়মনসিংহের অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার আজিজুল হাকিম রনি উইকেট নেন চারটি, আরেক বাঁহাতি স্পিনার অধিনায়ক রকিবুল হাসান তিনটি।
প্রথম ইনিংসে ১৬ রানে পিছিয়ে থাকা ময়মনসিংহ দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু করে দুর্দান্ত। ১৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন মাহফিজুল ও খালিদ।
প্রথম ইনিংসের ফর্মকেই দ্বিতীয় ইনিংসে বয়ে এনে দিন শেষে ১৫৭ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত মাহফিজুল। দিনের শেষ ওভারে আউট হন ৫৭ রান করা খালিদ। সপ্তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার দ্বিতীয় ফিফটি এটি।
দিন শেষে ময়মনসিং এগিয়ে ১৩২ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৩১১
সিলেট ১ম ইনিংস: ১১১ ওভারে ৩২৭ (আগের দিন ২৩৬/৫) (গালিব ৬৭, তোফায়েল ৫৯, নাঈম ৩০, তারেক ০, নাবিল ০*, অনিক ০; আবু হায়দার ১২-২-৪৮-০, গালিব ১৭-২-৬০-২, রিজান ৬-০-২৪-১, আল আমিন ৩-০-১৪-০, রকিবুল ৩৯-৮-৯৬-৩, আজিজুল ৩৩-৯-৭৯-৪, আরিফুল ১-০-১-০)।
ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস: ৪৬ ওভারে ১৪৮/১ (মাহফিজুল ৮৬*, খালিদ ৫৭, রকিবুল ০*; তারেক ৭-১-৩১-০, নাঈম ১২-১-৩৮-১, নাবিল ১৩-১-৩৭-০, গালিব ৩-০-৬-০, তোফায়েল ৪-২-৭-০, অনিক ৭-০-২৬-০)।
