Published : 15 Jul 2026, 03:40 AM
রান তাড়ায় চমৎকার ব্যাটিংয়ে আরেকটি সেঞ্চুরির পথে ছুটছিলেন শুবমান গিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্র্যাম্পের কারণে বাধ্য হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাকে। এরপর দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরল ইংল্যান্ড। কিন্তু তাদের আর কোনো সুযোগই দিলেন না আকসার প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দার। দুজনের দারুণ জুটিতে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে গিলের দলের জয় ৬ উইকেটে। এজবাস্টনে মঙ্গলবার ২৫৯ রানের লক্ষ্য ২৮ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।
চলতি ইংল্যান্ড সফরে ভারতের প্রথম জয় এটি। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে হারে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল।
অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভারতের এই জয়ের নায়ক বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার আকসার। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৬২ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। ৭২ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো ম্যাচে তিনি পেলেন তিনটির বেশি উইকেট।
পরে সাত নম্বরে নেমে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৫২ বলে ৫৭ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন তিনি। তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১০২ রানের জুটিতে ম্যাচ শেষ করেন আরেক স্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন। চারটি চার ও একটি ছক্কায় তিনি করেন ৬৩ বলে ৫২ রান।
১১ চার ও এক ছক্কায় ৭৫ বলে ৮০ রান করে মাঠ ছাড়েন গিল।
১০৭ রানে ৬ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি গড়তে পারে মূলত জো রুট ও লিয়াম ডসনের ফিফটি এবং শতরানের জুটিতে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। উইকেটে ছিল আদ্রতা, সঙ্গে সিম মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে নতুন বলে দারুণ বোলিং করেন জাসপ্রিত বুমরাহ ও প্রাসিধ কৃষ্ণা।
প্রথম সাত ওভারে ইংল্যান্ড তুলতে পারে কেবল ২০ রান। প্রথম রানের দেখা পেতে জেকব বেথেলের লাগে ১৩ বল। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যালেস্টার কুকের পর (১৮ বল) ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনো ওপেনারের প্রথম রান পেতে এত বেশি বল লাগল।
অষ্টম ওভারে গুরনুর ব্রারকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে রানের গতিতে দম দেন বেন ডাকেট। প্রথম দুই ওভারে ২৬ রান দেওয়া এই পেসারই তৃতীয় ওভারে বিদায় করেন বেথেল (৩১ বলে ১৪) ও ডাকেটকে (৪৫ বলে ৪৩)।
পরের ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে ফিরেই হ্যারি ব্রুককে বিদায় করেন বুমরাহ। ওয়ানডেতে তার ১৫০তম উইকেট এটি।
একটু পর প্রাসিধের একই ওভারে বিদায় নেন ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নামা জস বাটলার ও স্যাম কারান। তখন ৮০ রানে নেই ৫ উইকেট। উইল জ্যাকস ২০ রান করে ফিরলে স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১০৭।
অল্পে গুটিয়ে যাওয়ার চোখ রাঙানি তখন ইংল্যান্ডের সামনে। সেখান থেকেই প্রতিরোধ গড়েন রুট ও ডসন।
ডসন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের আগের সর্বোচ্চ ২০ রান ছাড়িয়ে ফিফটি করেন ৬৫ বলে। ৭ রানে একবার জীবন পাওয়া রুটের পঞ্চাশ ছুঁতে লাগে ৫৭ বল। ওয়ানডেতে টানা চার ইনিংসে পঞ্চাশ ছুঁলেন তিনি।
প্রথম সাত ওভারে ৪১ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন আকসার। সেই তিনি পরের ১৭ বলে ২১ রান দিয়ে তুলে নেন ইংল্যান্ডের শেষ ৪ উইকেট।
৪৪তম ওভারে আক্রমণে ফিরে ডসনকে (৮৩ বলে ৬৮) বিদায় করে ১২১ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। নিজের পরের ওভারে ফেরান জফ্রা আর্চারকে। এর পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে তুলে নেন আদিল রাশিদ ও জশ টাংয়ের উইকেট।
ছয় চার ও এক ছক্কায় ৭৬ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত রয়ে যান রুট।
অসাধারণ বোলিংয়ে ৯ ওভারে স্রেফ ৩১ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন বুমরাহ।
লক্ষ্য তাড়ায় ভালো করতে পারেননি রোহিত শার্মা। ২১ বলে ১১ রান করে বিদায় নেন অভিজ্ঞ ওপেনার। আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি প্রায় সাত মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে টিকতে পারেন ৬ বল। আর্চারকে ফ্লিক করার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হন তিনি।
৪৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। সেখান থেকে দারুণ জুটিতে দলকে টানেন গিল ও শ্রেয়াস।
৫১ বলে ফিফটি করে এগিয়ে যান গিল। গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অপরাজিত ৮৪ ও ১৫৪ রানের দুটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি মনে হচ্ছিল খুব সম্ভব। কিন্তু ক্র্যাম্প করায় ২৬তম ওভারে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। শ্রেয়াসের সঙ্গে তার জুটি থামে ১০১ রানে।
পরের ওভারে রান আউটে বিদায় নেন শ্রেয়াস (৫৩ বলে ৩৫)। পরের ওভারে বোল্ড হয়ে যান লোকেশ রাহুলও।
তখন ১৬০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে ভারত। ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরে ভালোভাবেই। কিন্তু তাদের হতাশ করে ভারতকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আকসার ও ওয়াশিংটন।
আগামী বৃহস্পতিবার কার্ডিফে হবে দ্বিতীয় ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৪৭.৫ ওভারে ২৫৮ (ডাকেট ৪৩, বেথেল ১৪, রুট ৭৬*, ব্রুক ১, বাটলার ৫, কারান ০, জ্যাকস ২০, ডসন ৬৮, আর্চার ১২, রাশিদ ১, টাং ০; বুমরাহ ৯-০-৩১-১, প্রাসিধ ১০-২-৫০-২, গুরনুর ৯-০-৬১-২, দুবে ৬-০-২৭-১, ওয়াশিংটন ৪-০-১৩-০, আকসার ৯.৫-০-৬২-৪)
ভারত: ৪৫.২ ওভারে ২৬২/৪ (রোহিত ১১, গিল ৮০ রিটায়ার্ড হার্ট, কোহলি ৫, শ্রেয়াস ৩৫, ওয়াশিংটন ৫২*, রাহুল ১, আকসার ৫৭*; আর্চার ১০-০-৬৮-১, টাং ১০-০-৫০-১, কারান ১০-০-৫৫-১, রাশিদ ৫.২-০-৩৪-০, বেথেল ১-০১-০-০, ডসন ২-০-১০-০, জ্যাকস ৭-০-৪৩-০)
ফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ভারত ১-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: আকসার প্যাটেল