Published : 08 Aug 2026, 09:28 AM
ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট সাউথ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) মিডল অর্ডারে ছোবল দিলেন চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই অলরাউন্ডারের চার উইকেটে ছোট লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। বাকিটা অনায়াসে সারলেন এই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব শাহাদাত হোসেন ও অভিজ্ঞ ইরফান শুক্কুর। নিজেদের দ্বিতীয় জয়ে তিন দলের প্রতিযোগিতার ফাইনালে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ।
প্রিটোরিয়ায় শুক্রবার ৭ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ইউএসএসএর ১৬৬ রান ১৬৯ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে গেছে সফরকারীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় জয়।
দ্বিতীয় ওভারে শুরুর জুটি ভাঙার পর প্রতিরোধ গড়েন লুডউইচ শুল্ড ও ডেভিড টিগার। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের শতরানের জুটির পরও ৩৪ ওভারের দেড়শ পেরিয়েই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। দলটি শেষ ৯ উইকেট হারায় কেবল ৪০ রানে।
বাংলাদেশের জয়ে মূল ভূমিকা তিন জনের- বোলিংয়ে রিজওয়ান এবং ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক শাহাদাত ও শুক্কুরের। ৬.৫ ওভারে মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার। আর রান তাড়ায় ১১ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে হাল ধরে ৫৬ বলে ৭৩ রানের এক ইনিংস খেলেন অধিনায়ক। তার ৫৬ বলের ইনিংসে ছিল ১২ চার ও এক ছক্কা। সাত চার ও তিন ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন কিপার-ব্যাটসম্যান শুক্কুর।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ইউএসএসএ। দ্বিতীয় উইকেটে শুল্ড ও টিগার পাল্টা আক্রমণে ১০৫ বলের জুটিতে যোগ করেন ১১৯ রান। এরপর আর কোনো জুটিই গড়তে পারেনি দলটি।
২০তম ওভারে ৫৭ বলে ৫১ রান করা শুল্ডকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন ইকবাল হোসেন ইমন। থার্ড ম্যানে ক্যাচ নেন ইফতেখার হোসেন ইফতি। পরে ৫৭ বলে ৭২ রান করা টিগারকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন বাঁহাতি স্পিনার সামিউন বশির রাতুল।
রান তাড়ায় নেমে দুই ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান সোহান ফেরেন তিন ওভারের মধ্যে। উড়িয়ে মারার চেষ্টায় এসোসা আইহেবার বলে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন সোহান। মাহফিজুলও আউট হন আইহেবার বলেই।
তাতে ১১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে কক্ষপথে ফেরান শাহাদাত ও ইফতেখার। তৃতীয় উইকেটে তারা দুজনে যোগ করেন ৬৭ রান। লেইটন ট্রসকির বলে ইফতেখার ২২ বলে ১৭ রান করে ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
তার বিদায়ের পর আর কোনো বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক শাহাদাত ও শুক্কুর। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তাদের অপরাজিত ৮৯ রানে জুটিতে জয় তুলে নেয় দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইউএসএসএ: ৩৩.৫ ওভারে ১৬৬ (শুল্ড ৫১, মুয়ারহেড ১, টিগার ৭২, ট্রসকি ৮, সোলোমন্স ১০, কিবা ৪, ফ্লেডারমাউস ৩, ফ্রান্সিস ৪, প্রুসেন্ট ১*, মলাঙ্গা ৪, আইহেবা ০; ইকবাল ৭-০-৪৪-১, রোহানাত ৭-০-৩০-১, রিজওয়ান ৬.৫-০-২৮-৪, মইন ৪-১-২৮-০, সামিউন ৫-০-২৭-১, আমিনুল ৪-০-৮-২)
বাংলাদেশ ইমার্জিং: ২১.৫ ওভারে ১৬৭/৩ (মাহফিজুল ৮, সোহান ০, শাহাদাত ৭৩*, ইফতেখার ১৭, ইরফান ৫৮*; আইহেবা ৪-০-১৯-২, প্রিসেন্ট ৩-০-৪১-০, ফ্রান্সিস ৫-১-২৬-০, ট্রসকি ৪-০-২৫-১, মলাঙ্গা ৩-০-৩৪-০, ফ্লেডারমাউস ২.৫-০-২১-০)।
ফল: বাংলাদেশ ইমার্জিং ৭ উইকেটে জয়ী।