Published : 24 Sep 2025, 12:43 AM
শুরুতে দুই উইকেট নিয়ে সুর বেঁধে দিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। সঙ্গে হুসাইন তালাত ও আবরার আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে লক্ষ্যটা রইল নাগালে। রান তাড়ায় মাঝপথে ধুঁকলেও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার ব্যবধানেই জিতল পাকিস্তান।
এশিয় কাপের সুপার ফোর পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সালমান আলি আগার দলের জয় ৫ উইকেটে।
গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবকটি জেতা শ্রীলঙ্কা সুপার ফোরে প্রথম দুটিতেই পেল হারের তেতো স্বাদ। এই ধাপে ভারতের বিপক্ষে হারের পর প্রথম জয়ের দেখা পেল পাকিস্তান।
আবু ধাবিতে মঙ্গলবার টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় একপর্যায়ে ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে অল্পে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিসের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে কোনোমতে ১৩৩ পর্যন্ত যেতে পারে তারা। পাঁচ নম্বরে নেমে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন কামিন্দু।
জবাবে ভালো শুরুর পর পাকিস্তান একপর্যায়ে ৫৭ রানে ৪ ও ৮০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পথ হারাতে বসেছিল। তালাত ও মোহাম্মদ নাওয়াজের অবিচ্ছিন্ন ৫৮ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
আফ্রিদি ২৮ রানে ৩ উইকেট নিলেও অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তালাত। বল হাতে ১৮ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর ৩০ বলে ৩২ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন তিনি।
খানিকটা মন্থর উইকেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লের মধ্যেই প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের দ্বিতীয় বলে কুসাল মেন্ডিসকে বিদায় করেন আফ্রিদি।
এই সংস্করণে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ খেলে সবকটিতে প্রথম বলে আউট হলেন মেন্ডিস।
আফ্রিদির পরের ওভারে একটি ছক্কার পরই কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন আরেক ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা। ১২ বলে ১৫ রান করে হারিস রউফের শিকার হন কুসাল পেরেরা। তখন ৪৩ রানে নেই ৩ উইকেট।
সেই ধাক্কা সামলে উঠবে কী, অষ্টম ওভারে তালাতের পরপর দুই বলে বিদায় নেন অধিনায়ক চারিথা আসালাঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ঝড়ো ইনিংস খেলা দাসুন শানাকা। তখন ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় শ্রীলঙ্কা।
সেখান থেকে দলকে ৮০ পর্যন্ত টেনে নেন কামিন্দু ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (১৫)। এরপর শ্রীলঙ্কা ৩৯ বলে ৪৩ রানের ইনিংস সেরা জুটি পায় সপ্তম উইকেটে। লঙ্কানদের রান একশ স্পর্শ করে সপ্তদশ ওভারে।
পরের ওভারে কামিন্দু ফিফটি করেন ৪৩ বলে। পরের বলেই আফ্রিদির তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। ২১ বলে ১৭ রানে অপরাজিত রয়ে যান চামিকা কারুনারাত্নে।
৪ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন লেগ স্পিনার আবরার।
রান তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা হয় বেশ ভালো। প্রথম পাঁচ ওভারে ৪৩ রান তোলেন ফাখার জামান ও সাহিবজাদা ফারহান। এরপর দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা।
অফ স্পিনার মাহিশ থিকশানার একই ওভারে তিন বলের মধ্যে বিদায় নেন সাহিবজাদা (১৫ বলে ২৪) ও ফাখার (১৯ বলে ১৭)। লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার হাসারাঙ্গা নিজের পরপর দুই ওভারে ফেরান সাইম আইয়ুব ও সালমানকে।
বিনা উইকেটে ৪৫ থেকে পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৫৭।
দলকে এগিয়ে নেন এরপর তালাত ও মোহাম্মদ হারিস। ১৩ বলে ১১ রান করা হারিসকে বোল্ড করে ফেরান দুশমান্থ চামিরা, তখন জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ৫৩ বলে ৫৪ রান, হাতে ৫ উইকেটে। সম্ভাবনা তখন দুই দলেরই সমান।
তবে আর কোনো বিপদ হতে দেননি তালাত ও নাওয়াজ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় নিয়ে যান তারা। অষ্টাদশ ওভারে চামিকাকে তিন ছক্কায় ম্যাচের ইতি টানেন নাওয়াজ। ৩টি করে চার ও ছক্কায় ২৪ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত রয়ে যান তিনি।
দুই হারের পরও কাগজে-কলমে ফাইনালের সম্ভাবনা জিইয়ে রইল শ্রীলঙ্কার। তবে বুধবার ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে গেলে নিজেদের পরের ম্যাচে মাঠে নামার আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে লঙ্কানদের।
এই ধাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান খেলবে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৩৩/৮ (নিসাঙ্কা ৮, কুসাল মেন্ডিস ০, পেরেরা ১৫, আসালাঙ্কা ২০, কামিন্দু মেন্ডিস ৫০, শানাকা ০, হাসারাঙ্গা ১৫, কারুনারাত্নে ১৭*, চামিরা ১, থিকশানা ০*; আফ্রিদি ৪-০-২৮-৩, ফাহিম ৪-০-৩৪-০, রউফ ৪-০-৩৭-২, সালমান ১-০-৫-০, তালাত ৩-০-১৮-২, আবরার ৪-০-৮-১)
পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১৩৮/৫ (সাহিবজাদা ২৪, ফাখার ১৭, সাইম ২, সালমান ৫, তালাত ৩২*, হারিস ১৩, নাওয়াজ ৩৮*; থুসারা ৩-০-২৯-০, চামিরা ৪-০-৩১-১, থিকশানা ৪-০-২৪-২, হাসারাঙ্গা ৪-০-২৭-২, আসালাঙ্কা ২-০-১১-০, কারুনারাত্নে ১-০-১১-০)
ফল: পকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: হুসাইন তালাত