২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রেকর্ড পুঁজি গড়ে জিম্বাবুয়েকে হারাল নামিবিয়া

টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার দুইশ করতে পেরেছে নামিবিয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Sep 2025, 10:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিলেন ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক। পরে ঝড় তুললেন রুবেন ট্রাম্পেলমান। তাদের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো দুইশ স্পর্শ করল নামিবিয়া।  জেজে স্মিটের দারুণ বোলিংয়ে অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল তারা।

বুলওয়ায়োতে বৃহস্পতিবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ২৮ রানে জিতেছে নামিবিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে অবশ্য সিরিজ জয় আগেই নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে।

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ফ্রাইলিঙ্ক ও ট্রাম্পেলমানের তাণ্ডবে ৭ উইকেটে ২০৪ রান করে নামিবিয়া। টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিপক্ষে এই প্রথম দুইশর সীমানায় পা রাখল তারা।

খুনে ব্যাটিংয়ে ৬টি ছক্কা ও ৮টি চারে ৩১ বলে ৭৭ রান করেন ফ্রাইলিঙ্ক। ২৪ বলে ৪৬ রান করতে ট্রাম্পেলমান মারেন ৪টি ছক্কা ও ৩টি চার।

রান তাড়ায় জিম্বাবুয়েকে টানেন শন উইলিয়ামস। ২ ছক্কা ও ১০ চারে ৪৫ বলে ৭৭ রান করেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। বাকিদের ব্যর্থতায় ১৭৬ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

ম্যাচে নামিবিয়ার সফলতম বোলার জেজে স্মিট ২৯ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। দুটি করে প্রাপ্তি গেরহার্ড এরাসমাস ও ট্রাম্পেলমানের।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে টানা তিনটি চার মারেন ফ্রাইলিঙ্ক। পরের ওভারে ব্লেসিং মুজারাবানিকে একটি ছক্কার সঙ্গে হাঁকান দুটি চার।

চতুর্থ ওভারে ট্রেভর গুয়ান্ডুর ওপর ঝড় বইয়ে দেন ফ্রাইলিঙ্ক। প্রথম পাঁচ ডেলিভারিতে মারেন তিনটি ছক্কা ও দুটি চার। দ্বিতীয় ছক্কায় ১৩ বলে ফিফটিতে পা রাখেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নামিবিয়ার কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম ফিফটি এটি। আগের রেকর্ডটি ছিল ইয়ান নিকোল লফটি-ইটনের, ২০২৪ সালে নেপালের বিপক্ষে ১৮ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফ্রাইলিঙ্কের ১৩ বলের ফিফটি যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম। রেকর্ডটি নেপালের দিপেন্দ্রা সিং আইরির, ২০২৩ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৯ বলে। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন ভারতের ইউভরাজ সিং।

আর পূর্ণ সদস্য কোনো দলের বিপক্ষে সহযোগী কোনো দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে ফ্রাইলিঙ্কের এই ১৩ বলের ফিফটি দ্রুততম।

পঞ্চম ওভারে লরেন স্টিনক্যাম্পের বিদায়ে ভাঙে ৭৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। নবম ওভারে সিকান্দার রাজাকে ছক্কা মারার পরে বলে কট বিহাইন্ড হয়ে বিদায় নেন ফ্রাইলিঙ্ক।

এরপর টপাটপ আরও দুই উইকেট হারিয়ে নামিবিয়া রান ১ উইকেটে ১০২ থেকে হয়ে যায় ৪ উইকেটে ১০৭। দলের রান বাড়ানোর কাজটি করেন ট্রাম্পেলমান। ১৯তম ওভারে টিনোটেন্ডা মাপোসাকে দুটি করে ছক্কা-চার মারেন তিনি। ২ ছক্কায় ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন অ‍্যালেকজ‍্যান্ডার বাসিং-ভলশেঙ্ক।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা একদমই ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। রায়ান বার্লকে নিয়ে ৬৫ রানের জুটি গড়েন উইলিয়ামস। ১ ছক্কা ও ৩ চারে ২৪ বলে ৩২ রান করে ফেরেন বার্ল।

উইলিয়ামসকে পরে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন টাশিঙ্গা মুসেকিওয়া। দুইজনে গড়েন ৪১ রানের জুটি, যেখানে অগ্রণী ছিলেন উইলিয়ামস।

১৮তম ওভারে বিদায় নেন ৩৫ বলে ফিফটি করা উইলিয়ামস। তাতে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শেষ ১২ বলে ৪৩ রানের সমীকরণের ধারেকাছেও যেতে পারেননি তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নামিবিয়া: ২০ ওভারে ২০৪/৭ (ফ্রাইলিঙ্ক ৭৭, স্টিনক্যাম্প ১৪, এরাসমাস ১৪, লফটি-ইটন ১, স্মিট ১, গ্রিন ১৭, ট্রাম্পলমান ৪৬, বাসিং-ভলশেঙ্ক ২০, ডি ভিলিয়ার্স ১*; মাসাকাদজা ৩-০-২৮-১, মুজারাবানি ৪-০-৪৮-১, উইলিয়ামস ৩-০-২৫-০, গুয়ান্ডু ২-০-৩৭-০, মাপোসা ৪-০-৩৯-১, রাজা ৪-০-২৫-৩)

জিম্বাবুয়ে: ১৯.৫ ওভারে ১৭৬ (বেনেট ২, মারুমানি ১০, টেইলর ৬, উইলিয়ামস ৭৭, রাজা ৮, বার্ল ৩২, মুসেকিওয়া ১৩, মাপোসা ৬, মাসাকাদজা ৩, মুজারাবানি ৬, গুয়ান্ডু ৮*; এরাসমাস ৪-০-৩৯-২, শুলজ ১-০-৬-১, শিকোঙ্গো ৩.৫-০-৩৪-১, স্মিট ৪-০-২৯-৪, ট্রাম্পলমান ৪-০-৩৯-২, ডি ভিলিয়ার্স ৩-০-২৭-০)

ফল: নামিবিয়া ২৮ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী জিম্বাবুয়ে