Published : 18 Sep 2025, 08:36 PM
ম্যাচের প্রথম ওভারে ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে টানা তিনটি চার মারলেন ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক। সেই শুরু, এরপর যতক্ষণ ক্রিজে থাকলেন, জিম্বাবুয়ের বোলারদের তুলাধুনা করলেন তিনি। চতুর্থ ওভারেই পঞ্চাশ স্পর্শ করে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিলেন নামিবিয়ান ওপেনার।
বুলাওয়ায়োতে বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩ বলে ফিফটি করেন ফ্রাইলিঙ্ক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নামিবিয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে যা দ্রুততম। আগের রেকর্ডটি ছিল ইয়ান নিকোল লফটি-ইটনের, ২০২৪ সালে নেপালের বিপক্ষে ১৮ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফ্রাইলিঙ্কের ১৩ বলের ফিফটি যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম। ১৩ বলে পঞ্চাশ আছে আরও তিন জনের।
এই সংস্করণে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটি নেপালের দিপেন্দ্রা সিং আইরির, ২০২৩ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৯ বলে। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন ভারতের ইউভরাজ সিং।
এদিন আরেকটি রেকর্ডের পাতায় নাম উঠেছে ফ্রাইলিঙ্কের। পূর্ণ সদস্য কোনো দলের বিপক্ষে সহযোগী কোনো দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে তার এই ১৩ বলের ফিফটি দ্রুততম।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয়বার পঞ্চাশ ছুঁয়ে থেমে যাননি ফ্রাইলিঙ্ক। গতি কমে গেলেও নিজের ইনিংসকে আরেকটু টেনে নেন তিনি, জাগান সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত যদিও তিন অঙ্কের অনির্বচনীয় স্বাদ পাননি ৩১ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
৭৭ রান করে থামেন ফ্রাইলিঙ্ক। তার ৩১ বলের ইনিংসটি সাজানো ৬টি ছক্কা ও ৮টি চারে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে ওই তিন চারের পর দ্বিতীয় ওভারে ব্লেসিং মুজারাবানিকে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন ফ্রাইলিঙ্ক।
পরের ওভারে জিম্বাবুয়ে পায়নি কোনো বাউন্ডারি। চতুর্থ ওভারে ট্রেভর গুয়ান্ডুর ওপর ঝড় বইয়ে দেন ফ্রাইলিঙ্ক। প্রথম পাঁচ ডেলিভারিতে মারেন তিনটি ছক্কা ও দুটি চার। দ্বিতীয় ছক্কায় ফিফটিতে পা রাখেন তিনি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মুজারাবানিকে একটি করে ছক্কা ও চার হাঁকান ফ্রাইলিঙ্ক। সিকান্দার রাজাকে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কায় ওড়ানোর পরের বলেই বাজে তার বিদায়ঘন্টা। কট বিহাইন্ড হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন তিনি।
এরপর দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে নামিবিয়া। তাতে কিছুটা চাপে পড়া দলকে পথে রাখেন রুবেন ট্রাম্পেলমান। ৪টি ছক্কা ও ৩টি চারে ২৪ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। ২ ছক্কায় ১১ বলে অপরাজিত ২০ রান করেন অ্যালেকজান্ডার।
শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২০৪ রান করে নামিবিয়া। দলীয় দুইশ রান এর আগে আরও পাঁচবার করেছে আফ্রিকার দলটি। তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ বতসোয়ানার বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২৪০।
তবে টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিপক্ষে এই প্রথম দুইশ করতে পারল নামিবিয়া। আগের সর্বোচ্চও ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ৩ উইকেটে ১৯৮।