১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শফিকের সেঞ্চুরিতে ‘পাহাড় টপকানোর’ আশায় পাকিস্তান

গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে কখনও দুইশর বেশি রান তাড়া করে টেস্ট জিততে পারেনি কোনো সফরকারী দল। সেখানে এবার জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে প্রায় সাড়ে তিনশ রান। আবদুল্লাহ শফিকের সেঞ্চুরিতে সেই পথে ভালোভাবেই আছে দলটি। শেষ বেলায় বাবর আজমের উইকেট নিয়ে অবশ্য আশা বাঁচিয়ে রেখেছে শ্রীলঙ্কাও। চতুর্থ দিন শেষে রোমাঞ্চকর এক মোড়ে দাঁড়িয়ে ম্যাচ।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jul 2022, 07:25 PM

Updated : 25 Oct 2022, 10:58 AM

Image
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির পর আবদুল্লাহ শফিক। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট
Image
তৃতীয় উইকেটে ১০১ রানের জুটি উপহার দেন আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট

সিরিজের প্রথম টেস্টে জয়ের জন্য শেষ দিনে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে পাকিস্তানের দরকার আর ১২০ রান। ৩৪২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মঙ্গলবার দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২২২ রান।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ২৮৯ বলে ১১২ রানে খেলছেন ওপেনার শফিক। উইকেটে তার সঙ্গী কিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান।

উইকেট থেকে স্পিনারদের জন্য মিলছে টার্ন, উড়ছে ধুলো। শ্রীলঙ্কা আরেকটি উইকেট নিতে পারলে উন্মুক্ত হয়ে যাবে পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ মিডল অর্ডার, যেখানে আছে একজন অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান।

গলে সর্বোচ্চ ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কা ২০১৯ সালে জিতেছিল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। আর সফরকারী দল হিসেবে সর্বোচ্চ ১৬৪ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ইংল্যান্ডের, ২০২১ সালে। একশর বেশি রান তাড়ায় জয় নেই আর কারও।

তিনশর বেশি রান তাড়ায় পাকিস্তানের জয় আছে সব মিলিয়ে তিনটি। যার দুটিই অবশ্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

৯ উইকেটে ৩২৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস থমকে যায় ৩৩৭ রানে। প্রথম ইনিংসে তারা এগিয়ে ছিল ৪ রানে।

৬ রানের জন্য দিনেশ চান্দিমাল পাননি সেঞ্চুরি। ৮৬ রানে দিন শুরু করে তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৪ রানে। ১৩৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় গড়া তার ইনিংসটি।

রান তাড়ায় পাকিস্তান উইকেট হারাতে পারত শুরুতেই। ইমাম-উল-হকের ক্যাচ নিতে পারেননি চান্দিমাল। তখন ৩ রানে খেলছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

জমে যায় দুই ওপেনারের জুটি। ৮৭ রানের জুটি ভাঙে ইমামের (৩৫) বিদায়েই। অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিসের বল ছেড়ে দেওয়ার পর পা শূন্যতে রেখেছিলেন ব্যাটসম্যান আর ক্ষিপ্রতায় বেলস ফেলে দেন কিপার নিরোশান ডিকভেলা। অনেকবার রিপ্লে দেখে স্টাম্পিংয়ের সিদ্ধান্ত জানান তৃতীয় আম্পায়ার।

তিনে নেমে আজহার আলি আউট হন ৩২ বলে ৬ রান করে। বাঁহাতি স্পিনার প্রবাথ জয়াসুরিয়ার অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করে স্লিপে ধরা পড়েন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক।

Image
তৃতীয় উইকেটে ১০১ রানের জুটি উপহার দেন আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট

তৃতীয় উইকেটে ১০১ রানের জুটি উপহার দেন আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট

বর্তমান অধিনায়ক বাবরের সঙ্গে এরপর জমে ওঠে শফিকের জুটি। শফিক ফিফটি পূর্ণ করেন ৯৪ বলে। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান বাবরের পঞ্চাশে যেতে লাগে ৮৯ বল। তিনি স্পর্শ করেন ৩ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকও।

শফিক সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ২৩৮ বলে। দুই ব্যাটসম্যানই দিনের খেলা শেষ করবেন বলে মনে হচ্ছিল যখন, তখনই জয়াসুরিয়ার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বাবরের বিদায়ে ভাঙে ২৩৮ বল স্থায়ী ১০১ রানের জুটি।

লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরে পড়া বল ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবর। বল অনেকটা টার্ন করে ব্যাটসম্যানের শরীরের পেছন দিয়ে ভেঙে দেয় স্টাম্প। হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ১০৪ বলে ৫৫ রান করা বাবর।

রিজওয়ানকে (৭*) নিয়ে দিনের বাকিটায় কোনো বিপদ হতে দেননি শফিক। ১৭ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন আছেন তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ২২২

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২১৮

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ১০০ ওভারে ৩৩৭ (আগের দিন ৩২৯/৯) (চান্দিমাল ৯৪*, জয়াসুরিয়া ৪; আফ্রিদি ৭-২-২১-০, নওয়াজ ২৮-২-৮৮-৫, সালমান ১৬-১-৫৩-০, ইয়াসির ২৯-২-১২২-৩, হাসান ১২-৩-১৯-১, বাবর ১-০-৯-০, নাসিম ৭-০-২৪-১)

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৪২) ৮৫ ওভারে ২২২/৩ (শফিক ১১২*, ইমাম ৩৫, আজহার ৬, বাবর ৫৫, রিজওয়ান ৭*; রাজিথা ৯-২-১৮-০, জয়াসুরিয়া ৩৫-৬-৮৯-২, মেন্ডিস ২৬-০-৭৬-১, থিকশানা ১১-২-২৯-০, ধনাঞ্জয়া ৪-১-৩-০)