১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষের রোমাঞ্চে উইন্ডিজের জয়ের নায়ক হেটমায়ার

আগের ম্যাচে ১ উইকেটে জয়ী নিউ জিল্যান্ড এবার হেরে গেল ২ উইকেটে।

শেষের রোমাঞ্চে উইন্ডিজের জয়ের নায়ক হেটমায়ার
হেটমায়ারের মুখে হাসি না থাকলেও দর্শকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি। ছবি: উইন্ডিজ ক্রিকেট।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2026, 12:23 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:42 PM

জেকব ডাফির পরপর দুই বলে যখন বিদায় নিলেন ম্যাথু ফোর্ড ও আলজারি জোসেফ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাবনাও যেন হুট করেও ফিকে হয়ে গেল অনেকটা। জয়ের জন্য তখও লাগে ২১ রান। একপ্রান্তে শিমরন হেটমায়ার ছিলেন বটে, কিন্তু উইকেট বাকি তখন আর মোটে দুটি। জেডেন সিলসকে নিয়ে শেষ সময়ের চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিয়ে দলকে জেতালেন সেই হেটমায়ারই।

সিরিজের ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল আগেই। একাদশে ফেরার ম্যাচে হেটমায়ারের দারুণ ইনিংসে শেষ ম্যাচে ২ উইকেটে জিততে পারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিউ জিল্যান্ডের সিরিজ জয় ৩-২ ব্যবধানে। 

বারবাডোজে মঙ্গলবার উইল ইয়াং, নিক কেলি ও টম ল্যাথামের ফিফটিতে নিউ জিল্যান্ড তোলে ৫০ ওভারে ২৬৮ রান। লো-স্কোরিং সিরিজটির সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল এটি। ম্যাচের পরের ভাগে সেই রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে যায় ১৫ বল বাকি রেখে। 

চার ছক্কায় ৬৪ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন হেটমায়ার। রান তাড়ায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় শেরফেন রাদারফোর্ডের সঙ্গে তার ৯০ বলে ৯৫ রানের জুটি। ৫ ছক্কায় ৫৮ বলে ৬১ করেন রাদারফোর্ড।

কেনসিংটন ওভালে ক্যারিবিয়ানদের রান তাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শুরুর জুটিরও। ৬ ওভারে ৫৭ রান তোলেন আকিম ওগিস ও জাস্টিন গ্রেভস। কেউই অবশ্য বড় করতে পারেননি ইনিংস। ১৫ বলে ২২ করে আউট হন গ্রেভস, ২৪ বলে ৩৪ ওগিস। 

স্পিন আক্রমণে আসার পর রানের গতি একরকম যায় থমকে। সিরিজজুড়ে অসাধারণ বোলিং করা জেডেন লেনক্স শেষ ম্যাচেও ভোগান ক্যারিবিয়ানদের।

তিনে নেমে কেসি কার্টি ৫৪ বল খেলেও মারতে পারেননি বাউন্ডারি। আউট হয়ে যান ২০ রান করে। আগের তিন ম্যাচে দু অঙ্ক স্পর্শ করতে না পারা শেই হোপ বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু সিরিজে তৃতীয়বার লেনক্সের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি ৩৯ রান করে।

এরপরই রাদারফোর্ড ও হেটমায়ারের সেই জুটি। স্পিনে প্রচুর ডট বল খেলেছেন তারা দুজনও। তবে বড় শট খেলে কমিয়েছেন চাপ। রাদারফোর্ড ৭ রানে বেঁচে না গেলে হয়তো ম্যাচের চিত্র হতো ভিন্ন। 

দুই বাঁহাতির জুটি ভাঙেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। স্টাম্পড হয়ে যান রাদারফোর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তখন লাগে কেবল আর ৪১ রান। কিন্তু গুডাকেশ মোটি, ফোর্ড ও জোসেফের দ্রুত বিদায়ে বিপদে পড়ে যায় দল। হেটমায়ার ভরসা জুগিয়ে দলকে এনে দেন জয়।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ড পঞ্চম ওভারে হেনরি নিকোলসকে হারায়। দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন উইল ইয়াং ও নিক কেলি। 

ভাইটেল লজের বলে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় ইয়াং বোল্ড হন ৫৬ রানে। কেলি ফেরেন ৬৪ রানে।

শেষ ম্যাচেও দারুণ বোলিং করেছেন জেডেন লেনক্স। ছবি: ব্ল্যাকক্যাপস।

শেষ ম্যাচেও দারুণ বোলিং করেছেন জেডেন লেনক্স

আগের ম্যাচের নায়ক মার্ক চ্যাপম্যান এবার ভালো করতে পারেননি (১১)। মিডল অর্ডারে ভালো ইনিংস খেলেন টম ল্যাথাম। 

এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, তিনশর আশেপাশে থাকতে পারে কিউইদের স্কোর। ৩৫ ওভার শেষে রান ছিল তাদের ৩ উইকেটে ১৮১। কিন্তু পরের দিকে প্রত্যাশিত রান তারা তুলতে পারেনি।

ল্যাথাম আউট হন ৭১ বলে ৬৯ রানে। মিচেল স্যান্টনার, মাইকেল ব্রেসওয়েলরা শেষ সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি। 

সেই পুঁজি নিয়ে লড়াই হলেও জিততে পারল না নিউ জিল্যান্ড। আগের ম্যাচে ১ উইকেটে জয়ী কিউইরা এবার হেরে যায় ২ উইকেটে।

 ১৪ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা সিরিজ লেনক্স। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি স্পিনার তিনিই। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৬৮/৯ (নিকোলস ১০, ইয়াং ৫৬, কেলি ৬৪, চ্যাপম্যান ১১, ল্যাথাম ৬৯, ব্রেসওয়েল ১, স্যান্টনার ১৩, স্মিথ ১৮, ক্লার্ক ৪, ডাফি ৫*; ফোর্ড ১০-১-৪৯-১, সিলস ১০-১-৫৭-১, লজ ১০-০-৬৩-২, জোসেফ ১০-১-৩৮-২, মোটি ১০-০-৪৯-১)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৭.৩ ওভারে ২৬৯/৮ (ওগিস ৩৪, গ্রেভস ২২, কার্টি ২০, হোপ ৩৯, রাদারফের্ড ৬১, হেটমায়ার ৬৯*, মোটি ৪, ফোর্ড ৮, জোসেফ ০, সিলস ৫*; ডাফি ৮-০-৬৭-৩, স্মিথ ৭.৩-০-৫১-১, স্যান্টনার ১০-০-৩৯-০, ক্লার্ক ৩-০-১৩-০, লেনক্স ৯-০-৩৫-৩, ব্রেসওয়েল ১০-০-৫৬-১)।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: শিমরন হেটমায়ার।

ম্যান অব দা সিরিজ: জেডেন লেনক্স।