২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

আভিশেকের টর্নেডো সেঞ্চুরিতে উড়ে গেল নিউ জিল্যান্ড

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে প্রায় দুইশ রানের লক্ষ্য ১৩.২ ওভারে ছুঁয়ে ফেলেছে ভারত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 04:30 PM

Updated : 27 Oct 2026, 05:22 PM

ড্যারিল মিচেলের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে লড়ার মতো পুঁজি গড়ল নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু প্রায় দুইশ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে ছাড়লেন আভিশেক শার্মা। তার বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকদের উড়িয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল ভারত।

ওয়েলিংটনে মঙ্গলবার তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতেছে ভারত। কিউইদের ১৯৮ রান ৪০ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে তারা।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৯০-এর বেশি সফল রান তাড়ায় সবচেয়ে বেশি বল হাতে রেখে দ্বিতীয় সেরা জয় এটি। ২০২৪ সালে সাইপ্রাসের বিপক্ষে ১৯২ রানের লক্ষ্য ৪২ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে এস্তোনিয়া। 

টানা তিন জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০তে এগিয়ে আছে ভারত।

সফরকারীদের জয়ের নায়ক আভিশেক খুনে ব্যাটিংয়ে ১১৩ রান করেন। বাঁহাতি ওপেনারের ৩৮ বলের ইনিংসটি সাজানো ১১টি ছক্কা ও ৯টি চারে। তার সঙ্গে ১৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ১৯ বলে ৪৫ রান করতে চারটি করে ছক্কা-চার মারেন বৈভাব সুরিয়াভানশি।

ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে আভিশেকের এটি চতুর্থ সেঞ্চুরি। দেশের জার্সিতে এই সংস্করণে তার চেয়ে একটি করে সেঞ্চুরি বেশি আছে রোহিত শার্মা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের।

আর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১টি শতক এখন আভিশেকের। ভিরাট কোহলির ১০টি সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

ম্যাচের প্রথমভাগে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান মিচেল। পাঁচটি করে ছক্কা-চারে ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রান করেন নিউ জিল্যান্ডের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারে টিম সাইফার্টকে হারায় কিউইরা। শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে দলকে পথে ফেরান ফিন অ্যালেন ও মিচেল। ৪৩ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন এই দুইজন।

পাঁচটি ছক্কায় ৪০ রান করা অ্যালেনকে বিদায় করে জুটি ভাঙেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। আগের দুই ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলা গ্লেন ফিলিপসকে এদিন বেশিক্ষণ টিকতে দেননি আকসার প্যাটেল।

এরপর মিচেলের সঙ্গে বেভান জ্যাকবসের ৪৮ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৫ রানের জুটিতে দুইশর কাছে যায় স্বাগতিকদের রান। ২৬ বলে ফিফটি করে শেষ পর্যন্ত খেলে যান মিচেল। একটি ছক্কা ও চারটি চারে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন জ্যাকবসও।

রান তাড়ায় ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন সুরিয়াভানশি ও আভিশেক। ইনিংসের প্রথম বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন সুরিয়াভানশি। পরে হাঁকান ছক্কা। মুখোমুখি প্রথম বলে ছক্কায় ওড়ান আভিশেক। তাদের ঝড়ে জ্যাকব ডাফির করা প্রথম ওভারে আসে ২৬ রান।

সুরিয়াভানশি ও আভিশেকের তাণ্ডব চলতে থাকতে পরেও। তাদের সামনে বল ফেলার জায়গাই যেন খুঁজে পাচ্ছিল না কিউই বোলাররা। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে পাওয়ার প্লেতেই ১১৮ রান তুলে ফেলে ভারত। এর মাঝে চতুর্থ ওভারে কাইল জেমিসনকে ছক্কায় উড়িয়ে ১৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন আভিশেক।

পাওয়ার প্লের পরও আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান আভিশেক। সপ্তম ওভারে মাইকেল ব্রেসওয়েলকে দুটি ছক্কায় ওড়ান তিনি। পরের ওভারের প্রথম বলে ছক্কার চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন সুরিয়াভানশি।

ওই ওভারে ম্যাথু ফিশারকে দুই ছক্কা হাঁকানোর পর ক্যাচ দেন আভিশেক। কিন্তু বল মুঠোয় জমাতে পারেননি মিচেল স্যান্টনার। তখন ৯২ রানে খেলছিলেন আভিশেক।

জেমিসনকে চার মেরে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন আভিশেক, ৩৫ বলে। পরের দুই বলে ছক্কা ও চার হাঁকান তিনি। ওভারের শেষ বলে ছক্কার চেষ্টায় ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন এই ব্যাটসম্যান।

দশম ওভার শেষে তখন ভারতের রান ১৭৮। পরে আরও দুটি উইকেট হারায় তারা। স্যান্টনারের ফুলটসে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন শ্রেয়াস আইয়ার। সাঞ্জু স্যামসনের স্টাম্প ভাঙেন জেমিসন। পরের বলেই চার মেরে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন নামান ধির।

অকল্যান্ডে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি শুক্রবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৯৮/৩ (সাইফার্ট ২, অ্যালেন ৪০, মিচেল ৮৯*, ফিলিপস ১৭, জ্যাকবস ৩৯*; ভুবনেশ্বর ৪-০-৪০-০, আর্শদিপ ৪-০-৩৩-১, প্রিন্স ৪-০-৪৪-০, আকসার ৪-০-৩৬-১, নিতিশ ৪-০-৩৮-১)

ভারত: ১৩.২ ওভারে ১৯৯/৪ (সুরিয়াভানশি ৪৫, আভিশেক ১১৩, স্যামসন ১৮, শ্রেয়াস ৫, তিলাক ১*, নামান ৪*; ডাফি ২-০-৪৪-০, মিল্ন ২-০-৩৩-০, ব্রেসওয়েল ২-০-৩৬-০, জেমিসন ৩.২-০-৪৫-২, ফিশার ১-০-২৩-১, স্যান্টনার ৩-০-১৭-১)

ফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: আভিশেক শার্মা

সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজের ৩-০তে এগিয়ে ভারত