Published : 10 Jul 2026, 03:18 AM
আগের ম্যাচে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়া দলের ব্যাটিংয়ে একটু উন্নতি হলো বটে, যদিও লড়লেন কেবল শ্রেয়াস আইয়ার। অধিনায়কের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে দেড়শ ছোঁয়া পুঁজি পেল ভারত। কিন্তু বোলিংয়ে ন্যূনতম লড়াইও করতে পারল না তারা। আরেকটি বড় জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতে নিল ইংল্যান্ড।
ব্রিস্টলে বৃহস্পতিবার চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের জয় ৯ উইকেটে।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে গেল ৩-০ ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়।
এই প্রথম ভারতের বিপক্ষে দুই বা এর বেশি ম্যাচের কোনো দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড। এমন আগের ছয়টি সিরিজের মধ্যে ভারত জিতেছিল পাঁচটিতে, অন্যটি ড্র হয়েছিল।
ট্রেন্ট ব্রিজে ৭৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া ভারত এবার ২০ ওভারে করে ১৫৮ রান। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও ফিল সল্টের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস ও ৭০ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৪৬ রানের জুটিতে ৩৭ বল হাতে রেখেই জিতে যায় ইংল্যান্ড।
আট চার ও চার ছক্কায় ৩৫ বলে ৭৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ ব্রুক। ৯ চার ও এক ছক্কায় ৪২ বলে ৫৯ রান করেন ওপেনার সল্ট।
ভারতের অর্ধেক রান একাই করেন শ্রেয়াস। পাঁচ ছক্কা ও চারটি চারে ৪৯ বলে ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।
ভারতের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর ফল হওয়া পাঁচ ম্যাচেই হারলেন শ্রেয়াস। তার নেতৃত্বের অভিষেক সিরিজে কিছুদিন আগে আয়ারল্যান্ড সফরে অভাবনীয়ভাবে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশড হয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
টানা ১৬টি টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত থাকার পর টানা দুটি হারল ভারত। এই সংস্করণে সবশেষ টানা দুটি সিরিজ হেরেছিল তারা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে (নিউ জিল্যান্ডে ২-১ ব্যবধানে, এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে)।
টানা ষষ্ঠ ম্যাচে টস জয়ের স্বাদ পান শ্রেয়াস, বেছে নেন তিনি ব্যাটিং। ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কদের মধ্যে তার চেয়ে টানা বেশি ম্যাচে টস জিতেছেন কেবল মাহেন্দ্র সিং ধোনি (সাত)।
দ্বিতীয় ওভারে জশ টাংকে পরপর চার ও ছক্কা মারেন বৈভাব সুরিয়াভানশি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সিরিজে আরও একবার অল্পেই থেমে যান ভারতের বিস্ময়-বালক। তৃতীয় ওভারে জফ্রা আর্চারের শর্ট বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন তিনি।
তিন ম্যাচে ১৫ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করলেন ১৪, ১৩ ও ১৫।
পঞ্চম ওভারে টাংয়ের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইশান কিষান। সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসেই আভিশেক শার্মাকে ফেরান লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ।
৪৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। সেখান থেকে ইনিংসের একমাত্র পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি পায় সফরকারীরা। তবে ৫৩ রানের জুটিতে শ্রেয়াস ও শিভাম দুবে বল খেলে ফেলেন ৪৩টি।
২৩ বলে ২২ রান করে ফেরেন দুবে। ৩৩ বলে ফিফটি করে এগিয়ে যান শ্রেয়াস। তিলাক ভার্মা একটি ছক্কা মেরে বিদায় নেন দ্রুতই।
১৮তম ওভারের শেষ তিন বলে রাশিদকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন শ্রেয়াস। কিন্তু বিস্ময়করভাবে শেষ দুই ওভারে একটি বাউন্ডারিও আসেনি!
শেষ ওভারে স্রেফ ৪ রান দিয়ে ওয়াশিংটন সুন্দারের উইকেট নেন আর্চার, একই সঙ্গে রান আউট হন আকসার প্যাটেল।
আঁটসাঁট বোলিংয়ে চার ওভারে ২০ রানে আর্চার নেন ২ উইকেট। টাং ২ উইকেট নেন ৩৬ রান দিয়ে।
লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো ছিল না। একটি ছক্কা মেরে তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন জস বাটলার।
সল্ট প্রথম ৯ বলে কোনো রান করতে পারেননি। তবে পরের চার বলে তিনটি বাউন্ডারির দেখা পান তিনি।
ব্রুক দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরে শুরু করেন। অষ্টম ওভারে ওয়াশিংটনের টানা চার বলে দুটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান ইংলিশ অধিনায়ক। আকসারকে পরপর চার ও ছক্কা মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি স্রেফ ২১ বলে। সল্টের পঞ্চাশ ছুঁতে লাগে ৩৪ বল।
দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
আগামী শনিবার সাউথ্যাম্পটনে হবে পঞ্চম ম্যাচ। শেষ ম্যাচ জিতলে ভারতকে হটিয়ে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠবে ইংল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৫৮/৭ (সুরিয়াভানশি ১৫, আভিশেক ১৬, কিষান ৪, শ্রেয়াস ৮০*, দুবে ২২, তিলাক ১১, ওয়াশিংটন ৫, আকসার ১; আর্চার ৪-০-২০-২, টাং ৪-০-৩৬-২, জ্যাকস ৪-০-২৮-১, কারান ৪-০-২৪-০, রাশিদ ৪-০-৪৯-১)
ইংল্যান্ড: ১৩.৫ ওভারে ১৫৯/১ (সল্ট ৫৯, বাটলার ৮, ব্রুক ৭৯*; আর্শদিপ ৩.৫-১-৪১-১, প্রাসিধ ৩-০-২৬-০, প্রিন্স ৩-০-২৮-০, আকসার ২-০-২৪-০, ওয়াশিংটন ১-০-১৯-০, দুবে ১-০-১৫-০)
ফল: ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ৩-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: হ্যারি ব্রুক