২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘অ্যাশেজ তো স্প্রিন্ট নয়, ম্যারাথন’, ২ দিনে বিধ্বস্ত হয়ে ইংলিশ কোচ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রায় দুই মাস দীর্ঘ এই সিরিজে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

‘অ্যাশেজ তো স্প্রিন্ট নয়, ম্যারাথন’, ২ দিনে বিধ্বস্ত হয়ে ইংলিশ কোচ
ইংল্যান্ড কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Nov 2025, 09:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:10 PM

দুই দলের প্রথম ইনিংস শেষে কিছুটা হলেও এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এরপর সবকিছু পাল্টে গেল। দ্বিতীয়বারেও ব্যাট হাতে মুখ থুবড়ে পড়ল তারা, বিপরীতে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথম ধাপের ব্যর্থতা ঢেকে দিলেন ট্রাভিস হেড। অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে এভাবে ভরাডুবি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুব হতাশ ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

পার্থ টেস্টের দ্বিতীয় দিন শনিবার ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া। ১০৪ বছরে এই প্রথম দুই দিনে শেষ হলো অ্যাশেজের কোনো টেস্ট।

কঠিন উইকেটে ব্যাটিং ধসের পরও প্রথম ইনিংসে ৪০ রানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। প্রথম দিনে ১৭২ রান করার পর, আরও দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে ১৩২ রানে আটকে দেয় বেন স্টোকসের দল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ফের ব্যাটিং ধসে পড়ে ইংল্যান্ড; এবার তারা করতে পারে ১৬৪ রান। তাতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৫ রানের।

উইকেটের আচরণ, ম্যাচ পরিস্থিতি, রান তাড়ার চাপ; সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বেশ কঠিনই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হেডের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে স্রেফ ২৮.২ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

ইংলিশদের এমন বিপর্যয়ের পর শুরু হয়ে গেছে আলোচনা-সমালোচনা। নিশ্চিতভাবে এসব সামনেও চলবে। খুব ভালো করেই জানেন ম্যাককালাম। তবে কোচের বিশ্বাস, ধাক্কা সামলে আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে তার দল।

“এখন অনেক কথা হবে। তবে এসব কারণে আমাদের আত্মবিশ্বাস ও পরস্পরের প্রতি আস্থা যেন তলানিতে না নেমে যায়। আমরা জানি যে, নিজেদের সেরা সময়ে দল হিসেবে আমরা খুবই ভালো। আমাদের হাতে এখন অনেক সময় আছে, আগামী ১০-১২ দিন ধরে আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, যখন আমরা ব্রিজবেনে খেলব তখন যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারি।”

“এটা (অ্যাশেজ) তো স্প্রিন্ট নয়, ম্যারাথন। আজ আমাদের খুবই বাজে দিন কেটেছে, কিন্তু আগেও আমরা এমনটা (ঘুরে দাঁড়ানো) করেছি। এটাই আমাদের সামনের পরিকল্পনা। সবসময় আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি, আর পরের চার টেস্টে সেই লড়াই থেকে আমরা পিছু হটব না।”

দ্বিতীয় ইনিংস শেষে ম্যাককালামেরও মনে হয়েছিল, লড়াই করার পুঁজি পেয়ে গেছেন তারা। কিন্তু তাদেরকে লড়াইয়ের সুযোগই দেননি হেড। ইনিংস শুরু করতে নেমে ৪টি ছক্কা ও ১৬ চারে ৮৩ বলে ১২৩ রান করেন তিনি।

ইনিংসটির পথে ৬৯ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন হেড। টেস্টের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে যা দ্রুততম শতকের রেকর্ড। এমন পারফরম্যান্সের পর স্তুতির জোয়ারে ভাসছেন হেড। তার প্রশংসা করতে ভোলেননি নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ম্যাককালামও। 

“আমার মনে হয়েছিল, শেষ ইনিংসে ডিফেন্ড করার জন্য ২০০ রান অনেক ভালো স্কোর। কিন্তু ট্রাভিস হেড যেভাবে খেলেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। কঠিন উইকেটে চাপের মুখে এটা আমার দেখা সেরা ইনিংসগুলোর একটি।”

দুই দলের দ্বিতীয় টেস্ট ব্রিজবেনে আগামী ৪ ডিসেম্বর শুরু হবে।