Published : 22 Aug 2026, 11:58 PM
টেস্ট ক্রিকেটে মার্নাস লাবুশেনের দুঃস্বপ্নের প্রহর ক্রমেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ব্যর্থতার খোলস ছেড়ে কিছুতেই বের হতে পারছেন না তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও অল্প রানে আউট হওয়ার পর তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার।
ম্যাকাইতে শনিবার দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪ রান করে বোল্ড হন লাবুশেন। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের লেগ স্টাম্পে থাকা ডেলিভারি শাফল করে ঠিকঠাক খেলতে পারেননি তিনি, প্যাড ছুঁয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে। ডারউইনে প্রথম টেস্টে তিনি করেন ১ ও ৩১ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনার তাইজুল ইসলামের ফুল-লেংথ ডেলিভারি মিস করে আউট হন ৩২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে ফক্স ক্রিকেটকে লাবুশেন বলেন, ‘একটু তাড়াহুড়ো করতে চাওয়ার’ কারণে তিনি আউট ওভাবে হয়েছিলেন।
“বোলারের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ ছিল। আমি হয়তো এমন একটি শট খেলেছি, যা ম্যাচের ওই মুহূর্তে আমার খেলার দরকার ছিল না। তবে এই সপ্তাহে নতুন সুযোগ। আশা করি, গত সপ্তাহের সকল শিক্ষা আমরা কাজে লাগাতে পারব।”
ম্যাকাইতে লাবুশেনের আউটের পেছনে স্পষ্টতই দুর্ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল। ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানের চেয়ে সংগ্রামরত ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রেই এসব বেশি ঘটে থাকে। তবে তিনি ক্রিজের বেশ বাইরে সরে গিয়ে লেগ স্টাম্প উন্মুক্ত করে ফেলেন এবং বলটি মিস করেন। ১৮ উইকেট পতনের প্রথম দিন শেষে ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, দ্বিতীয় ইনিংসে উল্লেখযোগ্য খেলার সুযোগ নাও পেতে পারেন তিনি।
চ্যানেল ৭-এ সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং বলেন, লাবুশেনের জায়গায় এখন অন্য কাউকে দেখার সময় এসেছে।
“মার্নাসকে নিয়ে তারা (নির্বাচকরা) যা করার চেষ্টা করছেন, তার প্রশংসা করি আমি। প্রশংসা করি যে, তারা তাকে দলে নেওয়ার এবং সেরা ফর্মে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেটাও অনেকদিন হয়ে গেছে। আমি হলে এই সিরিজের শুরুতেই এই পরিবর্তন আনতাম। কারণ আমি মনে করি, এটা বলার মতো যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যে, সেরা ফর্মে ফেরা থেকে সে অনেক দূরে।”
আজ সে দুর্ভাগা ছিল, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যখন কেউ খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যায় এবং ফর্ম ও ছন্দ পাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তার সঙ্গেই এমনটা হয়। তাকে নিয়ে আমার যে উদ্বেগ, আমার মনে হয় তার কিছু কৌশলগত ঘাটতি আছে। সে ব্যাকফুটে থেকে রান করতে পারে না। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাকফুটে থেকে রান করতে না পারলে, ব্যাটিং কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমি সত্যিই মনে করি, এখন অন্য কাউকে দেখার সময় এসেছে।”
পন্টিং পরিষ্কার করে দিলেন, তাড়াহুড়ো করে দলে পরিবর্তন আনার পক্ষে যদিও তিনি নন, তবুও সাবেক এই ব্যাটসম্যানের মতে, লাবুশেন ফর্মে ফেরার জন্য অনেক বেশিই সময় পেয়েছেন।
“ভুল বুঝবেন না, শুধু গত সপ্তাহে হেরেছি বলেই আমি তাড়াহুড়ো করে দলে কোনো পরিবর্তন আনার পক্ষে নই। ব্যাপারটা তা ছিল না। আমার সঙ্গে যারা খেলেছে, তারা বলবে যে, (ছন্দ খুঁজে ফেরা) খেলোয়াড়দের আমার দলে রাখার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই আমি করতাম। আমি কোনো পরিবর্তন আনতে চাইনি, কিন্তু যখন কোনো বিষয় এতটা দীর্ঘায়িত হয় (তখন সেটা প্রয়োজন) এবং দুই বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে সে কোনো টেস্ট ম্যাচে শতক করেনি।”
লাবুশেনের টেস্ট সেঞ্চুরির খরা পৌঁছে গেছে টানা ৪৩ ইনিংসে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সবশেষ শতকের পর থেকে তার ব্যাটিং গড় কেবল ২৪.৬৯। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
আরেক সাবেক ব্যাটসম্যান মার্ক ওয়াহ মনে করেন, লাবুশেনের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে এখানেই। ট্রাভিস হেডকে ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডারে ফেরানোর কথাও বলেন তিনি।
“আমি মনে করি, ট্রাভিস হেডকে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে হবে, কিন্তু তা করতে গেলে আরেকজন ওপেনার খুঁজে বের করতে হবে। এরপর আছে মার্নাস। সে আর কত সুযোগ পাবে? এই ম্যাচে সে হয়তো আর ব্যাট করার সুযোগ পাবে না, সে আশা করবে, যেন সুযোগ পায়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এটাই হয়তো তার শেষ ম্যাচ।”
অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিসা হিলিও একই মত প্রকাশ করেন।
“আমার মনে হয় দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তাদের কিছু পরিবর্তন আনতে হবে এবং নতুন খেলোয়াড় দলে নিতে হবে। আমার মতে, এখন আর পরিবর্তন না করার কোনো কারণ নেই, কারণ আমরা এমনিতেই ব্যর্থ হচ্ছি। এখানে দাঁড়িয়ে এসব বলতে খারাপ লাগছে, কিন্তু এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।”
দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা করতে পারে সেপ্টেম্বরের শুরুতে।