১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটের চার দিন পর ওয়ানডেতে রাশিদের ৬ উইকেট

ওয়ানডেতে একটি রেকর্ডের তালিকায় গ্লেন ম্যাকগ্রার পাশে বসলেন আফগান তারকা।

টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটের চার দিন পর ওয়ানডেতে রাশিদের ৬ উইকেট
সংস্করণ বদল হলেও রাশিদ খানের বোলিংয়ের ধার রয়ে গেল একইরকম। ছবি: আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 01:32 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

রাশিদ খানের গুগলি বুঝতেই পারলেন না এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান বায়রন ম্যাকডোনাফ। বলটি স্পিন করে ভেতরে ঢুকে আঘাত হানল মিডল ও লেগ স্টাম্পে। এক বল আগেই পূর্ণ হয়ে যায় আফগান তারকার পাঁচ উইকেট। ম্যাচ শেষ করে দিলেন তিনি আরেকটি উইকেট নিয়ে।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুক্রবার ৭.৪ ওভারে ৩৪ রানে ৬ উইকেট নেন রাশিদ। তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং এটি। ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৮ রানে ৭ উইকেট এই লেগ স্পিনারের সেরা বোলিং। 

গত রোববার ওভালে দা হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে এমআই লন্ডনের হয়ে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ২০ বল করে ১৭ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন রাশিদ। সাড়ে চার বছর আর ২৪৬ ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টিতে তার ৫ উইকেট ছিল সেটি। ১০০ বলের ক্রিকেট আসর হলেও দা হান্ড্রেডকে আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে টি-টোয়েন্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চার দিন পর সংস্করণ বদলে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে তিনি নিলেন ৬ উইকেট।

ওয়ানডেতে এই নিয়ে মোট তিনবার ৬ বা এর বেশি উইকেট নিলেন রাশিদ। তার চেয়ে বেশিবার এই নজির আছে শুধু পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিসের (ছয় বার)। 

এই সংস্করণে সব মিলিয়ে ১১৩ ইনিংসে রাশিদ ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন মোট সাত বার। সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডের তালিকায় এখন গ্লেন ম্যাকগ্রার সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচে আছেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট সাত বার ৫ উইকেট নেন ২৪৮ ইনিংসে।

লাসিথ মালিঙ্গা এই স্বাদ পেয়েছেন আট বার, শাহিদ আফ্রিদি, ব্রেট লি ও মিচেল স্টার্ক ৯ বার করে। মুত্তাইয়া মুরালিদারান পেয়েছেন ১০ বার। ১৩ বার ৫ উইকেট শিকার করে চূড়ায় ওয়াকার ইউনিস।

ব্রেডিতে রাশিদের অসাধারণ বোলিংয়ের দিনে বড় জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। ২৯৯ রানের পুঁজি গড়ে ৯২ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে তারা। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল।

আফগানদের তিনশ ছোঁয়া পুঁজি এনে দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন ইব্রাহিম জাদরান। আট চার ও দুই ছক্কায় ৯৭ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। 

তবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন রাশিদই। 

ইনিংসের পঞ্চদশ আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে অ্যান্ডি বালবার্নিকে ফিরিয়ে শিকার ধরা শুরু করেন রাশিদ। পরের ওভারে তিনি বিদায় করেন হ্যারি টেক্টরকে। 

প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ২৩ রানে তার শিকার ছিল ওই দুটি উইকেট।

৩০তম ওভারে বোলিংয়ে ফেরানো তাকে। আইরিশদের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ১৯৩। এবার প্রথম দুই ওভারে বেন কালিৎজ ও কার্টিস ক্যাম্ফারকে বোল্ড করে দেন তিনি। পরের ওভারে জেয় মুন্ড্রাকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট, এক বল পর ম্যাকডোনাফের উইকেট নিয়ে খেলা শেষ করে দেন ২৭ বছর বয়সী তারকা।

৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।