Published : 21 Aug 2026, 01:52 AM
আউট হতে পারতেন এক রানে। শুরুতে জীবন পেয়ে সেঞ্চুরির পথে ছুটছিলেন হ্যারি ব্রুক। কিন্তু পারলেন না তিনি অল্পের জন্য। ঘরের মাঠে টেস্টে আরও একবার নব্বইয়ের ঘরে কাটা পড়লেন ইংল্যান্ডের সহ-অধিনায়ক।
দিনটা ব্রুকের জন্য আক্ষেপের হলেও, তার দলের ভালোই কেটেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড।
প্রথম দিন পাকিস্তানকে ১৭১ রানে গুটিয়ে দেওয়া ইংল্যান্ড দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ৩৬৬ রানে। লিড ১৯৫ রানের।
বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার খেলা হতে পারে কেবল দুই সেশন। ১৩ চারে ৯৩ বলে ৯১ রান করেন ব্রুক।
ইয়র্কশায়ারের সন্তান ব্রুক ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন এই কাউন্টির হয়েই, যাদের ঘরের মাঠ লিডসের হেডিংলি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। গত বছর এখানে ভারতের বিপক্ষে ৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি।
ইংল্যান্ডের হয়ে ব্রুকের পাশাপাশি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন অধিনায়ক জো রুট (১১২ বলে ৬৬), জর্ডান কক্স (১০০ বলে ৭৩) ও ড্যান লরেন্স (৭৯ বলে ৫১)।
পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমান নেন ৫ উইকেট। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথমবার এই স্বাদ পেলেন তিনি। শেষ সেশনে পতন হওয়া চারটি উইকেটই তার।
দিনের প্রথম সেশন ভেসে যায় বৃষ্টিতে। মেঘলা আকাশের নিচে খেলা শুরুর পর, সহায়ক উইকেটের সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তানের পেসাররা। তাদের মূল স্ট্রাইক বোলার মোহাম্মাদ আব্বাস ছিলেন একেবারেই ছন্নছাড়া। খুররাম শাহজাদ ও মোহাম্মাদ আলিও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি।
সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান রুট ও কক্স। প্রথম দিন ৩৭ রানে অপরাজিত রুট ৬৮তম ফিফটি করেন ৯৫ বলে। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ডে ভারতীয় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকারের পাশে বসলেন ইংল্যান্ডের সফলতম ব্যাটসম্যান।
২৩ রান নিয়ে শুরু করা কক্স পঞ্চাশে পা রাখেন ৭৮ বলে। দুজনই মাইলফলক স্পর্শ করেন চার মেরে, ভিন্ন দুই ওভারে পরপর দুই বলে।
আক্রমণে ফিরে প্রথম বলে কক্সের উইকেট পেতে পারতেন শাহজাদ, কিন্তু স্লিপে ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন সালমান আলি আগা। ৫৭ রানে জীবন পেয়ে, পরের চার বলে তিনটি বাউন্ডারি মারেন কক্স।
খানিক পর দুই ব্যাটসম্যানই বিদায় নেন পরপর দুই ওভারে। উসমানের বলে ব্যাটের কানায় লেগে কিপারের হাতে ধরা পড়েন কক্স।
শাহজাদের ইনসুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ হন রুট। কক্সের মতো তিনিও নষ্ট করেন রিভিউ। ধারাভাষ্যে মাইকেল আথারটন বলেন, “ইংল্যান্ড অধিনায়কের একটি বাজে রিভিউ।”
এই দুজনের জুটিতে আসে ২০৭ বলে ১৫০ রান।
শাহজাদের পরের ওভারে ব্রুকের উইকেটও পেতে পারত পাকিস্তান, কিন্তু অধিনায়ক সালমান আরেকবার ক্যাচ ফেলেন স্লিপে।
জীবন পেয়ে ব্রুক শতরানের জুটি গড়ে তোলেন লরেন্সের সঙ্গে। তাদের ব্যাটে বাউন্ডারি আসতে থাকে প্রায় প্রতি ওভারে। দলের রান ছাড়ায় তিনশ।
৭৬ বলে ফিফটি করার পর বিদায় নেন লরেন্স। উসমানকে সুইপ করতে গিয়ে বাড়তি বাউন্সের কারণে বল তার ব্যাটে লেগে উপরে উঠে যায়।
এই জুটি থামে ১২০ রানে।
ব্রুক সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে বোল্ড হন উসমানের বলে। ৩৩ বছর বয়সী স্পিনার পরে টানা দুই বলে গাস অ্যাটকিনসন ও অলি রবিনসনকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।
জফ্রা আর্চারকে নিয়ে দিনের বাকিটুকু কাটিয়ে দেন কিপার ব্যাটসম্যান জেমি স্মিথ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৭১
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৮২ ওভারে ৩৬৬/৮ (আগের দিন ১১২/২ (কক্স ৭৩, রুট ৬৬, ব্রুক ৯১, লরেন্স ৫১, স্মিথ ১৬*, অ্যাটকিনসন ৩, রবিনসন ০, আর্চার ০*; আব্বাস ২১-৫-৬১-১, শাহজাদ ১৯-১-১১১-১, আলি ১৯-২-৮৯-১, উসমান ২৩-১-৯২-৫)