‘বিদায় বেলায় সম্মান পাবে না’, মালিককে আগেই বলেছিলেন হাফিজ

হাফিজ নিজে অবসর নেওয়ার সময় শোয়েব মালিককেও অনুরোধ করেছিলেন অবসর নিতে।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 07:33 AM
Updated : 19 Sept 2022, 07:33 AM

যে আক্ষেপ আর চাপা ক্ষোভের অনলে এখন পুড়ছেন শোয়েব মালিক, সেটি নিয়ে তাকে আগেই সতর্ক করেছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। এই অলরাউন্ডার নিজে অবসর নেওয়ার সময় মালিককেও অনুরোধ করেছিলেন অবসর নিতে। কারণ তিনি জানতেন, পাকিস্তান ক্রিকেটে শেষ বেলায় প্রাপ্য সম্মানটুকু মেলে না বেশির ভাগ সময়ই।

গত নভেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পর থেকে পাকিস্তান দলে আর সুযোগ পাননি মালিক। সম্প্রতি ঘোষিত পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি তার। তাতে মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায় তার।

কদিন আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তান হারার পর মালিকের একটি টু্ইট তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। ‘বন্ধুত্ব, পছন্দ ও অপছন্দের’ ভিত্তিতে পাকিস্তান দলে সুযোগ মেলে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে মিডল অর্ডারের দুর্বলতা নিয়ে আলোচনাও চলে আসছে অনেক দিন ধরে। সেখানে মালিককে ফেরানোর কথা বারবার আলোচিত হলেও তা হয়নি।

ক্রিকেট পাকিস্তানের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে হাফিজ বললেন, মালিকের মতো একজন ক্রিকেটারের আরও সম্মান প্রাপ্য।

“শোয়েব মালিক ২১-২২ বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটকে দারুণ সার্ভিস দিয়েছে। কোনো দলের জন্যই এ বছর ধরে খেলে যাওয়া, ফিটনেস ধরে রাখা, এসব সাধারণ কোনো ব্যাপার নয়। তাই তার যত প্রশংসা করাই হোক না কেন, তা কম হবে।”

তবে এখন যা হচ্ছে, তাতে মোটেও অবাক হননি হাফিজ। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি আগে সাবধান করেছিলেন মালিককে।

“মালিক আমার সিনিয়র হলেও বন্ধুও। ভাইয়র মতো সম্পর্ক আমাদের। আমি অবসর নেওয়ার সময় তাকেও বলেছিলাম অবসর নিতে। কারণ আমি জানতাম, সে সম্মান পাবে না, আমার ক্ষেত্রেও যা ছিল স্পষ্ট। আমি যতটা বুঝি, সে শেষবারের মতো একটা সুযোগ চাচ্ছিল। কিন্তু আমাদের এখানে এরকমই হয়।”

মালিকের ওয়ানডে থেকে বিদায়ের প্রসঙ্গও এখানে তুলে আনলেন হাফিজ। ২০১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে এই সংস্করণ থেকে বিদায়ের ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন মালিক। কিন্তু টানা চার ম্যাচে পারফর্ম করতে না পারায় শেষ ম্যাচে আর সুযোগ দেওয়া হয়নি তাকে। সেটা নিয়ে এতদিন পর আবার আক্ষেপ করলেন হাফিজ।

“দুর্ভাগ্যজনভাবে, ওয়ানডে থেকে অবসরের সময়ও তাকে বিদায়ী ম্যাচ দেওয়া হয়নি। ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল লর্ডসে। আমাদের কোয়ালিফাই করার কোনো সম্ভাবনা ছিল না, কোনো গুরুত্ব ছিল না ম্যাচের। দেশের প্রতি তার সার্ভিসের কথা বিবেচনা করে তাকে বিদায়ী ম্যাচটি খেলানো উচিত ছিল। আমি তখন অনেক বলেছিলাম। কিন্তু তখনকার ম্যানেজমেন্ট তা করেনি।”

৪০ বছর বয়সী মালিক পাকিস্তানের চলতি ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে এখনও পর্যন্ত ৯ ইনিংসে ২০৪ রান করেছেন ১৪০.৬৮ স্ট্রাইক রেটে। হাফিজের মতে, অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে সুযোগ দিলে দলেরই লাভ হতো। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে মালিকের স্কিলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনাও তিনি উড়িয়ে দিলেন।

“তাকে বিশ্বকাপে রাখা হলে দুই পক্ষের জন্যই সেটা হতো জয়। সে মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারত। আমরাও একজন সিনিয়র ক্রিকেটার পেতাম, যে অভিজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেক কিছু জানে। সে কাট খেলতে পারে না বা পুল করতে পারে না, এসব ভাবা অবান্তর। ২২ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে, কাট-পুল করতে পারে না সে?”

“তিন সংস্করণে সে যেখানেই খেলেছে, রান করেছে। আমাদের এখানে এভাবেই ভাবা হয়, যাকে বাদ দেওয়া হয়, তার সম্পর্কে এভাবেই বলা হয়। অথচ দলে একজন প্রপার ব্যাটসম্যান প্রয়োজন আমাদের, যাতে ‘উইনিং কম্বিনেশন’ গড়ে ওঠে। তার বয়স ৪০ হোক বা ২০।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক